প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউডের তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে (Ananya Panday) আবারও আলোচনায়। তবে এবার কোনও সিনেমা বা ফ্যাশন নয়, তাঁর মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ব্যস্ত শুটিং শিডিউল থাকলেও ঘুমের সঙ্গে কোনও আপস করেন না। এমনকি প্রয়োজনে টানা ১২ ঘণ্টা ঘুম না হলে তাঁর দিন সম্পূর্ণ হয় না বলেও দাবি করেছেন তিনি। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি ভোর ৫টা পর্যন্ত শুটিং চলে ও সকাল ৭টায় জিমে যেতে হয়, তা হলে তিনি কী করবেন? উত্তরে অনন্যা বলেন, ‘ঘুম আমার জন্য খুবই জরুরি। না হলে আমি কাজ করতে পারব না। আমি বরং সকালে উঠে শরীরচর্চা সেরে পরের দিন ভোর পর্যন্ত কাজ করতে পারি, কিন্তু তার পর ১২ ঘণ্টা ঘুম আমার দরকার।’ তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
অনন্যার বক্তব্য অনেকের কাছে অবাক করার মতো হলেও, ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। ঘুমের সময় শরীর শুধুমাত্র বিশ্রাম নেয় না, বরং কোষের পুনর্গঠন, পেশির মেরামতি এবং মস্তিষ্কের পুনরুজ্জীবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার ক্ষেত্রে ঘুমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ কমে যেতে পারে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। অনন্যা পাণ্ডের মতো ১২ ঘণ্টা ঘুম কি সকলের জন্য প্রয়োজনীয়? চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। এই সময়ের মধ্যে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পেয়ে যায়। তবে ব্যক্তিভেদে ঘুমের চাহিদা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
কেউ কেউ স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি সময় ঘুমাতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, আবার কেউ কম সময়েও সতেজ থাকেন। তাই ১২ ঘণ্টা ঘুমকে সাধারণ নিয়ম হিসেবে ধরা যায় না। বরং নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে ঘুমের সময় নির্ধারণ করাই বেশি যুক্তিযুক্ত। ঘুমের পরিমাণের পাশাপাশি ঘুমের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটালেও ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায় বা গভীর ঘুম হয় না। সে ক্ষেত্রে শরীর যথাযথ বিশ্রাম পায় না। ফলে ক্লান্তি থেকে যায়। অন্য দিকে, কম সময় হলেও যদি নিরবচ্ছিন্ন ও গভীর ঘুম হয়, তা হলে শরীর অনেক বেশি সতেজ থাকে।
অনন্যার বক্তব্যে আরও একটি দিক উঠে এসেছে, ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও নিজের শরীরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। বলিউড তারকাদের জীবনযাত্রা অনেক সময়ই অনুরাগীদের নজর কেড়ে নেয়। তাঁদের অভ্যাস অনেকেই অনুসরণ করতে চান। তবে কোনও অভ্যাস গ্রহণ করার আগে সেটি নিজের শরীরের সঙ্গে মানানসই কি না, তা ভেবে দেখা জরুরি। বর্তমান সময়ে কাজের চাপ, মোবাইল ব্যবহার এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম পান না। এর প্রভাব পড়ে শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। তাই ঘুমকে অবহেলা না করে নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনন্যা পাণ্ডের ১২ ঘণ্টা ঘুমের মন্তব্য হয়ত সবার জন্য প্রযোজ্য নয়, কিন্তু তাঁর বক্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—ঘুমের প্রয়োজনীয়তা। কাজ, ব্যস্ততা বা বিনোদনের মাঝে ঘুমকে অবহেলা করলে শরীর তার মূল্য আদায় করে নেয়। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সময় মেনে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো এবং আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তাতে ঘুমের মান উন্নত হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। অনন্যার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক চললেও, একটি বিষয় সামনে এসেছে, স্বাস্থ্য রক্ষায় ঘুমের গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আধুনিক জীবনযাত্রায় যেখানে ঘুম অনেক সময় উপেক্ষিত হয়, সেখানে এই আলোচনা নিঃসন্দেহে প্রাসঙ্গিক।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : FIFA WORD CUP 2022 : ভুল করেছিলাম : সাইমন মার্চিনিয়াক



