সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামে আকস্মিক উত্থান ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান (Iran) ও আমেরিকা (United States of America বা USA) -এর মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক টানাপোড়েনের জেরে একদিনেই প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ক্রুড অয়েলের দাম (Crude Oil Price Hike)। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত শনিবার অল্প সময়ের জন্য প্রণালীটি খুলে দেওয়া হলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের তা বন্ধ করে দেয় ইরান (Iran)। এই প্রণালীটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, ফলে এর কার্যকারিতা বিঘ্নিত হলেই বিশ্ববাজারে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ঘটনার আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে ওমান উপকূলের কাছে। সেখানে ইরানের একটি কার্গো জাহাজকে লক্ষ্য করে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি রণতরী ‘ইউএসএস স্প্রুরান্স’ (USS Spruance) হামলা চালায় বলে খবর। জাহাজটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ উপেক্ষা করলে ‘গাইডেড মিসাইল’ ব্যবহার করে আক্রমণ করা হয়। এই ঘটনার পর ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে এই উত্তেজনার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে তেলের দামে। ডব্লিউটিআই (West Texas Intermediate বা WTI) ক্রুডের দাম একলাফে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৯.১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে ক্রুড ফিউচারসের দাম ছুঁয়েছে প্রায় ৯৫ ডলার প্রতি ব্যারেল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগেও ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময়ে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। পরে সাময়িক সংঘর্ষবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ফলে সেই দাম কমে ৮০ ডলারের আশপাশে নেমে আসে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ফের সেই পুরনো আশঙ্কাকে সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই তার প্রভাব সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে পড়ে। আমদানি খরচ বেড়ে গেলে সরকারের উপর চাপ বাড়ে এবং সেই চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের উপর।
বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি মানেই পরিবহণ খরচ বাড়া, যার ফলে খাদ্যদ্রব্য, শাকসবজি, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এসব কিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের উপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, যার ফলে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির হারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সব নজর রয়েছে ইরান (Iran) ও আমেরিকা (USA)-এর সম্ভাব্য শান্তি বৈঠকের দিকে। পাকিস্তানে নির্ধারিত এই বৈঠক আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরে কোনও সমাধান না এলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে এখন বড় প্রশ্ন, জ্বালানির এই ঊর্ধ্বগতি কোথায় গিয়ে থামবে? পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের বাজার চিত্র। আপাতত তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধাক্কা দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে চলেছে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : India Russia oil import | রুশ তেল আমদানিতে কারও অনুমতি নয়, জাতীয় স্বার্থই প্রথম, স্পষ্ট বার্তা দিল কেন্দ্র



