Hema Malini Sanjeev Kumar love story | ‘গৃহবধূ হয়ে থাকতে হবে’ : বিয়ের শর্তে ভাঙল সম্পর্ক, ধর্মেন্দ্রর আগেই হেমা মালিনীর জীবনে অন্য কাহিনি

SHARE:

শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই: বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত প্রেমের কাহিনি হেমা মালিনী (Hema Malini) ধর্মেন্দ্র (Dharmendra) -এর সম্পর্ক। তাঁদের রসায়ন, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং পরিণতি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তবে অনেকেরই অজানা, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার আগে হেমা মালিনীর জীবনে এসেছিল আর এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় এক শর্তের কারণে।

হেমা মালিনী ও সঞ্জীব কুমার। ছবি : সংগৃহীত

১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হেমা মালিনী। সেই সময় ধর্মেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর (Prakash Kaur) -এর সঙ্গে বিবাহিত এবং চার সন্তানের বাবা সানি দেওল (Sunny Deol), ববি দেওল (Bobby Deol), বিজেতা দেওল (Vijeta Deol) ও অজিতা দেওল (Ajeita Deol)। এই পরিস্থিতিতেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা বলিউডে বহুদিন ধরে চর্চিত। ধর্মেন্দ্রর আগেই হেমা মালিনীর জীবনে অভিনেতা সঞ্জীব কুমার (Sanjeev Kumar) -এর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে ইন্ডাস্ট্রির নানা সূত্রে শোনা যায়। বিশেষ করে ‘সীতা অউর গীতা’ (Seeta Aur Geeta) ছবির সাফল্যের পর তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়।

জীবনীকার হানিফ জাভেরি (Hanif Zaveri) -এর লেখায় উল্লেখ রয়েছে, সঞ্জীব কুমার নাকি হেমা মালিনীকে বিয়ে করার বিষয়ে গভীর ভাবে আগ্রহী ছিলেন। এমনকি, তিনি অভিনেত্রীর পরিবারের সঙ্গে এই বিষয়ে কথাবার্তাও এগিয়ে নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পক্ষের ভাবনায় পার্থক্য তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। শোনা যায়, সঞ্জীব কুমার চেয়েছিলেন বিয়ের পরে হেমা মালিনী অভিনয় ছেড়ে সম্পূর্ণ ভাবে সংসারে মন দেন। তাঁর ধারণা ছিল, একজন স্ত্রী হিসেবে হেমার প্রধান ভূমিকা হবে পরিবারকে সময় দেওয়া। কিন্তু তখন হেমা মালিনী তাঁর কেরিয়ারের শীর্ষে। একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজস্ব জায়গা তৈরি করেছেন বলিউডে। এই অবস্থায় এমন শর্ত মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। হেমা মালিনী নিজের পরিচয় এবং পেশাগত অবস্থানকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘নিজের পরিচয় বিসর্জন দিয়ে কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইনি।’ এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় বলে জানা যায়।

‘শোলে’ (Sholay) ছবির সময়েও নাকি সঞ্জীব কুমার আবার বিয়ের প্রস্তাব দেন হেমাকে। কিন্তু তখনও তাঁর অবস্থান একই ছিল। অভিনয় ছেড়ে দেওয়া বা নিজের ক্যারিয়ার থামিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনও আপস করতে চাননি। ফলে সেই সম্পর্ক আর এগোয়নি। অন্য দিকে, সঞ্জীব কুমার নিজের জীবনে আর কখনও বিয়ে করেননি। ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় তাঁর উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে অনেকেই মনে করেন। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়, যা বলিউডে শোকের ছায়া ফেলেছিল।

হেমা মালিনী ও সঞ্জীব কুমার। ছবি: সংগৃহীত

ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে হেমা মালিনীর সম্পর্ক অবশ্য অন্য পথে এগোয়। নানা বিতর্ক, সামাজিক চাপ এবং ব্যক্তিগত জটিলতার মধ্যেও তাঁরা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয় এবং বলিউডে এক অনন্য জুটির মর্যাদা পায়। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর হেমা মালিনীর প্রতিক্রিয়ায় সেই গভীর সম্পর্কেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। একাধিক বার শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এতে বোঝা যায়, বহু বছর পরেও তাঁদের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল। হেমা মালিনীর জীবনের এই অধ্যায় শুধু একটি ব্যক্তিগত কাহিনি নয়, তা সেই সময়ের সমাজ ও চলচ্চিত্র জগতের মানসিকতার প্রতিফলনও বটে। একদিকে প্রচলিত ধারণা, অন্য দিকে একজন নারীর নিজের পরিচয় বজায় রাখার লড়াই, এই দুইয়ের সংঘর্ষই এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে। প্রসঙ্গত, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে, কারণ এটি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং বর্তমান সময়ের জন্যও প্রাসঙ্গিক একটি দৃষ্টান্ত। ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার প্রশ্ন আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Dharmendra Hema Malini Marriage | ‘এবার বিয়ে করতেই হবে…!’ হেমা মালিনী কীভাবে ধর্মেন্দ্রকে বিয়ের সিদ্ধান্তে রাজি করালেন?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন