সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভারতীয় কুস্তি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন সাক্ষী মালিক (Sakshi Malik)। এ বার তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, ‘দয়া করে একজন মায়ের লড়াইয়ের অধিকার কাড়বেন না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর এক নামী কুস্তিগির বিনেশ ফোগাট (Vinesh Phogat), যিনি দীর্ঘ বিরতির পর আবার মাটিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ (Brij Bhushan Sharan Singh) -এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় একসঙ্গে লড়েছিলেন সাক্ষী ও বিনেশ। সেই বন্ধুত্ব ও সহযোদ্ধার সম্পর্ক আবার সামনে এল। এশিয়ান গেমস (Asian Games)-এর লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিনেশ, কিন্তু ভারতীয় কুস্তি সংস্থা (Wrestling Federation of India) -এর নিয়মের জটে আটকে গিয়েছে তাঁর প্রত্যাবর্তনের রাস্তা।
আরও পড়ুন : ৯ রানে ৬ উইকেট! দিল্লির ধস, বেঙ্গালুরুর দাপট ঐতিহাসিক রাতে ৯০০০ ছুঁলেন কোহলি
সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় সাক্ষী বলেন, ‘আমি রাজনীতির অংশ হতে চাই না। কিন্তু একজন মা হিসেবে বিনেশের জন্য কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি।’ তিনি আরও জানান, ‘বিনেশের মতো একজন ক্রীড়াবিদ দেশের জন্য আবার পদক জিততে পারেন। তাঁকে সুযোগ দেওয়া উচিত।’ বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় (Gonda, Uttar Pradesh) চলছে ন্যাশনাল ওপেন র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতাই এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জনের শেষ সুযোগ। ১৮ মাস আগে কুস্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বিনেশ। এখন সেই অবসর ভেঙে আবার ফিরতে চাইলেও তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামতে দেওয়া হয়নি।
কুস্তি সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ডোপবিরোধী নিয়ম অনুযায়ী অবসর নেওয়ার পর আবার খেলায় ফিরতে হলে ছ’মাসের নোটিস পিরিয়ড বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে ২৬ জুনের আগে কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না বিনেশ। তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ তিনি। তাঁর দাবি, ‘আমি আগেই ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড রেসলিংকে (United World Wrestling) জানিয়ে দিয়েছিলাম যে আমি ফিরতে চাই। ফলে আমার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।’ এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে অন্য একটি কারণে। কুস্তি সংস্থার অভিযোগ, বিনেশের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ডোপ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয় রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে এক আধিকারিক জানান, ‘শো-কজের পুরো জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। সমস্ত অভিযোগের তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামতে দেওয়া যাবে না।’
এই পরিস্থিতিতে সাক্ষী মালিকের অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘অনেক জায়গায় মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য নিয়মে নমনীয়তা রাখা হয়। সন্তান হওয়ার পরেও তাঁরা আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশে সেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।’ সাক্ষীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘মা’ শব্দটি। তিনি বলেন, ‘বিনেশ শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নয়, সে একজন মা। মা হওয়ার পরেও যে আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পাওয়া সম্ভব, তা দেখানোর সুযোগ তার পাওয়া উচিত।’ তাঁর এই আবেদনে আবেগের পাশাপাশি ক্রীড়া নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে, মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য আলাদা সহায়ক কাঠামো থাকা উচিত কি না। বিনেশ ইতিমধ্যেই গোন্ডায় পৌঁছে গিয়েছেন, কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামতে না পারায় তাঁর প্রস্তুতি অনিশ্চয়তার মুখে। দেশের ক্রীড়া মহলে অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
২০১৬ অলিম্পিক্স (Olympics 2016)-এ ব্রোঞ্জ পদকজয়ী সাক্ষী মালিকের এই সরাসরি আবেদন কেন্দ্রীয় স্তরে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে তাঁর বক্তব্যে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আবার সামনে এল ভারতীয় কুস্তির প্রশাসনিক জটিলতা এবং ক্রীড়াবিদদের লড়াই। নিয়ম, নীতি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির মধ্যে সমন্বয় না হলে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়, তারই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই বিতর্ক। বিনেশ ফোগাটের প্রত্যাবর্তন আদৌ সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সাক্ষীর আবেদন নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। এখন নজর প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া মন্ত্রকের দিকে, তাঁরা এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BCCI controversy Rohit Sharma Champions Trophy, Shubman Gill captain graphic error | চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের অধিনায়ক শুভমন? বোর্ডের অনুষ্ঠানে বড় ভুল, রোহিতকে ভুলে বিতর্কে বিসিসিআই




