Hormuz Strait attack Indian crew, Indian missing sailor news | হরমুজ প্রণালীতে হামলা, জাহাজে ছিলেন ১১ ভারতীয়! ১ জন নিখোঁজ, কড়া অবস্থান নতুন দিল্লির

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল হরমুজ (Hormuz)  প্রণালীকে কেন্দ্র করে। রবিবার ভোরে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ওই জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও পর্যন্ত এক জনের খোঁজ মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোর বিবৃতি দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs)। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সিতে (GFS Galaxy) হামলার ঘটনাকে আমরা তীব্রভাবে নিন্দা করছি। জাহাজটিতে ১১ জন ভারতীয় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একজন এখনও নিখোঁজ। ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে।’ একই সঙ্গে ওমান প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে নতুন দিল্লি।

আরও পড়ুন : India Australia sports ties, PM Narendra Modi | এমসিজিতে মোদী-আলবানিজের ক্রীড়া রোডম্যাপ ঘোষণা, চেন্নাইয়ে প্রথম বিদেশি লিগ ম্যাচে নতুন ইতিহাস

ঘটনার পর থেকেই ওই নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিককে খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সমুদ্রপথে উদ্ধারকারী দল কাজ চালাচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকেরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির আপডেট নিচ্ছেন। পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। এই হামলার জেরে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা প্রশ্ন। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি। আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক পথেই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।’ পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌচলাচল বজায় রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর আমেরিকা (United States) সরাসরি ইরান (Iran) -এর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তাদের দাবি, সাইপ্রাসের ওই জাহাজে হামলার নেপথ্যে তেহরানের হাত রয়েছে। হামলার ফলে জাহাজটির ইঞ্জিনরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command) ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে খবর। কিন্তু ইরানের অবস্থান ভিন্ন। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করা হয়েছিল। সেই সময় একটি জাহাজ অনুমোদন ছাড়া ওই জলপথ ব্যবহার করছিল ও সেটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান পুনরায় জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ ওই অঞ্চলে চলাচল করতে পারবে না।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জেরে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একাধিক জায়গায় বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে ওঠার খবর মিলেছে। ফলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ক’য়েক মাস ধরেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল (Israel)-এর যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)- এর মৃত্যু হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি অস্থির হয়ে রয়েছে।

এর মধ্যেই তিন সপ্তাহ আগে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল, যেখানে দুই মাসের সংঘর্ষবিরতির কথা বলা হয়। কিন্তু সেই চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন করে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ক্ষোভ প্রকাশ করে সংঘর্ষবিরতি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেন বলে খবর। যদিও কূটনৈতিক আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) সম্প্রতি ওমান সফর করেন। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং নতুন হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের একটি বড় অংশের জ্বালানি আমদানি হয়। ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা সরাসরি দেশের অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই ভারত দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পক্ষে সওয়াল করেছে। বর্তমানে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিককে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারগুলির দুশ্চিন্তা বাড়লেও প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে উদ্ধার অভিযান চলছে এবং সমস্ত রকম সহায়তা দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Strait of Hormuz India ships 2026, US Iran deal shipping impact | হরমুজে ধীরে ফিরছে গতি! আমেরিকা-ইরান সমঝোতার পর ভারতমুখী ১১ জাহাজ পার, অপেক্ষায় আরও ২৬টি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন