প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : নব্বইয়ের দশকের বলিউডে যাঁরা সৌন্দর্য ও অভিনয়ের ছাপ রেখে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম নাম সোনালি বেন্দ্রে (Sonali Bendre)। আজও তাঁর রূপ ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ কমেনি। কিন্তু এই উজ্জ্বল সাফল্যের পেছনে রয়েছে এমন এক অতীত, যেখানে তাঁকে চেহারার জন্য নিয়মিত কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী, যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ছিপছিপে গড়ন এবং দীর্ঘকায় চেহারা, আজকের দিনে যা তাঁর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ধরা হয়, সেই বিষয়গুলিই একসময় তাঁর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্কুলজীবনে সহপাঠীদের কাছ থেকে নানা ধরনের তির্যক মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে সোনালি বলেন, ‘প্রশংসা? খুব কমই পেয়েছি। এখন মানুষ আমার চেহারার প্রশংসা করে, কিন্তু একসময় অনেক খারাপ কথা শুনতে হয়েছে।’ তাঁর কথায় ধরা পড়ে, ছোটবেলার সেই পরিস্থিতি কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।
শুধু সাধারণ কটাক্ষ নয়, সহপাঠীদের দেওয়া কিছু ডাকনামও তাঁকে দীর্ঘদিন মনে রাখতে হয়েছে। নিজের কথাতেই তিনি জানান, ‘আমাকে অনেকেই ল্যাম্পপোস্ট বলত। কেউ কেউ আবার জিরাফ বলে ডাকত, কারণ আমার গলা লম্বা ছিল।’ এই মন্তব্যগুলো যে তাঁর কানে পৌঁছত, তা স্বীকার করলেও তিনি জানান, সেই সময় বিষয়গুলোকে তিনি অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করতেন। তাঁর ভাষায়, ‘এসব নিয়ে আমি খুব একটা ভাবতাম না। মজা হিসেবেই নিতাম।’ বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্যগুলো শুনলে অবাক হতে হয়। কারণ, আজকের দিনে সোনালি বেন্দ্রের সেই দীর্ঘকায় গড়ন ও লম্বা গলাই তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম আকর্ষণ। ফ্যাশন দুনিয়া থেকে সিনেমা, সর্বত্রই তাঁর এই বৈশিষ্ট্য প্রশংসিত। কিন্তু একসময় যে বিষয়গুলো নিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয়েছিল, সেগুলিই পরবর্তীতে তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
স্কুলজীবনে সহপাঠীদের মধ্যে মশকরা চললেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়েও তিনি নজর কেড়েছিলেন। পরবর্তীতে কলেজে পড়ার সময় থেকেই মডেলিং জগতে পা রাখেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর গ্ল্যামার জগতের যাত্রা। মডেলিংয়ের সাফল্য তাঁকে খুব দ্রুত সিনেমার জগতে নিয়ে আসে। বলিউডে তাঁর অভিষেক হয় গোবিন্দ (Govinda) -এর বিপরীতে ‘আগ’ (Aag) ছবির মাধ্যমে। যদিও প্রথম ছবি বিশেষ সাফল্য পায়নি, তবুও তিনি থেমে থাকেননি। পরবর্তীতে একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
‘দিলজলে’ (Diljale), ‘ডুপ্লিকেট’ (Duplicate), ‘জখম’ (Zakhm), ‘সরফরোশ’ (Sarfarosh)-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর উপস্থিতি ও স্ক্রিন প্রেজেন্স তাঁকে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী করে তোলে। সেই সময়ের অন্যান্য নায়িকাদের মধ্যে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি। উল্লেখ্য, সোনালি বেন্দ্রের এই যাত্রাপথ নিজেকে গ্রহণ করারও এক উদাহরণ। সমাজে চেহারা নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য বা চাপ তৈরি হয়, তা অনেকের ক্ষেত্রেই মানসিক প্রভাব ফেলে। কিন্তু তিনি সেই পরিস্থিতিকে নিজের শক্তিতে পরিণত করেছেন।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি যথেষ্ট সক্রিয়। নিজের অভিজ্ঞতা, জীবনযাপন এবং ভাবনা ভাগ করে নেন অনুরাগীদের সঙ্গে। তাঁর এই খোলামেলা মনোভাব অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। চেহারা নিয়ে কটাক্ষ থেকে প্রশংসা, এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সোনালি বেন্দ্রে প্রমাণ করেছেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলায়। যে বিষয় একসময় উপহাসের কারণ ছিল, সেটিই পরে প্রশংসার জায়গা করে নেয়। তাঁর জীবনের এই অধ্যায় নতুন প্রজন্মের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সোনালি বেন্দ্রে একজন সফল অভিনেত্রী, এবং নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অন্যদের কাছে এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরার মুখ। তাঁর এই যাত্রাপথ দেখায়, বাহ্যিক মন্তব্যের বাইরে গিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করাই আসল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Zaheer Marriage | সোনাক্ষী-জাহির বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শত্রুঘ্ন সিন্হা, জল্পনায় ইতি



