সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : অসমের (Assam) অর্থনীতিতে নতুন দিশা দেখাতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিধানসভায় নিজের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়া (Jayanta Malla Baruah)। এই বাজেটে ছোট চা চাষিদের জন্য কর ছাড় বাড়ানো থেকে শুরু করে পাইপের গ্যাসে ভ্যাট কমানো, একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজেট বক্তৃতায় জয়ন্ত মল্ল বরুয়া (Jayanta Malla Baruah) জানান, ‘২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের সম্মিলিত তহবিলের অধীনে মোট প্রাপ্তির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১,৫১,৮৪৩.২৩ কোটি টাকা।’ এর সঙ্গে পাবলিক অ্যাকাউন্টে ১,৩৪,৪৬৬.২২ কোটি টাকা এবং কনটিনজেন্সি ফান্ডে ২,০০০ কোটি টাকা যোগ করলে মোট প্রাপ্তি দাঁড়াচ্ছে ২,৮৮,৩০৯.৪৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, একই অর্থবর্ষে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২,৮৫,০৮৪.৪৫ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী জানান, ‘সমস্ত হিসেব ধরলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শেষে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪১৯.২৬ কোটি টাকা।’ তাঁর কথায়, রাজ্যের জিএসডিপির (GSDP) প্রায় ৩ শতাংশের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প চালু রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হল ছোট চা চাষিদের জন্য বড় কর ছাড়। এতদিন পর্যন্ত কৃষিজ আয়ের উপর ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত ছিল, সেটি বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের হাজার হাজার ক্ষুদ্র চা উৎপাদক উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ‘ক্ষুদ্র চা চাষিদের আর্থিক সুরাহা দিতে এই সীমা চার গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।’ শুধু চা শিল্প নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর দিকেও নজর দিয়েছে সরকার। পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর ভ্যাট ১৪.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জয়ন্ত মল্ল বরুয়া (Jayanta Malla Baruah) বলেন, ‘গৃহস্থালির জ্বালানি খরচ কমানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সিটি গ্যাস পরিষেবা বিস্তারের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
গত কয়েক বছরে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা গেছে বাজেট বক্তৃতায়। অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে যেখানে মাথাপিছু আয় ছিল ৬০,৮১৭ টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮৫,৪২৯ টাকা। তাঁর বক্তব্য, ‘এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে অসমের উন্নয়ন এখন আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে।’ বাজেটে গত পাঁচ বছরে চালু হওয়া সমস্ত বড় প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, চলমান প্রকল্পগুলি অব্যাহত রাখলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
অসমের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি, চা শিল্প এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল। এই প্রেক্ষাপটে ছোট চা চাষীদের জন্য কর ছাড় বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাসের উপর ভ্যাট কমানোয় শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজেট পেশের পর রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একাংশ এই বাজেটকে উন্নয়নমুখী বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সরকার পক্ষের দাবি, আর্থিক ভারসাম্য বজায় রেখেই জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ও ঘোষণাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাজ্য সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব বৃদ্ধি ও ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে, তেমনি অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমানোর দিকেও নজর দিচ্ছে। অসমের এই বাজেট এখন কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং ঘোষিত সুবিধাগুলি কত দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেদিকেই নজর থাকবে আগামী দিনে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Assam Uniform Civil Code bill, live-in registration law India, Himanta Biswa Sarma UCC Assam | একত্রবাসে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে উদ্যোগ, অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক




