সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের অন্যতম বহুল আলোচিত এডটেক সংস্থা বাইজু’স-কে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বাইজু রবীন্দ্রন (Byju Raveendran)-এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে সিঙ্গাপুরের একটি আদালত ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে এবং আর্থিক জরিমানাও দিতে বলা হয়েছে। এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই ব্যবসায়িক মহল থেকে শিক্ষাক্ষেত্র—সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে বাইজু’সের সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলায় সিঙ্গাপুরের আদালত একাধিক নির্দেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ যথাযথ ভাবে মানা হয়নি বলেই অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত মনে করে যে, নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে এবং সেই কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, ‘নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার প্রতি অসম্মানজনক।’
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, আদালত বাইজু রবীন্দ্রনকে দ্রুত আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ৯০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি, যা নিয়ে আরও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বাইজু রবীন্দ্রনের যাত্রাপথ এক সময়ে ভারতীয় স্টার্টআপ জগতের অনুপ্রেরণার গল্প হিসেবে বিবেচিত হত। ২০০৮-০৯ সালের দিকে তিনি ভিডিয়ো কোচিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষাদানের নতুন পদ্ধতি শুরু করেন। পরবর্তীতে স্ত্রী’র সঙ্গে মিলে একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম দেন ‘বাইজু’স’। অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্থাটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেয় এই উদ্যোগ।
ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বাইজু’স আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের জায়গা করে নেয়। একাধিক বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থা এই স্টার্টআপে অর্থ লগ্নি করে। ফলে সংস্থার মূল্যায়ন দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় এটি দেশের অন্যতম মূল্যবান এডটেক কোম্পানি হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সংস্থার আর্থিক অবস্থার অবনতি সামনে আসতে শুরু করে। প্রকাশ্যে আসে বড় অঙ্কের ক্ষতির তথ্য। জানা যায়, একটি অর্থবর্ষে প্রায় ৪৫৮৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে সংস্থার। সেই সময় থেকেই কর্মীদের বেতন প্রদান, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ পরিশোধ নিয়ে সমস্যা বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। ধীরে ধীরে বাইজু’সের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থা আইনি পথে এগোতে শুরু করে। সেই প্রেক্ষাপটেই সিঙ্গাপুরে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ সামনে আসে।
আইনি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলাটি সংস্থার সম্পত্তি এবং আর্থিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত। আদালত বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও তা কার্যকর না হওয়ায় বিচারপতি কড়া অবস্থান নেন। ফলে বাইজু রবীন্দ্রনের বিরুদ্ধে এই সাজা ঘোষণা করা হয়। এই রায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, একটি সময় যে সংস্থাকে দ্রুত বর্ধনশীল ও সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হত, সেই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে এমন রায় বিনিয়োগের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্য দিকে, শিক্ষা প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও এই ঘটনা বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অনলাইন শিক্ষার বাজারে বাইজু’স যে ভূমিকা নিয়েছিল, তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু আর্থিক সঙ্কট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আইনি জটিলতা মিলিয়ে সংস্থাটি এখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এখন নজর রয়েছে, বাইজু রবীন্দ্রন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন কি না, কিংবা তিনি কী পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি, সংস্থার ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের স্টার্টআপ জগতের জন্য এই ঘটনা এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক সময়ের দ্রুত উত্থান, তার পর আর্থিক সঙ্কট, এবং এখন আইনি জটিলতা, এই ধারাবাহিকতায় বাইজু’স-এর গল্প নতুন মোড় নিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi cabinet meeting 2026 | মন্ত্রিসভায় মোদীর তিন দিশা: জ্বালানি সঙ্কটের সতর্কবার্তা, দ্রুত প্রশাসন ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য সামনে




