Mundra drug seizure 1100 crore, Gujarat cocaine haul news | মুন্দ্রা উপকূলে বিশাল মাদক চক্র ভেঙে দিল অভিযান! ১১০০ কোটির কোকেন উদ্ধার, ব্রাজিল-পাকিস্তান ঘুরে ভারতে ঢোকার চেষ্টায় ধৃত তিন বিদেশি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : গুজরাতের মুন্দ্রা (Mundra) উপকূল ঘিরে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্যের সন্ত্রাসদমন শাখা (ATS) এবং উপকূলরক্ষীবাহিনী (Indian Coast Guard)। বুধবার ভোরে সন্দেহজনক একটি ভেসেলকে ঘিরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১০০ কোটিরও বেশি মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) -এর সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই গোয়েন্দা ইনপুটের ভিত্তিতে গুজরাত উপকূলে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছিল। তথ্য ছিল, সমুদ্রপথে বড় চালানের মাদক ভারতে ঢুকতে পারে। সেই সূত্র ধরেই উপকূলীয় থানাগুলিকে সতর্ক করা হয় এবং উপকূলরক্ষীবাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয় সমুদ্রে টহল বাড়ানোর জন্য।

আরও পড়ুন : Falta by election result 2026 | ফলতা উপনির্বাচনে বিজেপির ঝড়, তৃণমূল চতুর্থ স্থানে, দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এল সিপিএম, বদলাচ্ছে ভোটের অঙ্ক

বুধবার সকালে মুন্দ্রা বন্দর থেকে কিছুটা দূরে একটি সন্দেহজনক ভেসেলকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। উপকূলরক্ষীবাহিনী দ্রুত সেটিকে চিহ্নিত করে ধাওয়া শুরু করে। কিছু সময়ের মধ্যেই ভেসেলটিকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে রাজ্যের সন্ত্রাসদমন শাখাকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানের দায়িত্ব নেয়। গুজরাত পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল কে.এল.এন. রাও (K.L.N. Rao) জানিয়েছেন, ‘মুন্দ্রা উপকূলের কাছে একটি ভেসেল আটক করা হয়েছে, যেখান থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধার হয়েছে।’ প্রাথমিকভাবে ১১৫ কেজি কোকেন উদ্ধার হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে তল্লাশিতে আরও পরিমাণ ধরা পড়ে। মোট ছ’টি ব্যাগ থেকে প্রায় ১১৮ কেজি কোকেন উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য প্রায় ১১০০ কোটিরও বেশি। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ধৃত তিন জনই বিদেশি নাগরিক। তাঁদের পরিচয় ও যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মাদক দিল্লিতে তানজানিয়া (Tanzania) এবং উগান্ডার (Uganda) দুই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ধৃতদের কাছ থেকে স্যাটেলাইট ফোন, নেভিগেশন ডিভাইস এবং আরও কিছু আধুনিক সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে পুরো অপারেশনটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, ‘এমভি ইউরোপ’ (MV Europe) নামে ওই ভেসেলটি আন্তর্জাতিক জলসীমা পেরিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছেছিল। ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, জাহাজটি প্রথমে ব্রাজিল (Brazil) থেকে যাত্রা শুরু করে। তার পর একাধিক দেশ ঘুরে পাকিস্তান (Pakistan) উপকূলে পৌঁছয়। সেখান থেকে গোপনে গুজরাতের দিকে রওনা দেয়। এই রুট ব্যবহার করার পেছনে পাচারচক্রের উদ্দেশ্য ছিল নজর এড়ানো এবং ট্র্যাকিং বিভ্রান্ত করা। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারী সংস্থাগুলি। গোটা নেটওয়ার্কটি কী ভাবে কাজ করে, কারা এর পেছনে রয়েছে, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি, দিল্লি এবং অন্যান্য রাজ্যের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

অভিযানের সময় ভেসেলটিকে ঘিরে ফেলার পর কোনও রকম প্রতিরোধের চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধৃতরা পালানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। গুজরাত উপকূল দীর্ঘ দিন ধরেই মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এর আগে মুন্দ্রা বন্দরে একাধিক বার বিপুল পরিমাণ মাদক ধরা পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনার পর আবারও সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা জোরদার করতে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, উপকূলবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, সমুদ্রপথে আগত ভেসেলগুলির উপর নজরদারি জোরদার করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোখা যায়। এই ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীরা যে নতুন নতুন রুট ব্যবহার করছে, তা মোকাবিলা করতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের আদালতে তোলা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার সংক্রান্ত কঠোর আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তদন্ত এগোলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Falta result statement | ফলতায় বিজেপির দাপুটে জয়, ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন