সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বয়স মাত্র ১৫ বছর ৬৫ দিন। আর সেই বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে এমন এক নজির গড়লেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi), যা আইপিএল (Indian Premier League) -এর ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। ২০২৬ মরশুমে একাধিক পুরস্কার জিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিহারের এই কিশোর ক্রিকেটার। মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP), ইমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন, সুপার স্ট্রাইকার, অরেঞ্জ ক্যাপ এবং সুপার সিক্সেস,,প্রায় সব বড় সম্মানই নিজের ঝুলিতে ভরেছেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তাঁর ব্যাটিং ছিল বিধ্বংসী। ৭৭৬ রান করে মরশুমের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন বৈভব। শুধু রান নয়, তাঁর স্ট্রাইক রেটও নজর কেড়েছে ২৩৭.৩০। টি-২০ ক্রিকেটে এই পরিসংখ্যান বিরল বলেই ধরা হয়। প্রতিপক্ষ বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা বারবার দেখিয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে অরেঞ্জ ক্যাপ জয়ে। আইপিএলের ইতিহাসে এত কম বয়সে এই সম্মান কেউ পাননি আগে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাই সুদর্শন (Sai Sudharsan)-এর দখলে, যিনি ২৩ বছর বয়সে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তারও আগে শুভমন গিল (Shubman Gill) একই ধরনের সাফল্য পেয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সে। সেই তালিকায় এখন একেবারে শীর্ষে উঠে এসেছেন বৈভব। শুধু রান নয়, ছক্কার দিক থেকেও নজির গড়েছেন তিনি। পুরো মরশুমে ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে আইপিএলের অন্যতম আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসা প্রতিটি শট দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে স্টেডিয়াম।
এই মরশুমে একটি শতরান করলেও, আরও তিনবার শতরানের কাছাকাছি গিয়ে থেমে যেতে হয়েছে বৈভব সূর্যবংশীকে। লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants) -এর বিরুদ্ধে ৯৩, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad)-এর বিরুদ্ধে ৯৭ এবং গুজরাট টাইটান্স (Gujarat Titans)-এর বিরুদ্ধে ৯৬ এই ইনিংসগুলি দেখিয়ে দিয়েছে কতটা ধারাবাহিক ছিলেন তিনি। ফলে বিরাট কোহলি (Virat Kohli)-র এক মরশুমে চারটি শতরানের রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তাঁর।
তবে আর একটি বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন বৈভব। আইপিএলে দ্রুততম ১০০০ রান করার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র ৪৪০ বল খেলে এই মাইলফলকে পৌঁছে গিয়েছেন, যা ক্রিকেটমহলে আলোড়ন ফেলেছে। এই কৃতিত্বে তিনি আন্দ্রে রাসেল (Andre Russell)-এর মতো শক্তিশালী ব্যাটারকেও পিছনে ফেলেছেন। ইনিংসের হিসেবে তিনি দ্বিতীয় দ্রুততম, যেখানে শীর্ষে রয়েছেন শন মার্শ (Shaun Marsh)। পুরস্কার নেওয়ার সময় বৈভবের সহজ-সরল কথাবার্তাও নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে, তবে ইন্টারভিউ দিতে একটু চাপ লাগে।’ নিজের প্রস্তুতি নিয়ে বলতে গিয়ে জানান, ‘এখন আর দুধ খাই না। প্রতিটা ম্যাচ একই রকম হয় না। চোট এড়াতে হলে ফিটনেসে আরও মন দিতে হবে।’ দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি, ‘ওরা আমাকে সবসময় সাহায্য করে।’
এই মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্স শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, দলের পারফরম্যান্সেও তার প্রভাব পড়েছে। তরুণ বয়সেই ম্যাচের চাপ সামলানোর দক্ষতা দেখিয়ে ক্রিকেটমহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। এদিকে আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালেও নাটকীয় লড়াই দেখা গিয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) ৬ উইকেটে হারিয়েছে গুজরাট টাইটান্স (Gujarat Titans)-কে। প্রথমে ব্যাট করে গুজরাট ২০ ওভারে ১৫৫/৮ রান তোলে। জবাবে বিরাট কোহলির অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংসে ভর করে দুই ওভার বাকি থাকতেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে আরসিবি। এই জয়ের মাধ্যমে আরসিবি তাদের দ্বিতীয় আইপিএল ট্রফি জিতেছে। পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলা দল মিলিয়ে এটি তাদের চতুর্থ জাতীয় টি-২০ শিরোপা। তবে পুরো মরশুমে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থেকেছে, তা নিঃসন্দেহে বৈভব সূর্যবংশী।
ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের উত্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। এত কম বয়সে এমন ধারাবাহিকতা এবং আত্মবিশ্বাস ভবিষ্যতের জন্য বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তাঁর উপস্থিতি দেখা যাবে, এমন প্রত্যাশা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli IPL Final 2026, RCB Champion News | স্বপ্ন সত্যি হল বিরাটের : কোহলির ব্যাটেই আইপিএল চাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু




