সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শিলিগুড়ি : অবিরাম বর্ষণের জেরে দার্জিলিং (Darjeeling) পাহাড়ে তৈরি হয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ধস নেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কোথাও রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ, কোথাও আবার জল জমে চলাচলে চরম অসুবিধা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমেছে, একই সঙ্গে বাসিন্দা ও পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেশক রোড (Peshok Road), পাংখাবাড়ি রোড (Pankhabari Road) এবং তিস্তা বাজার (Teesta Bazar) সংলগ্ন রাস্তা। এই সব সড়কে ধস নামার ফলে বহু জায়গায় যান চলাচল সম্পূর্ণ থমকে যায়। পাহাড়ি মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে, ফলে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে পাংখাবাড়ি রোডে একাধিক জায়গায় ধস নামায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তিস্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢালের নড়বড়ে অবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়েছে, ফলে যেকোনও সময় নতুন করে ধস নামতে পারে।’ তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। পেশক রোডে ধস নামার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রাস্তার উপর জমে থাকা মাটি ও পাথর সরানো হয়েছে। তার ফলে ওই রাস্তায় যান চলাচল ফের চালু করা গেছে। প্রশাসনের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিক্কর (Harishankar Panikkar) জানিয়েছেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তাঁর কথায়, ‘পাহাড়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নজরদারি চলছে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যেসব এলাকায় ধসের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
জাতীয় সড়ক NH-1 ও NH-10 -এ যান চলাচল সচল রাখা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই দুই সড়ক পাহাড় ও সমতলের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ফলে এই রাস্তাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনও সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ডিস্ট্রিক্ট এমার্জেন্সি কন্ট্রোল সেন্টার (District Emergency Control Center) সক্রিয় রাখা হয়েছে। যে কোনও জরুরি খবর পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একাধিক দফতরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও যন্ত্রপাতিও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন পড়লেই দ্রুত কাজে লাগানো যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও জারি করা হয়েছে সতর্কতা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন এবং পাহাড়ি রাস্তায় বের হওয়ার আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নিন।’ বিশেষ করে রাতে বা ভোরের দিকে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যটন শিল্পও এই পরিস্থিতির প্রভাব অনুভব করছে। অনেক পর্যটক ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল বা স্থগিত করছেন। হোটেল ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন। তবে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ওপরই জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষার সময় ধস নতুন ঘটনা নয়, তবে এবারের বৃষ্টির তীব্রতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। স্থানীয়দের মতে, কিছু এলাকায় মাটি আলগা হয়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ধস নামার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের আশা, আবহাওয়ার উন্নতি হলে ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। ততদিন পর্যন্ত সতর্কতাই প্রধান ভরসা। বাসিন্দা ও পর্যটকদের সহযোগিতার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়। উল্লেখ্য, বর্তমানে দার্জিলিং পাহাড়ে নজর রয়েছে আবহাওয়ার দিকে। বৃষ্টি কমলেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব, তবে ততদিন পর্যন্ত ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Teesta river water level, Darjeeling road closure | তিস্তার ফুলে ওঠা জলে আতঙ্ক, ধসে স্তব্ধ পাহাড়ি যোগাযোগ: দার্জিলিংগামী রাস্তা বন্ধ, পর্যটকদের সতর্কবার্তা




