TMC Rebels NCPI merger news, TMC split 2026 | তৃণমূল ভেঙে নতুন সমীকরণ! আলাদা ফ্রন্ট নয়, সরাসরি এনসিপিআই-এ মিশলেন বিদ্রোহী সাংসদরা, দিল্লিতে বড় রাজনৈতিক চাল

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -এর অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্বস্তির জেরে অবশেষে দলভাঙনের চিত্র সামনে এল। আলাদা ফ্রন্ট গড়ার পথ না বেছে, সরাসরি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (Nationalist Citizens Party of India বা NCP) -এর সঙ্গে যুক্ত হলেন তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ। এই সিদ্ধান্তে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে দিল্লির অন্দরে, যা ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই তালিকায় রয়েছেন কাকলী ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar), সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay), শতাব্দী রায় (Satabdi Roy), দেব (Dev) এবং সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)-এর মতো পরিচিত নাম। মোট ২০ জন সাংসদ এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা এখন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া-র সদস্য এবং বিজেপি (BJP) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : Anvay Dravid: ‘দ্য ওয়াল’-এর উত্তরসূরি! ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলে সুযোগ পেলেন অনভয় দ্রাবিড়

প্রশ্ন উঠছে, কেন আলাদা শিবির তৈরি না করে অন্য একটি দলে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? রাজনৈতিক মহলে এর উত্তর খোঁজা হচ্ছে আইনি কাঠামোর মধ্যে। লোকসভায় কোনও একটি দলের সাংসদরা আলাদা ফ্রন্ট গড়তে গেলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন একযোগে দলত্যাগী অবস্থান নেওয়ায় সংখ্যার বিচারে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। আইন অনুযায়ী, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দেন, তা হলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তা বৈধ বলে বিবেচিত হতে পারে। সেই হিসাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রবিবার এই রাজনৈতিক নাটকীয়তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দিল্লি। বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) -এর সঙ্গে দেখা করার আগে পরিস্থিতি ঘিরে তৎপর হয়ে ওঠে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের তরফে লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad) এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষকে (Sagarika Ghose) স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়। তাঁদের হাতে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর পক্ষ থেকে লেখা একটি চিঠি। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের সংসদীয় শাখার মধ্যে একাধিক ব্লক থাকতে পারে না। যদি এমন কোনও পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তা হলে তা সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এই যুক্তির মাধ্যমে বিদ্রোহী সাংসদদের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। বরং তারা আলাদা দল গঠনের পথ এড়িয়ে সরাসরি একটি বিদ্যমান দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া, যার ভিত্তি পশ্চিমবঙ্গেই, সেই দলকেই বেছে নেওয়া হয়। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিদ্রোহীরা নতুন রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেছেন।

এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কাকলী ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘আমরা যারা তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলাম, তারা আমাদের ক্ষোভ স্পিকারের কাছে জানিয়েছি। পাশাপাশি আমরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লোকসভায় আলাদা বসার জন্যও আবেদন জানিয়েছি। আমাদের সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি, তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করব।’ এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী। অন্যদিকে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মতে, এটি তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না এলেও, এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলার রাজনীতিতে এর প্রতিফলন কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, জাতীয় স্তরে বিরোধী শক্তির ঐক্যে এই ঘটনা প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এনডিএ-র শক্তিবৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগামী দিনে সংসদের অঙ্কে এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। এই ঘটনাকে অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় রাজনৈতিক মোড় হিসেবে দেখছেন। দলীয় ভাঙন, আইনি কৌশল এবং নতুন জোট পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mahua Moitra leaving TMC, Jagadish Basunia statement TMC | মহুয়া কি মমতার পাশ থেকে সরছেন! বিস্ফোরক মন্তব্যে জল্পনা উসকে দিলেন জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন