Strait of Hormuz India ships 2026, US Iran deal shipping impact | হরমুজে ধীরে ফিরছে গতি! আমেরিকা-ইরান সমঝোতার পর ভারতমুখী ১১ জাহাজ পার, অপেক্ষায় আরও ২৬টি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। আমেরিকা (United States) ও ইরান (Iran)-এর মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ভারতমুখী জাহাজ চলাচল আবারও গতি পেতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চুক্তির দিন থেকে অন্তত ১১টি জাহাজ নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করে ভারতের দিকে এসেছে। তবে এখনও পারস্য উপসাগরে অপেক্ষা করছে আরও ২৬টি জাহাজ, যেগুলি হরমুজ় পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ় প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহণের বড় অংশই এই পথ দিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে। গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা ও ইরানের সংঘর্ষের কারণে এই পথ কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।

আরও পড়ুন : North East India films MIFF 2026 | উত্তর-পূর্ব ভারতের বহুস্বর এক মঞ্চে, MIFF 2026-এ বিশেষ বিভাগে ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রকৃতির অনন্য চিত্র তুলে ধরছে একগুচ্ছ ছবি

ঘটনার সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আমেরিকা ও ইজ়রায়েল (Israel)-এর যৌথ অভিযানে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)। এই ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা তীব্র আকার নেয়। পরবর্তী সময়ে ১১ মার্চ থেকে হরমুজ় প্রণালীতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে ইরান। সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ এই পথ ব্যবহার করলে তা আক্রমণের মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজের দু’প্রান্তে আটকে পড়ে বহু পণ্যবাহী জাহাজ। তেল, গ্যাস, সার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণে বড় ধাক্কা লাগে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়। যদিও কিছু নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আংশিক ছাড় দেয় ইরান। সেই তালিকায় ছিল ভারতও (India)।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩০টি ভারতমুখী জাহাজ হরমুজ় প্রণালী পার হয়েছে। এর মধ্যে যেমন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে, তেমনই রয়েছে অন্যান্য দেশের জাহাজ, যেগুলি ভারতের জন্য পণ্য বহন করছিল। উল্লেখ্য যে, এই ৩০টি জাহাজের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেই ছিল এলপিজি (LPG) ও প্রাকৃতিক গ্যাস, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তার পর থেকেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করে। সরকারি সূত্রের দাবি, ১ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত মোট ১৯টি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ় পেরিয়েছিল। আর চুক্তির দিন থেকে এখন পর্যন্ত আরও ১১টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ মোট ৩০টি জাহাজ ইতিমধ্যেই ভারতের দিকে এসেছে।

কিন্তু, সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি। এখনও পারস্য উপসাগরে অপেক্ষা করছে ২৬টি জাহাজ। এর মধ্যে তিনটিতে রয়েছে জ্বালানি, ১০টিতে সার ও বাকি ১৩টি জাহাজে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এই জাহাজগুলির নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে তার প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতিতেও। কারণ, ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এই পথের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই জলপথের স্থিতিশীলতা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমঝোতার পর গত কয়েক দিনে হরমুজ়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের আগের মতো পরিস্থিতি আর ফিরবে না। তবে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি ‘টেলিফোন হটলাইন’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই হটলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জাহাজ কর্তৃপক্ষ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে বলে সূত্রের খবর।

বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণ হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের উন্নতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা অনেকটাই বেশি। ফলে হরমুজ়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ভারতের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে পড়ে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক এবং কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ফের শুরু হওয়া ইতিবাচক দিক হলেও, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এখনও সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার উপরই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Varanasi international flight Air India, Narendra Modi aviation | ছোট শহর থেকে সরাসরি বিশ্বমুখী যাত্রা! নতুন ‘হাব-অ্যান্ড-স্পোক’ মডেলে বদলাচ্ছে ভারতের বিমান পরিষেবা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন