সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মহাকাশ প্রযুক্তির দৌড়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে ভারত (India) ও দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea)। অত্যাধুনিক নজরদারি ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে দুই দেশের সংস্থা একসঙ্গে তৈরি করতে চলেছে পরবর্তী প্রজন্মের ভেরি লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট। এই প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ এটি ভবিষ্যতের মহাকাশ নজরদারি ব্যবস্থাকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। ভারতের স্টার্টআপ বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেস (Bellatrix Aerospace) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা টেলিপিক্স (TelePIX) সম্প্রতি দেজিয়ন (Daejeon)-এ একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই সংস্থা যৌথভাবে একটি উন্নতমানের VLEO স্যাটেলাইট তৈরি করবে, যার লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে উৎক্ষেপণ। মহাকাশ গবেষণায় এটি ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইটের মূল বৈশিষ্ট্য তার কক্ষপথ। সাধারণত LEO (Low Earth Orbit) স্যাটেলাইট পৃথিবী থেকে তুলনামূলক বেশি উচ্চতায় অবস্থান করে, কিন্তু VLEO স্যাটেলাইট থাকে মাত্র ১৫০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার উচ্চতায়। এই কম উচ্চতার জন্যই এই স্যাটেলাইট অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে সক্ষম হবে। সূত্রের দাবি, ‘পৃথিবীর পৃষ্ঠের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তনও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ধরা সম্ভব হবে।’ প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত দিক থেকে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে চীন (China) ও পাকিস্তান (Pakistan) -এর মতো প্রতিবেশী দেশের গতিবিধির উপর নজর রাখা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা বনাঞ্চলের পরিবর্তনের মতো বিষয় দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।
এই প্রকল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর অভিনব প্রোপালশন বা চালনা ব্যবস্থা। বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেস (Bellatrix Aerospace) তাদের নিজস্ব ‘এয়ার-ব্রিদিং ইলেকট্রিক প্রোপালশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। প্রচলিত স্যাটেলাইটের মতো আলাদা করে ভারী জ্বালানি বহন করতে হবে না। বরং এই প্রযুক্তি বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বস্তর থেকে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে তা সংকুচিত করে এবং সৌরশক্তির সাহায্যে শক্তি উৎপন্ন করে স্যাটেলাইটকে গতিশীল রাখবে। সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘এই পদ্ধতিতে জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে, ফলে স্যাটেলাইটের কার্যক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হবে।’ অন্যদিকে, টেলিপিক্স (TelePIX) এই প্রকল্পে উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি ও ডেটা বিশ্লেষণের দায়িত্বে থাকবে। তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। দুই সংস্থার এই সমন্বয় ভবিষ্যতের স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
এই উদ্যোগ সফল হলে ভারতের মহাকাশ গবেষণায় একটি বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হবে। এটি শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, কৃষি, নগর পরিকল্পনা, আবহাওয়া পূর্বাভাস ও পরিবেশ সংরক্ষণেও কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে জমির অবস্থা, ফসলের স্বাস্থ্য বা জলস্তরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে এই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। মহাকাশ প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে VLEO স্যাটেলাইট একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে উঠে আসছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই এই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ পদক্ষেপ সেই প্রতিযোগিতায় নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
এই প্রকল্প ঘিরে এখন নজর ২০২৮ সালের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎক্ষেপণ সম্ভব হলে, এটি কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন পর্ব হিসেবে চিহ্নিত হবে। মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে আরও কাছ থেকে দেখার এই প্রয়াস ভবিষ্যতের প্রযুক্তির পথকে আরও প্রশস্ত করবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kim Ju Ae successor, North Korea leadership crisis | ১৩ বছরের কন্যাই কী উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী শাসক? ক্ল্যাশ অফ কিম্স-এ সরগরম পিয়ংইয়ং, নজরে বিশ্বরাজনীতি




