পরিধি চক্রবর্তী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউডের ইতিহাসে স্বপ্নের জুটি বলতে গেলে সবার আগে উঠে আসে ধর্মেন্দ্র (Dharmendra) ও হেমা মালিনী (Hema Malini) -এর নাম। তাঁদের প্রেম, সম্পর্ক এবং বিয়ে সব সময়েই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। তবে এই সম্পর্কের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ১৯৮০ সালে দু’জনের বিয়ে হলেও তার আগে বহু বাধা, বিতর্ক এবং পারিবারিক অস্বীকৃতি পেরোতে হয়েছিল তাঁদের। হেমা মালিনী একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কীভাবে এক সময় তাঁকে নিজেই ধর্মেন্দ্রকে বিয়ের কথা স্পষ্টভাবে জানাতে হয়েছিল।

হেমা মালিনী (Hema Malini) সম্প্রতি স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, “ধর্মেন্দ্রকে যে সুন্দর দেখতে, সেটা সবার কাছেই পরিষ্কার ছিল। কিন্তু আমি শুরুতে শুধু সহ-অভিনেতা হিসেবেই ওঁকে দেখতাম। বিয়ে করার কোনও পরিকল্পনা আমার ছিল না। তবে মনে মনে ভাবতাম, যদি কখনও বিয়ে করি, ওর মতো কাউকে করব। অথচ শেষমেশ দেখলাম, ধর্মেন্দ্রকেই বিয়ে করেছি।”
https://www.instagram.com/sasrayanews?igsh=dnF6OHI3MWloM3c1
তিনি আরও জানান, তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন যখন ছড়াতে শুরু করে, তখন একদিন নিজেই ধর্মেন্দ্রকে বলেছিলেন, “এবার বিয়ে করতেই হবে।” আর হেমার এই কথাতেই রাজি হয়ে যান ধর্মেন্দ্র।

ধর্মেন্দ্র (Dharmendra) তখন ইতিমধ্যেই বিবাহিত। তাঁর প্রথম পক্ষের পরিবারে ছিলেন দুই ছেলে সানি দেওল (Sunny Deol), ববি দেওল (Bobby Deol) ও দুই মেয়ে বিজেতা (Vijeta) ও অজিয়েতা (Ajeita)। এই কারণেই হেমা মালিনীর পরিবার এই বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু হেমা মালিনী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি অন্য কারও কথা শুনবেন না। তাঁর জীবনের সঙ্গী হিসেবে কেবল ধর্মেন্দ্রকেই চান।

বিয়ের পর অনেক নায়িকার কেরিয়ার থেমে গেলেও হেমা মালিনী ছিলেন একেবারেই ব্যতিক্রম। সংসার, দুই কন্যা ঈশা দেওল (Esha Deol) ও অহনা দেওলকে (Ahana Deol) সামলেও সমান তালে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। আর এ ক্ষেত্রে সবথেকে বড় সহায় ছিলেন ধর্মেন্দ্র। হেমার কথায়, “ধর্মেন্দ্রজির সঙ্গে বিয়ে আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। উনি কোনওদিনই আমাকে কাজ ছেড়ে দিতে বলেননি। আমরা একে অপরের কাজকে সমর্থন করতাম। একে অপরকে সম্মান করতাম। তাই আমাদের সম্পর্ক এত সুন্দরভাবে গড়ে উঠেছিল।”

শিল্পের প্রতি ভালবাসা হেমার জীবনের অন্যতম বড় শক্তি। ছোট থেকেই নাচের প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর। মাও তাঁকে উৎসাহ দিতেন এই পথে চলতে। তাই বিয়ের পরও তিনি কখনও নিজের স্বপ্নকে বন্ধ করেননি। তিনি বলেন, “ধর্মেন্দ্রর প্যাশন আর প্রফেশন এক হয়ে যেত। আমাদের মধ্যে এক অসাধারণ আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল। আমরা একে অপরকে সময় দিতাম, সম্মান দিতাম। এই সম্মানই সম্পর্ককে আরও শক্ত করেছে।” উল্লেখ্য যে, ধর্মেন্দ্র এবং হেমা মালিনীর সম্পর্ক বলিউডে যেমন অনস্ক্রিন রোম্যান্সে ভরপুর ছিল, তেমনই অফস্ক্রিনেও তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ভালবাসা, সমঝোতা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাই আজও আলোচনার বিষয়।

যদিও এই বিয়ের পথ সহজ ছিল না, তবে তাঁদের দৃঢ়তা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসই প্রমাণ করেছে, সত্যিকারের সম্পর্ক কোনও বাধাকেই তোয়াক্কা করে না।এত বছর পরও এই দম্পতি বলিউডের আইকনিক প্রেম কাহিনিগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে রয়ে গেছেন। তাঁদের প্রেম, জেদ, পরিবারকে একসঙ্গে ধরে রাখার ক্ষমতা এবং পেশাগত জীবনে একে অপরকে সমর্থন করার মানসিকতাই তাঁদের সম্পর্ককে বিশেষ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan husband personality | চার দেওয়ালের মধ্যের শাহরুখ: গৌরীর চোখে সহজ, সংবেদনশীল আর নায়কসুলভ নয়




