সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভোটের মুখে ‘বহিরাগত’ ইস্যু আবারও সামনে এনে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে বিরোধীরা। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি (Bharatiya Janata Party বা BJP) -এর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন, তার একটা অংশ ঠিক। আমরা বাইরে থেকে লোক আনছি, তবে তারা অন্য কেউ নয়, বাংলারই ভোটার।’ তাঁর এই মন্তব্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হচ্ছে, যাঁরা ভিনরাজ্যে কর্মসূত্রে রয়েছেন, তাঁদেরই ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য বাংলায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, ‘গুজরাট (Gujarat), মহারাষ্ট্র (Maharashtra) সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বাংলার মানুষরা ভোট দিতে ফিরে আসছেন। এই ফেরাটা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক অধিকার।’ তাঁর কথায়, ‘এদের বহিরাগত বলা ঠিক নয়, এরা বাংলারই মানুষ, যারা কাজের খোঁজে বাইরে গিয়েছিলেন।’ এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য যাঁদের নানা সময়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে, তাঁরাই এখন নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে ফিরছেন।’ তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকেও অনেকেই ফিরছেন।
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রায় ৭৩টি বিশেষ ট্রেনের মাধ্যমে এই শ্রমিকদের আনা হচ্ছে। যদিও এই সংখ্যার সত্যতা নিয়ে শাসকদলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress বা TMC)-এর অভিযোগ, ‘বহিরাগত’ ইস্যু তুলে ভোটে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চলছে। তাদের বক্তব্য, এই উদ্যোগের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ‘বাইরে থেকে লোক ঢুকিয়ে ভোটে প্রভাব ফেলার চেষ্টা চলছে।’ তাঁর এই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শমীক যে বক্তব্য রেখেছেন, তা কার্যত সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে অনেকেই মনে করছেন, এই মন্তব্য নির্বাচনের আগে এক বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
অন্য দিকে বিজেপির দাবি, তারা শুধু ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করছে। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘অনেকেই নিজেদের উদ্যোগে ফিরছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে দলীয় স্তর থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।’ তাঁর মতে, এটি কোনও বেআইনি কাজ নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের সূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকা এই মানুষরা যদি বড় সংখ্যায় ভোট দিতে ফিরে আসেন, তাহলে তা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় এই প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শাসক ও বিরোধী, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ‘বহিরাগত’ এনে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। অন্য দিকে বিজেপির বক্তব্য, ‘বাংলার ভোটারদের বাংলায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, এতে আপত্তির কিছু নেই।’
ভোট যত এগোচ্ছে, ততই এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিভিন্ন জেলায় এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, আসলে কারা ফিরছেন এবং কী ভাবে এই প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ের এই পর্বে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য যে বড় প্রভাব ফেলেছে, তা বলাই যায়। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন বিজেপির অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে, অন্য দিকে শাসকদলের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর তরফে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না এবং ভোটের আগে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলে। তবে এটুকু নিশ্চিত, ‘বহিরাগত’ বনাম ‘পরিযায়ী ভোটার’ এই দ্বন্দ্বই আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : food adulteration India NHRC meeting, AI food safety India | খাদ্যে ভেজাল রুখতে বড় পদক্ষেপ, এনএইচআরসি বৈঠকে এআই নজরদারি ও কড়া আইন প্রস্তাব



