সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কোচবিহার: ‘কাঠমানি’ ফেরতের দাবিতে উত্তাল উত্তরবঙ্গ। কোচবিহার (Coochbehar) -এর ১ নম্বর ব্লকের পানি শালার মহিষবাথান এলাকায় সোমবার তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস -এর পঞ্চায়েত সদস্য শংকর রায় (Shankar Ray) ওরফে মনোজিৎ (Manojit)। তাঁর বাড়ির সামনে ঘিরে ধরে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্নায় বসে প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে এলাকায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। সূত্রের খবর, স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলা হচ্ছিল। আবাস যোজনা (Awas Yojana) -এর সুবিধা পেতে হলে অর্থ দিতে হবে, এমন দাবি করে একাধিক পরিবার থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের জমি সংক্রান্ত বিষয় কিংবা স্থানীয় বাজারে স্টল বরাদ্দ, সব ক্ষেত্রেই আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের কথায়, ‘বছরের পর বছর ধরে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন আর চুপ করে থাকার সময় নেই, সব টাকা ফেরত চাই।’
সোমবার সকাল থেকেই গ্রামবাসীরা জড়ো হতে শুরু করেন অভিযুক্ত নেতার বাড়ির সামনে। দুপুরের পর সেই জমায়েত বিক্ষোভে রূপ নেয়। স্লোগান তুলে তাঁরা দাবি করেন, ‘যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।’ অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একজন গ্রামবাসী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার কাছ থেকেও টাকা চাওয়া হয়েছিল। দিতে দেরি হওয়ায় আমাকে বাজারে ডেকে পাঠানো হয়। আমি সময়মতো যেতে না পারলে হুমকি দেওয়া হয়।’ তাঁর দাবি, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, না এলে আমাকে ও আমার বাইক পুড়িয়ে দেওয়া হবে।’ এই অভিযোগ সামনে আসতেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আরও কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, শুধু অর্থ আদায় নয়, এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা প্রশাসনের তরফে এখনও যাচাই করা হয়নি, তবুও ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ (West Bengal Police) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো গেলেও, গ্রামবাসীদের ক্ষোভ কমেনি। তাঁরা জানিয়েছেন, ‘শুধু আশ্বাসে কাজ হবে না, টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় ছিল।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আসতে শুরু করেছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় স্তরে এই ধরনের অভিযোগ উঠছিল, কিন্তু তা গুরুত্ব পায়নি। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি, যা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ছে। অভিযুক্ত শংকর রায়ের পরিবারের তরফে অবশ্য ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে। তাঁর ছেলে জানিয়েছেন, ‘যদি আমার বাবা কোনও ভুল করে থাকেন, তা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি কারও টাকা ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হয়, আমরা তা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ তবে এই বক্তব্যে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, ‘কথা নয়, বাস্তবে টাকা ফেরত চাই।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, এই অভিযোগ নতুন নয়। গত কয়েক মাস ধরেই এলাকায় অসন্তোষ জমছিল। তবে এদিন তা প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হয়। অনেকেই বলছেন, সরকারি প্রকল্পের নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ বারবার উঠলেও, যথাযথ তদন্ত হয়নি বলেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। গ্রামবাসীদের একাংশ দাবি করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে গোটা মহিষবাথান এলাকায় নজর রাখছে প্রশাসন। পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না হয়, সে দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রামবাসীদের অবস্থান স্পষ্ট, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee election allegation | ‘২০ দিন মুখ বুজে সহ্য করেছি’ : ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিশানায় শুভেন্দু অধিকারী




