সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ লখনউ: একদিনের ক্রিকেটে আবারও ব্যাটিং দাপট দেখাল ভারত (India)। আফগানিস্তান (Afghanistan)-এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ৪০২ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তুলল স্বাগতিকরা। এই ইনিংসের কেন্দ্রে ছিলেন শুভমন গিল (Shubman Gill) ও ঈশান কিশন (Ishan Kishan)। দু’জনের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে একসময় ম্যাচ যেন একতরফা হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানো ভারতীয় শিবিরে কিছুটা চিন্তার রেখাও ফেলেছে। টস জিতে আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতুল্লা শাহিদি (Hashmatullah Shahidi) ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান। লখনউয়ের গরমে শুরুটা যদিও ভারতের পক্ষে সুখকর হয়নি। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal) মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে দ্রুত ইনিংস গুছিয়ে নেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও শুভমন গিল।
দ্বিতীয় উইকেটে এই জুটি ৮৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলে। রোহিত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। কিন্তু অর্ধশতরানের কাছাকাছি পৌঁছে রশিদ খানের (Rashid Khan) ঘূর্ণিতে ধরা পড়েন তিনি। ৩৯ বলে ৪৮ রান করে ফিরে যান ভারতীয় অধিনায়ক। এরপর মাঠে নামেন ঈশান কিশন। শুভমনের সঙ্গে তাঁর জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুই তরুণ ব্যাটারের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। ছোটবেলার বন্ধুত্ব যেন মাঠেও প্রতিফলিত হচ্ছিল। দু’জনেই একে অপরকে সমানভাবে সমর্থন করেছেন এবং রান তোলার গতি বাড়িয়েছেন। ঈশান শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। আফগান বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে ৭৯ বলে ১২৫ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার এবং ৭টি ছক্কা। একবার ছন্দ পেয়ে গেলে তাঁকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। বড় শট খেলতে গিয়েই শেষ পর্যন্ত আউট হন তিনি।
অন্যদিকে শুভমন গিল ছিলেন ইনিংসের স্তম্ভ। তিনি ধৈর্য এবং আক্রমণের মিশেলে দুরন্ত ইনিংস খেলেন। ১১০ বলে ১৫৪ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ২২টি চার এবং ২টি ছক্কা। বল বুঝে খেলেছেন, আবার সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি মেরেছেন, এই দুইয়ের সমন্বয়ে তাঁর ইনিংস ছিল অত্যন্ত পরিণত। দুই বন্ধুর ২২৪ রানের জুটি ভারতের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই জুটির সময় আফগানিস্তানের বোলাররা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। মাঠে যেন টি-টোয়েন্টির ছন্দে ব্যাটিং করছিলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। ঈশান আউট হওয়ার সময় মনে হচ্ছিল ভারত সহজেই ৪৫০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। কিন্তু সেখান থেকেই বদলে যায় ছবিটা। মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা প্রত্যাশা মতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি। লোকেশ রাহুল (KL Rahul) প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরেন। শ্রেয়স আয়ার (Shreyas Iyer) ২৬ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
শেষের দিকে ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar), গুরনুর ব্রার (Gurnoor Brar), অর্শদীপ সিংহ (Arshdeep Singh), প্রিন্স যাদব (Prince Yadav) ও কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) কিছু রান যোগ করলেও বড় কোনও জুটি তৈরি হয়নি। ফলে ৫০ ওভার পূর্ণ করার আগেই ৪৯.৫ ওভারে অলআউট হয়ে যায় ভারত। এই ধসই এখন দলের জন্য চিন্তার কারণ। এত বড় ভিত্তি তৈরি হওয়ার পরও শেষ দিকে রান তোলার গতি কমে যাওয়া এবং দ্রুত উইকেট হারানো কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)-এর ভাবনার কারণ হতে পারে।
আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে নাঙ্গেয়ালিয়া খারোতে (Nangeyalia Kharote) সবচেয়ে সফল। তিনি ৭৬ রানে ৪ উইকেট নেন। রশিদ খান ৪৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট পান। মহম্মদ সালিম (Mohammad Salim) ও গজনফার (Ghazanfar) একটি করে উইকেট নেন। ভারতের এই ইনিংস একদিকে যেমন শক্তির প্রমাণ, তেমনই শেষের দুর্বলতা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। একদিনের ক্রিকেটে বড় স্কোর গড়ার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে, তা আবারও প্রমাণিত। কিন্তু ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি, তা না হলে বড় ম্যাচে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। ৪০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। শুরুতেই উইকেট তুলে নিতে পারলে ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে। তবে ব্যাটিংয়ের শেষের ধস নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে আগামী ম্যাচগুলিতে নজর থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana interview | ‘ব্যাটিংই আমার সমাধান’, নিজের খেলায় অহং আছে, স্মৃতি মন্ধানার অকপট স্বীকারোক্তি ঘিরে নতুন আলোচনায় ভারতীয় নারী ক্রিকেট




