Berhampore Election Controversy: পোস্টাল ব্যালট ঘিরে উত্তেজনা, নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানালেন অধীররঞ্জন চৌধুরী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বহরমপুর: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল বহরমপুর (Berhampore) বিধানসভা কেন্দ্র। পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballot) ব্যবস্থাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস (Indian National Congress)-এর প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (Chief Election Commissioner) কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরে দাবি করেছেন, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress বা TMC)-এর কর্মী-সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে ভোটদানের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন। অধীররঞ্জনের অভিযোগ অনুযায়ী, বহরমপুরের ৭২ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রে যাঁরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন, তাঁদের মধ্যে অনেককেই ভয় দেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে সার্ভিস ভোটার এবং নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘যোগ্য ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না, নানা ভাবে তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।’ এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : India Vietnam relations, To Lam Narendra Modi congratulations | ভিয়েতনামের নতুন প্রেসিডেন্ট তো লামকে অভিনন্দন মোদীর, ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত

চিঠিতে অধীররঞ্জন আরও জানিয়েছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি শুধুমাত্র নির্বাচনী নিয়ম ভঙ্গের উদাহরণ নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর আঘাত হানছে। তাঁর কথায়, ‘এলাকায় এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে বহু মানুষ নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।’ তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়। এই প্রসঙ্গে অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) একাধিক দাবিও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনকে অবিলম্বে সক্রিয় হয়ে পোস্টাল ব্যালটের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যাঁরা এই ধরনের বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

এই অভিযোগ ঘিরে শাসকদলের প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -এর মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার প্রবীণ নেতা অশোক দাস (Ashok Das) অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘অধীর চৌধুরী মিথ্যে অভিযোগ তুলতে অভ্যস্ত। বহরমপুরের মানুষ তাঁর এই স্বভাব সম্পর্কে অবগত, তাই এই ধরনের বক্তব্যের আলাদা গুরুত্ব নেই।’ শাসকদলের এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করেছে। বহরমপুর কেন্দ্রটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই বিধানসভা নির্বাচন তাঁর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় তিন দশক পর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকেও নজর রয়েছে।

ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। পোস্টাল ব্যালট সাধারণত সেই সব ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত হয়, যাঁরা নির্বাচনের দিন উপস্থিত থাকতে পারেন না, যেমন সরকারি কর্মচারী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। এই ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু না হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, সূত্রের খবর, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগ ভোটের আগে প্রায়শই সামনে আসে, যা নির্বাচনী উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভোট প্রক্রিয়ার উপর আস্থা বজায় থাকে। বহরমপুরের ভোটযুদ্ধ এবার আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে অভিজ্ঞ নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা, অন্যদিকে শাসকদলের শক্ত অবস্থান, এই পরিস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালট বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে নির্বাচনের ফলাফলে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আপাতত বহরমপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে, আর তার কেন্দ্রেই রয়েছে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ওঠা এই বিতর্ক।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Minakhan speech 2026 | মিনাখাঁর মঞ্চ থেকে মমতার চ্যালেঞ্জ: ‘৯০ লক্ষ নাম কেটে দিলেও জিতব’, বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে উত্তাল প্রচার

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন