সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ডালাস: ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বহুদিন মনে রাখার মতো এক লড়াই উপহার দিল ইংল্যান্ড (England) ও ক্রোয়েশিয়া (Croatia)। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) -এর মঞ্চে ডালাসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ যেন ছিল আবেগ, উত্তেজনা আর নাটকের এক অনন্য মিশ্রণ। ৬ গোলের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড, তবে হারলেও ক্রোয়েশিয়ার লড়াই মন কেড়েছে সবার। বিশেষ করে গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ (Dominik Livakovic)-এর পারফরম্যান্স তাঁকে এই ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুখ করে তুলেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়। ইংল্যান্ডের তরুণ তারকা নোনি মাদুয়েকেকে (Noni Madueke) বক্সের মধ্যে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ (Luka Modric)। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। শট নিতে এগিয়ে আসেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন (Harry Kane)। কিন্তু প্রথম চেষ্টায় তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন লিভাকোভিচ। তবে VAR (Video Assistant Referee) পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শট নেওয়ার আগে গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন কিপার। ফলে পুনরায় পেনাল্টির সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি কেন গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ১-০ ব্যবধানে।
এই গোলের ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে সর্বাধিক গোল করার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন হ্যারি কেন (Harry Kane)। তাঁর এই সাফল্য ইংল্যান্ডকে মানসিকভাবে এগিয়ে দেয়। তবে ক্রোয়েশিয়া দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। ৩৬ মিনিটে মার্টিন বাতুরিনা (Martin Baturina)-র দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরে। ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে সেই গোল ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪২ মিনিটে ডেক্ল্যান রাইস (Declan Rice)-এর কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে নিখুঁত হেডে গোল করেন কেন। এই গোলের ফলে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০-এ পৌঁছে দেন তিনি, ছুঁয়ে ফেলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার (Gary Lineker)-এর রেকর্ড। তবে বিরতির ঠিক আগে আবার চমক দেখায় ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচ (Ivan Perisic)-এর দারুণ ক্রস থেকে দুরন্ত ভলিতে গোল করেন পেতার মুসা (Petar Musa)। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড (Jordan Pickford)-এর কোনও সুযোগই ছিল না সেই শট আটকানোর। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-২ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচের গতি বদলে যায়। ৪৭ মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham)। রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)-এর এই তরুণ তারকা আবারও প্রমাণ করেন কেন তিনি বর্তমান ফুটবলের অন্যতম বড় নাম। তাঁর এই গোল ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেয় এবং ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে চাপ বাড়ায়। এরপর ক্রোয়েশিয়া আক্রমণে উঠলেও ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। মাঝমাঠে কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলে দলটি। তবে গোলপোস্টের নিচে একাই লড়াই চালিয়ে যান লিভাকোভিচ। একের পর এক দুরন্ত সেভ করে তিনি ইংল্যান্ডের ব্যবধান বাড়ানো আটকান। মোট আটটি সেভ করেন তিনি, যার মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধেই চারটি উল্লেখযোগ্য। তাঁর এই পারফরম্যান্স না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। ম্যাচের শেষদিকে আবার ইংল্যান্ড আক্রমণে ঝাঁপায়। ৮৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ড (Marcus Rashford) গোল করে ব্যবধান বাড়ান। বার্সেলোনা (FC Barcelona)-সংযুক্ত এই ফরোয়ার্ডের গোল কার্যত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জয় উদ্যাপনে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড শিবির। তবে হারলেও ক্রোয়েশিয়ার লড়াই প্রশংসা কুড়িয়েছে। সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। তবুও ম্যাচজুড়ে যে লড়াকু মানসিকতা দেখা গিয়েছে, তা সমর্থকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। লিভাকোভিচ (Dominik Livakovic)-এর নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে ম্যাচ শেষে আলোচনায়। শুরুতে পেনাল্টি বাঁচানো থেকে শুরু করে ধারাবাহিক সেভ—সব মিলিয়ে তিনি দলের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন। তবুও দলের পরাজয়ের কারণে তাঁর পারফরম্যান্স কিছুটা আড়ালে চলে গেছে। অনেকের মতে, তিনি এই ম্যাচের ট্র্যাজিক নায়ক। ডালাসের এই ম্যাচ শুধু একটি ফলাফল নয়, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলের আসল সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে রইল। আক্রমণ, প্রতিরোধ, নাটকীয়তা সব কিছু মিলিয়ে ENG vs CRO ম্যাচ ইতিমধ্যেই এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা লড়াই হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana TIME 100, influential sports people 2026 | TIME 100 তালিকায় স্মৃতি মন্ধানা: বিশ্বের প্রভাবশালী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে একমাত্র ভারতীয়




