সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -এর একাধিক বিধায়কের গোপন বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে উপস্থিত নেতারা এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, দলের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মানার বদলে নিজেদের এলাকার পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়াই হবে ভবিষ্যতের পথ। এই বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কারণ, তৃণমূলের মতো একটি সুসংগঠিত দলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত বিরল। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েক জন বিধায়ক নাকি খোলাখুলি জানিয়েছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র দলীয় নির্দেশে চলা সম্ভব নয়, স্থানীয় বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ তাঁদের বক্তব্য, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অনেক জায়গায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যা মোকাবিলার জন্য দ্রুত এবং পরিস্থিতি-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত জরুরি।
জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে দলের একাধিক ‘বেসুরো’ বলে পরিচিত বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। বৈঠকে সেই অসন্তোষ আরও একবার সামনে এসেছে বলে খবর। যদিও বৈঠকের কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ভেতরের আলোচনা নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসছে। সূত্রের দাবি, বৈঠকে একাধিক বিধায়ক বলেন, ‘দলের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে পরিষ্কার নয়। ফলে মাটির স্তরে কাজ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।’ এই পরিস্থিতিতে ‘দলের কথায় নাচ’ না করে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তাঁরা। এই মতের প্রতি উপস্থিত অধিকাংশ বিধায়ক সমর্থন জানিয়েছেন বলেই জানা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রথম সারির এক প্রভাবশালী বিধায়ক এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও, তিনি নাকি এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
অন্য দিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আগামী শুক্রবার বিভিন্ন জেলার নেতাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকছেন। কিন্তু সেই বৈঠকে দলের একাধিক বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে। কেন তাঁদের ডাকা হয়নি, তা নিয়ে দলীয় মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েক জন বিধায়ক। তাঁদের মতে, ‘যাঁরা মাঠে কাজ করছেন, তাঁদের মতামত না নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সমস্যা বাড়বে।’ এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, দলের ভিতরে যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে সংগঠনকে পুনর্গঠনের প্রয়োজন, অন্যদিকে বিরোধী দলের উত্থান, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিধায়কদের এই বৈঠক এবং তাঁদের অবস্থান দলীয় নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করতে পারে। বিশেষ করে যদি আরও বিধায়ক এই পথে হাঁটেন, তা হলে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
কিন্তু, তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘সব কিছু সংগঠনের ভিতরেই মিটিয়ে নেওয়া হবে।’ কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন নজর রয়েছে শুক্রবারের বৈঠকের দিকে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন এবং সংগঠনকে কী ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা দেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কলকাতার এই বৈঠক আপাতদৃষ্টিতে ছোট ঘটনা মনে হলেও, এর প্রভাব ভবিষ্যতের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। দলের ভিতরে মতবিরোধ কতটা গভীর, তা এই ঘটনার মাধ্যমে কিছুটা হলেও সামনে এসেছে। প্রসঙ্গত, আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং নেতৃত্বের সঙ্গে বিধায়কদের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক সমীকরণ যে দ্রুত বদলাচ্ছে, এই ঘটনাই তার অন্যতম প্রমাণ হিসেবে উঠে আসছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Thalapathy Vijay, Tamil Nadu liquor ban 717 shops | মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ৭১৭ মদের দোকান বন্ধ, বিজয়ের সিদ্ধান্তে কী বললেন কমল হাসান




