Tamanna Khatun murder Kaliganj, Nadia bomb attack case | তামান্না খাতুন খুনকাণ্ডে জোরদার ধরপাকড়: আরও ৩ গ্রেফতার, মোট গ্রেফতার সংখ্যা ১৯

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ (Kaliganj)-এর মোলান্দি গ্রামে তামান্না খাতুন (Tamanna Khatun) খুনের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়। শুক্রবার আরও তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ, ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯। ধৃতদের কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং তদন্ত এগিয়ে নিতে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন : Strait of Hormuz India ships 2026, US Iran deal shipping impact | হরমুজে ধীরে ফিরছে গতি! আমেরিকা-ইরান সমঝোতার পর ভারতমুখী ১১ জাহাজ পার, অপেক্ষায় আরও ২৬টি

গত বছরের ২৩ জুনের সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা এখনও তাজা স্থানীয়দের মনে। অভিযোগ, কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এলাকায় বিজয় মিছিল চলাকালীন দুষ্কৃতীদের ছোড়া সকেট বোমার আঘাতে প্রাণ হারায় কিশোরী তামান্না। ঘটনার পরই নিহতের মা সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yasmin) কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করলেও, বাকি অভিযুক্তেরা দীর্ঘদিন ধরেই অধরা ছিল। পরিবারের দাবি ছিল, মূল অভিযুক্তদের অনেকেই এখনও ধরা পড়েনি এবং তদন্তে গতি নেই। এই পরিস্থিতিতে মেয়ের খুনিদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর সঙ্গে দেখা করেন সাবিনা ইয়াসমিন। সেই সাক্ষাতের পরই তদন্তে গতি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং তদন্ত দ্রুত এগোবে।’ এই আশ্বাসের অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশি তৎপরতায় পরিবর্তন চোখে পড়ে। আগে হরিয়ানা (Haryana) থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আনা হয়েছিল। এবার আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার অতুল ভি (Atul V) জানিয়েছেন, ‘এখনও পাঁচ জন পলাতক রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। খুব দ্রুত তাদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, তদন্ত এখনও চলমান এবং আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন বিজয় মিছিল চলাকালীন বোমাবাজির ঘটনায় এই মৃত্যু ঘটে। সেই সময় কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল (Trinamool Congress)-এর প্রার্থী আলিফা আহমেদ (Alifa Ahmed)। পরবর্তীতেও তিনি নির্বাচনে জয় পান। এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক। সংঘাত তীব্র আকার নেয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে তুলে ধরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ‘এই ধরনের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান নেবে এবং দোষীদের ছাড়া হবে না।’ বিধানসভা অধিবেশন শেষে নিহতের মায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম (CPM)-এর নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee) এবং বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (Mostafizur Rahman)।

বৈঠক শেষে তাঁরা জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সুবিচারের আশ্বাস পাওয়া গেছে।’ এরপরই পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার হয় এবং নতুন করে গ্রেফতার শুরু হয়। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি। তাঁদের দাবি, শুধু গ্রেফতার নয়, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন কেন তদন্তে গতি ছিল না এবং কী কারণে অভিযুক্তদের অনেকেই পলাতক থাকতে পেরেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তদন্তকারী দল এখন ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করছে। বোমাবাজির পরিকল্পনা, কারা যুক্ত ছিল এবং কীভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, এই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তামান্না খাতুনের পরিবারের কাছে এই লড়াই শুধুই একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। সাবিনা ইয়াসমিন বারবার বলেছেন, ‘আমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড়া যাবে না।’ তাঁর এই লড়াই এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে গ্রেফতার সংখ্যা ১৯ হলেও, তদন্তের পরবর্তী ধাপ আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পলাতকদের গ্রেফতার, চার্জশিট পেশ এবং বিচার প্রক্রিয়া, এই তিনটি ধাপেই নজর রয়েছে প্রশাসনের উপর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক চাপ ও জনমতের প্রভাবও এই মামলার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তামান্না খাতুন -এর ঘটনা এখন শুধু একটি অপরাধমূলক ঘটনা নয়, তা প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই মামলার অগ্রগতি কোন দিকে যায়, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal anti social activities bill 2026, Suvendu Adhikari new law details | ‘গুন্ডাদমনে’ কড়া পথে বাংলা! এক বছর আটক, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত : নতুন আইনে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন