OBC bill Bengal, Ritabrata Banerjee controversy | ওবিসি বিল ঘিরে বিধানসভায় নাটক, ঋতব্রত শিবিরে ফাটলের জল্পনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ওবিসি (OBC) সংশোধনী বিল ঘিরে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় যে ছবি ধরা পড়ল, তা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোটাভুটির সময় একদিকে যখন বিরোধী শিবিরের একাংশ ওয়াক-আউটের পথে হাঁটল, অন্যদিকে একই শিবিরের বেশ কয়েকজন বিধায়ক অধিবেশন কক্ষেই থেকে যাওয়ায় জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) -এর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত এই বিধায়কদের আচরণকে ঘিরে ‘অন্তর্দ্বন্দ্ব’-এর ইঙ্গিত খুঁজছেন অনেকেই। বিধানসভায় এদিন পাশ হয় ওবিসি সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৮৬টি, বিপক্ষে ১৭টি, এবং ভোটদান থেকে বিরত থাকেন ৬ জন বিধায়ক। সংখ্যার বিচারে বিল পাশ নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা না থাকলেও, ভোটাভুটির সময় ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনাই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Cabinet Expansion, Suvendu Adhikari Cabinet | লোক ভবনে শপথ শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার, ৩৫ জনের অন্তর্ভুক্তি, কারা পেলেন পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব?

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ভোটাভুটির আগে ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের একটি বড় অংশ ওয়াক-আউটের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী তাঁরা অধিবেশন কক্ষ ছাড়তে শুরু করেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই বিধানসভার দরজা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। ফলে শিউলি সাহা (Shiuli Saha), সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha) -সহ কয়েকজন বিধায়ক বাইরে বেরোতে পারেননি। এই পরিস্থিতি নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। পরে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও নাটকীয়তা কাটেনি। দেখা যায়, দরজা খোলার পরও বেশ কয়েকজন বিধায়ক তাঁদের আসন ছেড়ে বাইরে যাননি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোসারফ হোসেন (Mosaraf Hossain), বাহারুল ইসলাম (Baharul Islam), কাজল শেখ (Kajal Sheikh), বায়রন বিশ্বাস (Byron Biswas), পান্নালাল হালদার (Pannalal Haldar) ও মুরারইয়ের মুসারফ হোসেন (Musaraf Hossain)। এঁরা প্রত্যেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে আরও চাঞ্চল্য তৈরি হয় যখন তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) তাঁদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা বেরোবেন না, আপনারা এটাই ঠিক করেছেন।’ এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এটি কি শুধুই পরিস্থিতিগত জটিলতা, নাকি পরিকল্পিত অবস্থান?

ঘটনার পরপরই দেখা যায়, বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাসরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। এই দৃশ্যও নতুন করে কৌতূহল বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের কালীঘাট শিবিরের নেতারা, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovandeb Chattopadhyay), বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee) নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্ন ঘুরছে। প্রথমত, দরজা বন্ধ থাকার কারণেই কি বিধায়করা বেরোতে পারেননি? দ্বিতীয়ত, দরজা খোলার পরও কেন তাঁরা বাইরে গেলেন না? তৃতীয়ত, এই অবস্থান কি কোনও বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে?

ওবিসি সংশোধনী বিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে সংরক্ষণ কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে একই শিবিরের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ্যে চলে আসায় ভবিষ্যতের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভায় উপস্থিত একাধিক সদস্যের মতে, এই দৃশ্য ছিল ‘নজিরবিহীন’। কারণ সাধারণত ওয়াক-আউটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সব বিধায়কই একযোগে কক্ষ ত্যাগ করেন। কিন্তু এদিন সেই রীতি ভেঙে যায়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ঘটনা কেবল একটি দিনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা কক্ষে থেকে গিয়েছিলেন, তাঁদের অবস্থান এবং পরবর্তী পদক্ষেপের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি।

এই ঘটনার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ওবিসি বিল এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই নাটকীয় পরিস্থিতি। আগামী দিনে এই বিষয়টি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় সকলেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : TMC rebellion latest news, Trinamool Congress split 2026 | ‘তৃণমূলে নজিরবিহীন বিদ্রোহ’! ২৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভাঙন, ৬৪ বিধায়ক নিয়ে আলাদা শিবিরে ঋতব্রত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন