পার্বতী কাশ্যপ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ভালবাসা, সম্পর্ক আর কাছের মানুষের উপস্থিতিএই তিনটি শব্দ জীবনের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে থাকে, যা আলাদা করে ব্যাখ্যা করা কঠিন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটাই প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে, যে মানুষটিকে আপনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, সে কি আপনাকে সময় দিচ্ছে? নাকি ব্যস্ততার আড়ালে কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে সম্পর্কের টান? প্রতিদিন আমাদের হাতে থাকে মাত্র ২৪ ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যেই কাজ, দায়িত্ব, সামাজিকতা এসব কিছুই সামলে নিতে হয়। তবু এই ব্যস্ততার মাঝেই যদি কেউ আপনার জন্য সময় বের করে, সেটাই হয়ে ওঠে সম্পর্কের আসল পরীক্ষা। অনেকেই মনে করেন, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বড় বড় কথা বা দামী উপহার দরকার। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা, সময়ই আসল বিনিয়োগ।
সম্পর্ক বিশ্লেষণে মনোবিদরা প্রায়ই একটি বিষয় উল্লেখ করেন, ‘যেখানে ইচ্ছে থাকে, সেখানে সময় তৈরি হয়।’ এই ছোট্ট বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর অর্থ। কারণ কেউ যদি সত্যিই কাউকে গুরুত্ব দেয়, তবে সে নিজের ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে নেবে। আর যদি সেই ইচ্ছে না থাকে, তবে হাজার অজুহাতও যথেষ্ট হয়ে ওঠে দূরত্ব তৈরি করার জন্য।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়া, কাজের চাপ, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, এসব কিছু মিলিয়ে মানুষ এখন অনেক বেশি ব্যস্ত। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেও দেখা যায়, কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য সময় রাখেন। কারণ সেই সম্পর্ক তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, সময় দেওয়া আসলে একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। একজন তরুণী, মেঘলা সেন (Meghla Sen), বলেন, ‘দিনের শেষে আমি বুঝেছি, যে মানুষটা আমাকে সত্যিই গুরুত্ব দেয়, সে ব্যস্ত থাকলেও আমার সঙ্গে কথা বলার সময় বের করে নেয়।’ তাঁর এই উপলব্ধি অনেকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যায়। সম্পর্কের টান বুঝতে গেলে কথার চেয়ে কাজের গুরুত্ব বেশি। মনোবিদ অরিন্দম চক্রবর্তীর (Arindam Chakraborty) মতে, ‘সম্পর্কে সময় দেওয়া মানে শুধু শারীরিক উপস্থিতি নয়, মানসিক উপস্থিতিও জরুরি।’ অর্থাৎ, আপনি যদি কারও পাশে থেকেও অন্য দিকে মন দেন, তবে সেই সময়ের মূল্য কমে যায়। তাই সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য সময়ের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ।
এখানেই আসে ‘ইচ্ছে’ এবং ‘টান’ -এর প্রসঙ্গ। অনেক সময় আমরা নিজেরাই বুঝতে পারি না, অন্যজন আমাদের জন্য কতটা আগ্রহী। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে, যার মনে টান থাকে, সে নিজে থেকেই যোগাযোগ রাখে। ফোন করে, মেসেজ পাঠায়, খোঁজ নেয়। কোনও চাপ বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই এই যোগাযোগ বজায় থাকে। অন্য দিকে, যখন সম্পর্কের মধ্যে ইচ্ছে কমে যায়, তখন সময় দেওয়ার প্রবণতাও কমে। দেখা যায়, বারবার অজুহাত তৈরি হচ্ছে, কথা বলার সময় মিলছে না, কিংবা দেখা করার পরিকল্পনা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনই আসলে বড় ইঙ্গিত দেয়। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘আপনি যদি বারবার ভাবেন কেন কেউ আপনাকে সময় দিচ্ছে না, তবে সেই প্রশ্নটাই অনেক কিছু বলে দেয়।’ অর্থাৎ, যেখানে ভালোবাসা থাকে, সেখানে সন্দেহ কম থাকে। আর যেখানে সন্দেহ বাড়ে, সেখানে সময়ের অভাবই অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যে, নিজের প্রত্যাশা বোঝা। অনেক সময় আমরা অন্যের কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করি, যা বাস্তবসম্মত নয়। তাই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে নিজের চাহিদা এবং অন্যের সামর্থ্যের মধ্যে সমন্বয় রাখা জরুরি। কিন্তু একটা বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই, সময়ই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কেউ যদি সত্যিই আপনার জীবনে থাকতে চায়, তবে সে কোনও না কোনওভাবে আপনার জন্য সময় বের করবে। আর যদি না চায়, তবে সেই শূন্যতা ধীরে ধীরে অনুভব করা যাবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দ্রুতগতির জীবনে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সহজ নয়। তবু যারা সময়ের মূল্য বোঝে, তারা সম্পর্ককেও গুরুত্ব দেয়। কারণ তারা জানে, সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই, আপনার প্রিয় মানুষটি কী আপনাকে সময় দিচ্ছে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সেই সম্পর্ককে যত্নে রাখুন। আর যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে হয়তো নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : quick cooking tips for busy People, Smart Kitchen | সকালের দৌড়ে হাঁসফাঁস? কয়েক মিনিটেই রান্না সেরে ফেলুন, স্মার্ট কিচেন টোটকায় বদলে যাবে রুটিন



