শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বর্তমান সময়ে সুস্থ জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মানুষের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে প্রোটিন (Protein) সমৃদ্ধ খাবার নিয়ে সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত প্রোটিন বলতে ডিম, মাংস বা ডালজাতীয় খাদ্যের কথাই আগে মনে পড়ে। তবে অনেকেই জানেন না, কিছু ফলও রয়েছে যেগুলিতে তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রোটিন থাকে এবং নিয়মিত খেলে শরীরের নানা উপকার হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, উচ্চ-প্রোটিন ফল (High-Protein Fruits) বলতে এমন ফলকে বোঝানো হয়, যেগুলিতে প্রতি কাপ পরিবেশনে প্রায় ১ থেকে ৪ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন থাকে। যদিও এই পরিমাণ প্রাণিজ উৎসের তুলনায় কম, তবুও এই ফলগুলিতে প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবার, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উপস্থিতি শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন : Boiled Egg : শুধু ডিম সেদ্ধ নয়, প্রাতঃরাশ চাই পুষ্টিতে ভরপুর
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন, পেশি রক্ষণাবেক্ষণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’ পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন হরমোন ও এনজাইম তৈরিতেও প্রোটিন অপরিহার্য। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (American Heart Association) অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতিদিন ০.৮ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে ফলের মাধ্যমে প্রোটিন গ্রহণ একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, ফলের প্রাকৃতিক ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ‘ফল থেকে পাওয়া প্রোটিন শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং সামগ্রিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।’ তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই ধরনের ফল অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পেয়ারা (Guava)। প্রতি কাপে প্রায় ৪.২ গ্রাম প্রোটিন থাকে এই ফলে, যা অনেক ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবারের সঙ্গে তুলনীয়। এর সঙ্গে রয়েছে ভিটামিন সি (Vitamin C) -এর উচ্চ মাত্রা, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কাঁঠাল (Jackfruit) আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফল, যেখানে প্রতি কাপে প্রায় ২ থেকে ৩ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এটি বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য এবং অনেক সময় উদ্ভিজ্জ ‘মাংসের বিকল্প’ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এপ্রিকট (Apricot) -এ রয়েছে প্রায় ২.৩ গ্রাম প্রোটিন প্রতি কাপে। পাশাপাশি এতে বিটা-ক্যারোটিন ও পটাশিয়াম শরীরের জন্য উপকারী। ব্ল্যাকবেরিতে (Blackberry) প্রতি কাপে প্রায় ২ গ্রাম প্রোটিনের পাশাপাশি ৮ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। কিউই (Kiwi)-তেও রয়েছে প্রায় ২ গ্রাম প্রোটিন এবং এটি ভিটামিন সি-র অন্যতম উৎস। চেরিতে (Cherry) থাকা অ্যান্থোসায়ানিন পেশি পুনরুদ্ধারে সহায়ক বলে মনে করা হয়, যেখানে প্রতি কাপে প্রায় ১.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।
কলা (Banana) দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে সহজলভ্য ফলগুলির একটি। এতে ১.৩ থেকে ১.৬ গ্রাম প্রোটিনের পাশাপাশি পটাশিয়াম রয়েছে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ডালিমের দানাতেও (Pomegranate Seeds) প্রায় ১.৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়, যা শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। রাস্পবেরি (Raspberry) ফাইবার ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ একটি ফল, যেখানে প্রায় ১.৫ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাভোকাডোতে (Avocado) ২ থেকে ৩ গ্রাম প্রোটিনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে, যা শরীরে পুষ্টি শোষণ বাড়ায়।
খাদ্যতালিকায় এই ফলগুলি অন্তর্ভুক্ত করা খুব কঠিন নয়। সকালের নাশতায় স্মুদি বা ওটমিলে পেয়ারা বা কাঁঠাল যোগ করা যেতে পারে। জলখাবার হিসেবে চেরি বা ডালিম খাওয়া যেতে পারে। আবার সালাড বা দইয়ের সঙ্গে এই ফল মিশিয়ে খেলে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ে। রান্নাতেও এই ফলগুলির ব্যবহার সম্ভব। বিশেষ করে কাঁঠাল বিভিন্ন পদে ব্যবহার করে প্রোটিনসমৃদ্ধ নিরামিষ বিকল্প তৈরি করা যায়। মিষ্টির ক্ষেত্রেও বেরি বা অ্যাভোকাডো ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর বিকল্প তৈরি করা সম্ভব। আবার, নিরামিষভোজী ও ভেগানদের জন্য এই ফলগুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এগুলিতে প্রাণিজ উপাদান না থাকলেও প্রোটিনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। বাদাম, বীজ বা ডালজাতীয় খাদ্যের সঙ্গে এই ফলগুলিকে মিলিয়ে খেলে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ফল কখনও প্রধান প্রোটিন উৎসের বিকল্প নয়, তবে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে এবং পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’ তাই প্রতিদিনের খাবারে এই ফলগুলি অন্তর্ভুক্ত করলে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়। উল্লেখ্য, আজকের ব্যস্ত জীবনে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সহজলভ্য এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলগুলি নিয়মিত খেলে সুস্থ জীবনযাপনের পথে এগনো আরও সহজ হয়ে উঠবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : GSI Mineral Exploration India | ১৭৫ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়! খনিজ অনুসন্ধানে রেকর্ড সাফল্য, অ্যান্ডামানে মিলল প্রাকৃতিক হাইড্রোজেন, জিএসআইয়ের বড় ঘোষণা




