Shovondeb Chatterjee opposition leader, West Bengal assembly resolution | বিধানসভায় জটিলতা তুঙ্গে! শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করতে রেজুলেশন জমা, আন্দোলনের ইঙ্গিত

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে জটিলতা ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে। বালিগঞ্জের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Shovondeb Chatterjee) বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক রেজুলেশন জমা দিল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। যদিও শুরুতে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল দল, কিন্তু স্পিকারের নির্দেশের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। এখনো স্বীকৃতি না মিললে বিধানসভা চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভের পথেই হাঁটতে পারে তৃণমূল, এমন ইঙ্গিতও মিলছে। ফল ঘোষণার পর থেকেই বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তৃণমূলের তরফে বিধানসভার সচিবালয়ে একটি চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovondeb Chatterjee) এই দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু কয়েক দিন পরই প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, এখনও পর্যন্ত তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এমনকি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার নির্দিষ্ট ঘরও তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন : DBT link online, Annapurna Bhandar scheme | অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে DBT লিঙ্ক করুন ঘরে বসেই, জানুন সহজ উপায়

এই পরিস্থিতিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovondeb Chatterjee) দাবি করেন, ‘চিঠি দেওয়ার পর আবার রেজুলেশন জমা দেওয়ার কোনও বিধি নেই।’ তাঁর বক্তব্য, এতদিন যে পদ্ধতিতে বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতি পেয়েছেন, সেই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিষয়টি স্পষ্ট করতে তিনি তথ্য জানার অধিকার আইনের (RTI) মাধ্যমে বিধানসভার কাছে জানতে চান, অতীতে কীভাবে বিরোধী দলনেতাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিধানসভা কর্তৃপক্ষের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Basu) -এর তরফে জানানো হয়, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা জরুরি। শুধুমাত্র একটি চিঠি দিয়ে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। কতজন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Shovondeb Chatterjee) সমর্থন করছেন, তার উল্লেখ-সহ একটি আনুষ্ঠানিক রেজুলেশন জমা দেওয়া প্রয়োজন। এই নথি ছাড়া স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয় বলেই জানানো হয়।

এই অবস্থায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নতুন পদক্ষেপ নেয়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর উপস্থিতিতে পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে একটি রেজুলেশন তৈরি করা হয় এবং তা বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়। দলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘স্পিকার যা চেয়েছেন, সেই অনুযায়ী রেজুলেশন দেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যদি এই রেজুলেশন জমা দেওয়ার পরেও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Shovondeb Chatterjee) বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তাহলে তাঁরা প্রতিবাদের পথ বেছে নেবেন। ইতিমধ্যেই বিধানসভা চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দিনে বেলা ১২টা নাগাদ তৃণমূল পরিষদীয় দলের সদস্যরা বিধানসভায় উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা এক ঘণ্টা অপেক্ষা করবেন। যদি সেই সময়ের মধ্যে বিরোধী দলনেতার ঘর খোলা না হয় বা স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তাহলে বেলা ১টা থেকে শুরু হবে অবস্থান বিক্ষোভ। এই আন্দোলনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovondeb Chatterjee) নিজেও অংশ নেবেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বিরোধী দলনেতা পদ শুধু একটি সাংবিধানিক মর্যাদা নয়, এটি বিধানসভায় গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে এই পদ নিয়ে টানাপোড়েন দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াতেও পড়তে পারে। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর অভ্যন্তরেও এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে। দলের একাংশ মনে করছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে বিধানসভায় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। অন্যদিকে বিরোধীরা এই ইস্যুকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ উঠছে।

পুরো ঘটনাপ্রবাহে নজর এখন বিধানসভার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। রেজুলেশন জমা দেওয়ার পর স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Basu) কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে। যদি দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে এই জট কাটতে পারে। কিন্তু তা না হলে বিধানসভায় আরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী কণ্ঠের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই জায়গা থেকে বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে এই অচলাবস্থা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Matsya Sampada Yojana, fish farming subsidy India | মাছ চাষে ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় বড় সুযোগ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন