Taslima Nasrin Supreme Court opinion, premarital relationship India law || ‘বিয়ের আগে সম্পর্ক মানেই অধঃপতন নয়’ : সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে সায়, সমাজ ভাবনায় নতুন বিতর্ক তুললেন তসলিমা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নে ফের আলোচনার কেন্দ্রে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। বিয়ের আগে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিসূচক সম্পর্ককে ‘নৈতিক অধঃপতন’ হিসেবে দেখা উচিত নয়, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই অবস্থানে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin), বরাবরই সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে খোলামেলা মতামত দেওয়ার জন্য পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় তসলিমা লিখেছেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও আদালত স্বীকার করেছে যে দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিসূচক সম্পর্ককে অপরাধ বা চরিত্রের দোষ হিসেবে দেখা যায় না।’ তাঁর মতে, মানুষের সম্পর্ক বিচার করার ক্ষেত্রে প্রচলিত নৈতিকতার বদলে গুরুত্ব পাওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা এবং সম্মতির মতো বিষয়গুলিকে।

আরও পড়ুন : Argentina World Cup squad, Lionel Messi | মেসির জাদুতেই কী ফের বিশ্বজয়? চাপ, প্রত্যাশা আর নতুন প্রজন্ম নিয়ে শিরোপা রক্ষার অভিযানে আর্জেন্টিনা

এই মন্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আধুনিক সমাজে সম্পর্কের সংজ্ঞা কী হওয়া উচিত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। তসলিমা তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, ‘একটি সম্পর্ক টিকে থাকে ভালবাসা, বন্ধুত্ব ও সম্মানের উপর। শুধু বিয়ের কাগজ কোনও সম্পর্ককে স্থায়ী করতে পারে না।’ তাঁর এই মতামত অনেকের কাছে সাহসী, আবার অনেকের কাছে বিতর্কিত। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে বহু মানুষ বিবাহিত জীবনেও অসন্তুষ্ট থাকেন। আবার এমন উদাহরণও রয়েছে, যেখানে বিয়ে ছাড়াই দীর্ঘদিন একসঙ্গে থেকে সুখী জীবন কাটাচ্ছেন অনেকে। এই প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, ‘মানুষকে সত্যি করে জানতে হলে একসঙ্গে থাকা জরুরি। জীবনের নানা পরিস্থিতিতে একে অপরকে বোঝা ছাড়া বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।’ অর্থাৎ, বিয়ের আগে একসঙ্গে থাকা বা লিভ-ইন সম্পর্ককে তিনি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি আরও একটি বড় প্রশ্ন তুলেছেন, আধুনিক সময়ে বিবাহ প্রতিষ্ঠান কতটা প্রয়োজনীয়? তসলিমার কথায়, ‘এক সময় নারীদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতির জন্য বিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই নারী স্বাধীন। তাই সম্পর্কের স্বীকৃতি দিতে বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আগের মতো নেই।’ তাঁর এই মন্তব্যে সমাজের একাংশ সমর্থন জানালেও, অন্য অংশে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। কিন্তু নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তসলিমা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তিনি কারও ব্যক্তিগত পছন্দের বিরোধিতা করছেন না। তিনি বলেন, ‘যারা বিয়ে করতে চান, তাঁদের সেই স্বাধীনতা থাকা উচিত। আবার যারা বিয়ে ছাড়া সম্পর্ক রাখতে চান, তাঁদেরও সমান অধিকার থাকা দরকার।’ তাঁর মতে, রাষ্ট্রের কাজ মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণও মূলত এই স্বাধীনতার দিকেই ইঙ্গিত করেছে। আদালতের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে অপরাধের চোখে দেখা যায় না। এই অবস্থান আইন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এই প্রসঙ্গে সমাজের প্রতিক্রিয়াও বেশ মিশ্র। একাংশ মনে করছে, এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, যা বাস্তব জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁদের মতে, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতা থাকা জরুরি, এবং সম্পর্কের ধরন নির্ধারণের অধিকার ব্যক্তিরই হওয়া উচিত। অন্যদিকে রক্ষণশীল মানসিকতার মানুষদের মধ্যে উদ্বেগও কম নয়। তাঁদের মতে, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য সমাজের প্রচলিত পারিবারিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় সমাজে যেখানে বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সেখানে এই ধরনের চিন্তাভাবনা নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

কিছু মানুষের দাবি, আইনি স্বীকৃতি অনেক সময় সমাজের মানসিকতার পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। অতীতে নারীর অধিকার, আন্তঃধর্ম বিবাহ বা সমানাধিকারের ক্ষেত্রেও এমন পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ফলে এই ঘটনাও ভবিষ্যতে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। উল্লেখ্য যে, তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) -এর মন্তব্য এবং সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)-এর পর্যবেক্ষণ দুই মিলিয়ে বিষয়টি এখন জনচর্চার কেন্দ্রে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম সামাজিক মূল্যবোধ এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তার রূপ বদলাচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সম্পর্কের সংজ্ঞা আগের তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। সেখানে বিয়ে একমাত্র পথ নয়, বরং একটি বিকল্প মাত্র, এমন ধারণাও ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করছে সমাজের মানসিকতার উপর। এই বিতর্কের মধ্যে একটি বিষয় পরিষ্কার সম্পর্ক, স্বাধীনতা এবং সামাজিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা আগামী দিনেও চলবে। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এবং তসলিমার মতামত সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার 

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন