সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ব্যাঙ্কক : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চর্চার কেন্দ্রে থাইল্যান্ডের (Thailand) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা (Thaksin Shinawatra)। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড ভোগ করলেও, শেষ পর্যন্ত ‘রাজকীয় ক্ষমা’ পেয়ে মুক্তি পেলেন তিনি। এর ফলে তাঁর সাজার অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণভাবে মকুব হয়ে গেল। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা। থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের তরফে এই ক্ষমা প্রদানের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতেই কার্যত সমস্ত আইনি বাধা কাটিয়ে স্বস্তিতে থাকসিন শিনাওয়াত্রা (Thaksin Shinawatra)। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি ইতিমধ্যেই তিন সপ্তাহ আগে কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। তবে সেই মুক্তি ছিল শর্তসাপেক্ষ। এবার রাজকীয় ক্ষমার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজা আর কার্যকর থাকছে না।
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে শিনাওয়াত্রা (Shinawatra) পরিবারের প্রভাব দীর্ঘদিনের। কয়েক দশক ধরে এই পরিবারই দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল। সেই সূত্রেই থাকসিন শিনাওয়াত্রা (Thaksin Shinawatra) একসময় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত হন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবন বারবার বিতর্কে জড়িয়েছে। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ২০২৩ সালে তাঁকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।কিন্তু রায় ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় অন্য পর্ব। আদালতের নির্দেশের দিন থেকেই তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে তাঁর সাজা কমিয়ে ১ বছর করা হয়। যদিও সেই সময়ের মধ্যেও তিনি প্রায় ৬ মাস হাসপাতালেই কাটান। বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্দেশ দেয়, অন্তত ৮ মাস তাঁকে কারাগারে থাকতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে গত ১১ মে ব্যাঙ্ককের ক্লং প্রেম কারাগার (Klong Prem Prison) থেকে তাঁকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সে দিন কারাগারের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁর সমর্থকরা। পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর কন্যা পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রা (Paetongtarn Shinawatra), যিনি নিজেও দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
জেল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে থাকসিন শিনাওয়াত্রা (Thaksin Shinawatra) বলেন, ‘আমি যেন এক দীর্ঘ শীতঘুমে ছিলাম। এখন অতীত নিয়ে ভাবতে চাই না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। প্রথমে সরকার জানায়, তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেই সময় পর্যন্ত তাঁর সাজা বহাল ছিল। কিন্তু রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এখন তাঁর বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজার বাকি অংশ আর কার্যকর নয়। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। শিনাওয়াত্রা (Shinawatra) পরিবারের প্রভাব নতুন করে দৃশ্যমান হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
থাইল্যান্ডে রাজকীয় ক্ষমা কোনও নতুন বিষয় নয়। অতীতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে থাকসিন শিনাওয়াত্রা (Thaksin Shinawatra) -এর মতো বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী নেতার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থাকসিনের মুক্তি দেশের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী নতুন করে সক্রিয় হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের মুখে তুলতে পারে। থাইল্যান্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অধ্যায়ের একটি নতুন মোড় এটি। আবার কেউ বলছেন, আইনের শাসনের প্রশ্নে এই সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে লক্ষ্য রয়েছে, রাজকীয় ক্ষমা পাওয়ার পর থাকসিন শিনাওয়াত্রা (Thaksin Shinawatra) ভবিষ্যতে কী ভূমিকা নেন। তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। যদিও তিনি নিজে এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। থাইল্যান্ডের রাজনীতি বরাবরই জটিল ও নাটকীয়। সেই ধারাবাহিকতায় থাকসিন শিনাওয়াত্রা (Thaksin Shinawatra) -এর এই মুক্তি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi cabinet meeting 2026 | মন্ত্রিসভায় মোদীর তিন দিশা: জ্বালানি সঙ্কটের সতর্কবার্তা, দ্রুত প্রশাসন ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য সামনে



