Mamata Banerjee Minakhan speech 2026 | মিনাখাঁর মঞ্চ থেকে মমতার চ্যালেঞ্জ: ‘৯০ লক্ষ নাম কেটে দিলেও জিতব’, বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে উত্তাল প্রচার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ উত্তর চব্বিশ পরগণা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে। এই আবহে উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস -এর সর্বভারতীয় নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি বিজেপিকে (BJP) নিশানা করলেন। ভোটের ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি একদিকে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন, অন্যদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে কড়া সুরে আক্রমণ শানান। বৃহস্পতিবার তাঁর ঠাঁসা প্রচারসূচীর সূচনা হয় মিনাখাঁ থেকেই। হাড়োয়া সার্কাস ময়দানে আয়োজিত সভায় দলীয় প্রার্থী উষারানি মণ্ডল (Usharani Mondal) -এর সমর্থনে বক্তব্য রাখেন তিনি। একই দিনে পলতা (Palta), পানিহাটি (Panihati) এবং বাগুইআটিতেও (Baguiati) সভা করেন।

মিনাখাঁর সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘৯০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছ, মনে রেখো তাতেও আমরা জিতব।’ তাঁর এই মন্তব্য ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রকে চৈত্রমাসের সেলের মতো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।’ এই ভাষণে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্কবার্তাও দেন। সুন্দরবন (Sundarbans) প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘সুন্দরবনকে আলাদা জেলা করা হবে।’ তিনি বলেন, সাতটি নতুন জেলার পরিকল্পনার মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম। এই অঞ্চলের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রশাসনের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে বলেন, ‘প্রতি বছর বন্যা হলে আমি সেখানে যাই।’ অন্যদিকে, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের প্রসঙ্গেও একাধিক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘স্বর্ণধান নামে একটি নতুন ধান উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা চাষিদের লাভ দিচ্ছে।’ পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে ডায়মন্ড হারবারে (Diamond Harbour) গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল, এখন বাংলাতেই অনেক ইলিশ জন্মাচ্ছে।’ এই বক্তব্যে রাজ্যের কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন তুলে ধরার চেষ্টা দেখা যায়।

আরও পড়ুন : WB Assembly Elections 2026, Mamata Banerjee NRC statement | ভোটের মঞ্চে মমতার কড়া বার্তা: ‘মানুষ যদি ভোটই দিতে না পারে, ট্রাইবুনাল রেখে লাভ কী?’ হুগলিতে সরব মুখ্যমন্ত্রী

সরকারি প্রকল্পের সংখ্যা নিয়েও তিনি বলেন, ‘১০৫টি প্রকল্প রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই।’ তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যুবকদের কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে, সব কাঁচা বাড়ি পাকা করা হবে, দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘ওরা মহিলা, কৃষক, শ্রমিক এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি জোর করে বাংলার দখল নিতে চাইছে। খাদ্যাভ্যাস নিয়েও আক্রমণ করে বলেন, ‘ওদের রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়ার উপর নানা বিধিনিষেধ রয়েছে।’

ভোটের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বর্ডার এলাকায় প্রচুর বাহিনী আনা হচ্ছে, যাতে মানুষ ভোট দিতে না পারে।’ পাশাপাশি ইভিএম (EVM) নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘যদি কোনও মেশিন খারাপ থাকে, সেই মেশিনে ভোট দেবেন না।’ প্রচারে অর্থব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রচার চালানো হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, এই বিপুল অর্থব্যয়ের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভুল করে একটাও ভোট দিলে আপনার অস্তিত্ব, পরিচয়, সম্মান, সব বিপন্ন হতে পারে।’ উল্লেখ্য, মিনাখাঁর সভা থেকে দেওয়া এই বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে উন্নয়ন ও প্রকল্পের তালিকা, অন্যদিকে ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ, দুই দিকেই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তৃণমূল নেত্রী।

রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এই অঞ্চলে ভোটের ফলাফল বহু ক্ষেত্রে রাজ্যের সামগ্রিক সমীকরণ নির্ধারণে ভূমিকা নেয়। মমতার এই সভা ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। মঞ্চের সামনে বিপুল জনসমাগমে নির্বাচনী আবহ আরও ঘন হয়েছে। পরবর্তী সভাগুলিতেও একই সুর বজায় রাখবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। অপরদিকে, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মিনাখাঁর সভা সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Kerala Development Projects 11000 Crore | কেরলের উন্নয়নে ১১ হাজার কোটির প্রকল্প উদ্বোধন, কোচিতে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, জোর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও সবুজ শক্তিতে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন