সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বারুইপুর : বারুইপুরের (Baruipur) নৃশংস ঘটনার পর রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও তদন্তের অগ্রগতি এবং সাম্প্রতিক এনকাউন্টার ঘিরে নির্যাতিতা বালিকার পরিবারের প্রতিক্রিয়া সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল ঘটনাটি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশের পদক্ষেপ এবং রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তাঁরা ভরসা রাখছেন। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘পুলিশের উপর আমাদের পুরো আস্থা আছে, সরকারের উপরও ভরসা আছে। সিএম যেমন কথা দিয়েছেন আমাদের, সে ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’ এই মন্তব্যে পরিষ্কার, প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার, যখন ওই নাবালিকা হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের তরফে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকা জুড়ে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, তাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় উত্তেজিত জনতা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরে গণধোলাই দেয়, যার জেরে তার মৃত্যু হয়। পরে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তি নির্দোষ ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ। এবং একে একে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে গ্রেফতার হওয়া প্রভাস মণ্ডল (Prabhas Mondal) তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হলে, অভিযোগ অনুযায়ী তিনি তদন্তকারী আধিকারিকের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশ গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই এনকাউন্টার ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠলেও পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। এদিকে, নির্যাতিতার বাবা এই এনকাউন্টার প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থার কথা পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এনকাউন্টারের কথা বলতে পারছি না, কারণ আমি সেখানে ছিলাম না। তবে পুলিশের উপর পুরো ভরসা আছে আমাদের। পুলিশ না থাকলে এত দূর এগোতে পারতাম না।’ তাঁর কথায় উঠে এসেছে বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা, ‘আমরা চাই দোষীদের শাস্তি হোক। এখনও পর্যন্ত চার জন গ্রেফতার হয়েছে। আরও হবে।’
ঘটনার পর রাজনৈতিক স্তরেও নড়াচড়া শুরু হয়। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মঙ্গলবার বারুইপুরের এসপি অফিসে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) জানিয়েছিলেন, গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি নির্দোষ হতে পারেন, এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উস্কে দেয়। তদন্তের অগ্রগতিতে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গেই শেষবার ওই বালিকাকে যেতে দেখা যায়। পরে পুলিশের জেরায় পুকুরের সেই জায়গারও হদিস দেয় সে, যেখানে থেকে দেহ উদ্ধার করা হয়। ফলে তদন্তে প্রভাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদিও এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হওয়ায় তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হারিয়ে গেল কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, প্রভাস মণ্ডলের পরিবারের প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। তাঁর মা জানিয়েছেন, ‘কৃতকর্মের ফল পেয়েছে প্রভাস।’ এমনকি পুলিশের কাছ থেকে তার দেহ গ্রহণ করতেও পরিবার রাজি নয় বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রভাসের মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত হবে। উল্লেখ্য, বারুইপুরের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতারির ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। নির্যাতিতার পরিবারের বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা এখন বিচার প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও দিকই উপেক্ষা করা হবে না। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে উল্লেখ। বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনা সমাজের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেছে, নারী নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ এবং বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা কতটা মজবুত। নির্যাতিতার পরিবারের কথায় এখন সেই আস্থার প্রতিফলনই ফুটে উঠছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Baruipur Encounter West Bengal Police, Rape Murder Case | বারুইপুরে ‘এনকাউন্টার’ বিতর্ক! নাবালিকা ধর্ষণ-খুন মামলার ধৃত প্রভাসের মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য, তদন্তে নতুন প্রশ্ন




