সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সুন্দরবন: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) পর্যটন ও শিল্প খাতে এক বড়সড় ঘোষণা ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আইটিসি লিমিটেড (ITC Ltd) রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করতে চলেছে। এই বিপুল অঙ্কের প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবন (Sundarbans) থেকে শুরু করে দার্জিলিং (Darjeeling), কার্শিয়াং (Kurseong), হুগলি (Hooghly) এবং পুরুলিয়া (Purulia) বিভিন্ন জেলায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তর থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায় এখন এই উদ্যোগই প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র অনুযায়ী, আইটিসি-র চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরী (Sanjiv Puri) সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। সেই বৈঠকেই রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। আবাসন, পর্যটন, কাগজ শিল্প এবং নবায়নযোগ্য শক্তি, এই চারটি ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সুন্দরবনে একটি বিশ্বমানের হোটেল তৈরির পরিকল্পনা। ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও নদীবেষ্টিত এই অনন্য পরিবেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পর্যটন পরিকাঠামো উন্নত হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
শুধু সুন্দরবন নয়, পাহাড়েও একইভাবে জোর দিচ্ছে সংস্থা। দার্জিলিং (Darjeeling) এবং কার্শিয়াং (Kurseong)-এ নতুন হোটেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে এই অঞ্চলগুলিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন, ফলে উন্নতমানের আবাসনের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। আইটিসি-র এই উদ্যোগ সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্পক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সংস্থাটি। হুগলিতে (Hooghly) একটি নতুন কাগজ উৎপাদন প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পুরুলিয়ায় (Purulia) একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কথাও জানা গিয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এই ঝোঁক রাজ্যের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ। আইটিসি (ITC Ltd) গুগল (Google)-এর সঙ্গে যৌথভাবে রাজারহাট (Rajarhat)-এর আইটিসি গ্রিন সেন্টারে একটি গ্লোবাল এআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্স গড়ে তুলতে চলেছে। এই কেন্দ্র চালু হলে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আইটিসি-র প্রায় ২০টি উৎপাদন ইউনিট এবং ৫টি বিলাসবহুল হোটেল রয়েছে। নতুন চুক্তির ফলে আরও ৭টি হোটেল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সম্প্রসারণ রাজ্যের পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্মাণ পর্যায় থেকে শুরু করে হোটেল পরিচালনা, শিল্প উৎপাদন এবং প্রযুক্তি পরিষেবা, বিভিন্ন স্তরে কাজের সুযোগ বাড়বে।
রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই বিনিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যটন, শিল্প ও প্রযুক্তি এই তিনটি ক্ষেত্রেই একসঙ্গে অগ্রগতি ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুন্দরবনের মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যটন বাড়লেও যাতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট না হয়, সেই দিকেও নজর রাখা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের এই নতুন অধ্যায় রাজ্যের শিল্প ও পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। সুন্দরবনের প্রকৃতি, পাহাড়ের সৌন্দর্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি হতে চলেছে এক নতুন উন্নয়নের ছবি, যার দিকে এখন নজর রাজ্যবাসীর।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kailash Satyarthi: ‘সাহিত্য মানুষের বিবেক জাগায়’ : স্পেনের মঞ্চে ভারতীয় নোবেলজয়ীর আবেগঘন বার্তা ভাইরাল



