Taratala Warehouse Collapse Kolkata, 3 Dead, Many Trapped, Rescue Ongoing | তারাতলায় গুদাম ধসের মর্মান্তিক ছবি! ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮, ধ্বংসস্তূপে এখনও ১২-১৫ জন আটকে, রাতভর উদ্ধারকাজে সেনা-এনডিআরএফ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার তারাতলা এলাকায় ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার দুপুরে আচমকা কয়েক তলা উঁচু একটি গুদামের ছাদ ভেঙে পড়তেই মুহূর্তে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। সন্ধ্যার মধ্যে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয়, এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে ১২ থেকে ১৫ জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), তিনি বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুদামের লোহার বিম ও কংক্রিটের স্তূপের নিচ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের আর্তনাদ শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেই শব্দই উদ্ধারকারীদের জন্য হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় নির্দেশক। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রথমে স্থানীয় মানুষজন এগিয়ে এলেও দ্রুত পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ (NDRF)। কিছু সময় পর সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari | হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে সম্পত্তি নিলামের হুঁশিয়ারি, বিধানসভায় শুভেন্দুর মন্তব্যে তোলপাড়

উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভেঙে পড়া কাঠামোর জটিলতা। প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকার উপর তৈরি এই গুদামটির ভিতরে কোনও আলাদা দেওয়াল বা কক্ষ ছিল না। ফলে পুরো কাঠামো একসঙ্গে ধসে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। অতিরিক্ত ভার সামলাতে না পেরে লোহার বিমগুলি বিভিন্ন জায়গায় বেঁকে গিয়েছে, কংক্রিটের মোটা স্তর তৈরি করেছে অতিক্রম্য বাধা। উদ্ধারকাজ দ্রুততর করতে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে একাধিক ভারী যন্ত্রপাতি। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে সক্ষম হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে ধ্বংসস্তূপের কিছু অংশ স্থির রাখা হয়েছে, যাতে নতুন করে ধস নামার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি গ্যাস কাটার ব্যবহার করে লোহার বিম কেটে ভিতরে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। প্রথমদিকে উদ্ধারকারীরা গুদামের পিছনের দিক দিয়ে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই পথ সফল হয়নি। পরে হাইড্রলিক মই ব্যবহার করে উপর থেকে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। তাতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় কংক্রিটের পুরু স্তর। তবে কয়েকটি জায়গায় ছিদ্র করে ভিতরে বাতাস পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে আটকে থাকা ব্যক্তিরা কিছুটা হলেও শ্বাস নিতে পারেন।

এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital)-এ ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে পুলিশ স্নিফার ডগ ব্যবহার করছে। অনেক শ্রমিকেরই এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এক মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর মাসি ওই গুদামে কাজ করতেন, কিন্তু ঘটনার পর থেকে তাঁর কোনও সন্ধান মিলছে না। রাতেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে বড় জেনারেটর বসানো হয়েছে, যাতে আলো ও বিদ্যুতের অভাব না হয়। পাশাপাশি একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক। অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), ইন্দ্রনীল খাঁ (Indranil Kha)-সহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কলকাতা পুরসভার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে (Smita Pandey), কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ (Ajay Nanda) এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন। একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর ধরে ওই গুদামে নির্মাণকাজ চলছিল। এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি, যা একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের ভারী স্তর চাপানো হয়েছিল, যা কাঠামোর সহনশীলতার বাইরে চলে যায়। আরও জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে থেকেই কাঠামোতে অস্বাভাবিক নড়াচড়া লক্ষ্য করেছিলেন কিছু শ্রমিক। বিষয়টি পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সময়েই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। এই ঘটনায় নির্মাণ সংক্রান্ত গাফিলতি বা নকশাগত ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তারাতলার এই দুর্ঘটনা শহরের শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকে সামনে এনে দিয়েছে। বহু শ্রমিকের জীবন এখনও ঝুঁকির মধ্যে, পরিবারগুলির চোখে এখন শুধু অপেক্ষা, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রিয়জনেরা ফিরে আসবেন কি না।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kolkata Warehouse Collapse Horror, Investigation on Design or Material Fault | কলকাতা বন্দর এলাকায় ভয়াবহ গুদাম ধস, ‘ভূমিকম্পের মতো’ কম্পনে আতঙ্ক! নকশা না নির্মাণ ত্রুটি, তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন