সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার সূচনাতেই বড় পরিবর্তন আনল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, আগামী সোমবার থেকে সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘোষণা ঘিরে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। পরে নবান্ন (Nabanna) থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘সোমবার থেকেই রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে বন্দে মাতরম গেয়ে ক্লাস শুরু করতে হবে। আমি নিজে এই সংক্রান্ত নোটিস জারি করব।’ তাঁর এই ঘোষণার পরপরই বিকাশ ভবন (Bikash Bhavan) থেকে জেলা স্তরের শিক্ষা আধিকারিকদের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো শুরু হয়েছে। হোয়াট্সঅ্যাপ মারফত সেই নির্দেশ ইতিমধ্যেই জেলা স্কুল পরিদর্শকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্কুলে তা পাঠানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari CM: বাংলার নব মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী | ঐতিহাসিক দিন
একজন প্রশাসনের আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই উদ্যোগ কার্যকর করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে যেন নিয়মটি সঠিক ভাবে চালু হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ জানা গিয়েছে, প্রার্থনা সঙ্গীতের সময়েই ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। স্কুলভেদে সময়সূচি সামান্য আলাদা হতে পারে, তবে মূল কাঠামো একই থাকবে। এই সিদ্ধান্ত আপাতত শুধুমাত্র সরকারি স্কুলগুলির ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বেসরকারি স্কুলগুলিকেও একই প্রক্রিয়া চালু করার অনুরোধ জানানো হবে বলে সূত্রের খবর। শিক্ষা দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘জাতীয় চেতনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধের ধারণা আরও মজবুত করাই এর উদ্দেশ্য।’
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার দিনই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কৃতী পড়ুয়াদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘সবাই যেন স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda) -এর চরৈবেতি চরৈবেতি মন্ত্রকে সামনে রেখে এগিয়ে যায়।’ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছাও জানান তিনি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় প্রথম তিন স্থানাধিকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী মুখ্যমন্ত্রী। সেই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মহকুমাশাসকদের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের শুভেচ্ছাবার্তা কৃতী পড়ুয়াদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যালয়ে জাতীয় গান গাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত চর্চার পরিবেশ তৈরি করবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এর ফলে সকালবেলার প্রার্থনা আরও সংগঠিত হবে। অন্যদিকে, শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকেই মনে করছেন, পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের উদ্যোগ সেই দিকেই একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কী ভাবে এই নিয়ম বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, প্রতিটি স্কুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নিয়মিত উপস্থিতির সঙ্গে এই প্রক্রিয়া বজায় রাখা হয়। কোনও স্কুলে যাতে এই নিয়ম কার্যকর করতে সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে। রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোয় একাধিক পরিবর্তনের মধ্যে এই নতুন নিয়ম যুক্ত হল। ক্লাস শুরুর আগে জাতীয় গান গাওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রতিদিনের স্কুল রুটিনে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে। ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়ার জায়গা নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রও বটে। সেই জায়গা থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী দিনে বোঝা যাবে। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে এই নিয়ম কতটা সফল ভাবে কার্যকর হয় এবং বেসরকারি স্কুলগুলি কতটা এতে সাড়া দেয়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত বলা যায়, নতুন এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bengal old age pension increase, Suvendu Adhikari pension scheme | দ্বিগুণ বার্ধক্য ভাতা! ১০০০ থেকে ২০০০ টাকায় বড় সিদ্ধান্ত, প্রতিবন্ধী ভাতাও বাড়ছে, শুভেন্দু সরকারের নতুন পদক্ষেপে নজর রাজ্যজুড়ে




