সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ব্যাঙ্কিং পরিষেবার ক্ষেত্রে স্বাক্ষর বা সিগনেচার (Signature) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চেক জমা দেওয়া, টাকা তোলা, বিভিন্ন নথি যাচাই প্রায় সব ক্ষেত্রেই সঠিক সই মিল থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের হাতের লেখা বদলে যাওয়া বা দীর্ঘদিন সই না করার ফলে পুরনো সিগনেচার ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা এখন খুবই সাধারণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান, ব্যাঙ্কে দেওয়া সইয়ের সঙ্গে বর্তমান সই না মিললে কী অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানাটা জরুরি। ব্যাঙ্কিং নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকের স্বাক্ষর তার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে সিগনেচার জমা দেওয়া হয়, সেটিই ব্যাঙ্কের রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকে। পরবর্তীকালে কোনও লেনদেনের সময় সেই সিগনেচারের সঙ্গে বর্তমান স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা হয়। যদি মিল না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট লেনদেন আটকে যেতে পারে। বিশেষ করে চেক ক্লিয়ারেন্স বা ক্যাশ উইথড্রলের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
আরও পড়ুন :
কিন্তু স্বাক্ষর না মেলার অর্থ এই নয় যে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাঙ্কগুলির নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র সিগনেচার মিসম্যাচের কারণে কোনও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয় না। বরং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ দেন। ব্যাঙ্কের এক আধিকারিকের কথায়, ‘সই না মেলা খুবই সাধারণ বিষয়, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।’ বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাত কাঁপা, লেখার ধরনে পরিবর্তন, এই সব কারণে আগের সইয়ের সঙ্গে বর্তমান সই মেলে না। আবার তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ তারা এখন অনেকটাই ডিজিটাল লেনদেনের উপর নির্ভরশীল, ফলে হাতে সই করার অভ্যাস কমে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন? প্রথমত, ব্যাঙ্কের শাখায় সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে বৈধ পরিচয়পত্র, যেমন আধার কার্ড (Aadhaar Card), প্যান কার্ড (PAN Card), বা ব্যাঙ্ক পাসবুক। ব্যাঙ্ক আপনার পরিচয় যাচাই করার পর আপনাকে সিগনেচার আপডেট করার সুযোগ দেবে। অনেক ক্ষেত্রেই কেওয়াইসি (KYC) আপডেটের সঙ্গে সিগনেচার সংশোধনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের পুরনো সিগনেচার দেখিয়ে দেওয়া হতে পারে, যাতে তারা সেই ধরণ অনুসরণ করে নতুন করে সই করতে পারেন। তবে সরাসরি পুরনো সই নকল করার অনুমতি দেওয়া হয় না। কারণ, এতে জালিয়াতির আশঙ্কা থাকে। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাঙ্কগুলি এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকে।
বর্তমানে অনেক ব্যাঙ্ক ডিজিটাল অথেন্টিকেশন পদ্ধতিও চালু করেছে। যেমন, ওটিপি (OTP) ভিত্তিক যাচাই বা বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ। তবে সব ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে চেক সংক্রান্ত লেনদেনে এখনও সিগনেচারের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক সময় দেখা যায়, একটি ছোটখাটো পার্থক্য, যেমন একটি ডট বা লাইনের সামান্য হেরফের,এর কারণেও সিগনেচার মেলে না। তাই নিয়মিত নিজের সই অনুশীলন করা এবং ব্যাঙ্কে দেওয়া সিগনেচারের ধরণ মনে রাখা প্রয়োজন। যদি মনে হয় সই অনেকটাই বদলে গিয়েছে, তাহলে আগেভাগেই ব্যাঙ্কে গিয়ে সেটি আপডেট করে নেওয়া ভাল। গ্রাহকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কখনওই অন্য কাউকে নিজের হয়ে সই করতে দেওয়া উচিত নয়। এতে আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ব্যাঙ্কিং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিজের সিগনেচার নিজেই করা বাধ্যতামূলক।
বর্তমানে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ফলে কোনও রকম অসঙ্গতি ধরা পড়লেই লেনদেন সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক সময় গ্রাহকরা সমস্যায় পড়লেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখার জন্যই করা হয়। কিন্তু, সিগনেচার না মেলা একটি সাধারণ সমস্যা, যার সমাধানও রয়েছে সহজেই। ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিয়ম মেনে সিগনেচার আপডেট করলে কোনও ধরনের বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদ্ধতি মেনে এগোলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kalbaishakhi rain West Bengal, Bengal weather rain update | দহন ভেঙে স্বস্তির বার্তা! কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজল বাংলা, একাধিক জেলায় তাপমাত্রা নামল হঠাৎ



