সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের দাপট ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। ভারতের (India) বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রার পারদ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভারতীয় মৌসম বিভাগ (India Meteorological Department বা IMD) জানিয়েছে, অন্তত ১০টি রাজ্যে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র (Maharashtra) এবং ছত্তীসগঢ়ে (Chhattisgarh) ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। মৌসম ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ (West Madhya Pradesh), মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ (Vidarbha) অঞ্চল এবং ছত্তীসগঢ়ের কিছু অংশে আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে।’ এই সতর্কতা সামনে আসতেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে মহারাষ্ট্রের গোন্ডিয়া (Gondia) জেলায়। সেখানে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ‘দুপুরের দিকে বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা দায় হয়ে যাচ্ছে।’ চরম গরমের কারণে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। এই অবস্থায় শহরবাসীরা ট্রাফিক পুলিশের কাছে আবেদন করেন, যাতে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সিগন্যাল ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় প্রশাসন সেই আবেদন মেনে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন পথচলতি মানুষ। এক বাসিন্দার কথায়, ‘এই সময়টায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর, সিগন্যাল বন্ধ রাখায় অন্তত কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।’
ছত্তীসগঢ়ের বিভিন্ন জেলাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জলের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে মৌসম ভবন জানিয়েছে, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ (East Uttar Pradesh), পূর্ব রাজস্থান (East Rajasthan) এবং পূর্ব মধ্যপ্রদেশ (East Madhya Pradesh)-এ ২০ ও ২১ এপ্রিল তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি থাকতে পারে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)-এ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ (West Uttar Pradesh)-এ ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু এই রাজ্যগুলিই নয়, পাঞ্জাব (Punjab), হরিয়ানা (Haryana), চণ্ডীগড় (Chandigarh) এবং ওড়িশাতেও (Odisha) তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে সেখানে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। রাজধানী দিল্লিতেও (Delhi) তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি পেরিয়েছে। গত রবিবার সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছয় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় যথেষ্ট বেশি।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূর্যের প্রখর তাপের পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের গঠনগত পরিবর্তন, আর্দ্রতার ওঠানামা এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা উষ্ণ বায়ু দেশের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা থাকবে। বিশেষ করে হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলি, উত্তর-পূর্ব ভারত (Northeast India) এবং পশ্চিম ভারতের পাহাড়ি এলাকাগুলিতেও গরমের প্রকোপ বাড়তে পারে। ফলে গ্রীষ্মের বাকি সময়টাও বেশ কঠিন হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ‘দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত জলপান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।’
কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অতিরিক্ত গরমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে যেসব ফসল জলনির্ভর। জলস্তর কমে গেলে সেচ ব্যবস্থাও বাধার মুখে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনেরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই তাপপ্রবাহ মোকাবিলা করা। জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আপাতত আগামী কয়েক দিন যে গরমের তীব্রতা বজায় থাকবে, তা নিয়ে সতর্ক করেছে মৌসম ভবন। গরমের এই দাপট থেকে রেহাই পেতে বর্ষার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Raninagar Assembly CPIM Rally, Afreen Begum Shilpi Speech | রানিনগরে বামফ্রন্টের বিশাল বাইক মিছিল, সভায় আফরিন বেগম শিল্পীর তীব্র আক্রমণ রাজ্য ও কেন্দ্রকে




