সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India বা ECI)। বিশেষ করে ভোটের দিন এবং তার আগের দিন প্রিন্ট মিডিয়ায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে চান, তবে তা আগে থেকেই ‘মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি’ (Media Certification and Monitoring Committee বা MCMC)-র অনুমোদন নিতে হবে। গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে অসম (Assam), কেরল (Kerala), পুদুচেরি (Puducherry), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) এবং পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর বিধানসভা নির্বাচনের সূচী ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি রাজ্যে উপনির্বাচনের কথাও জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘ভোটের দিন এবং তার আগের দিনে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশের আগে এমসিএমসি-র অনুমোদন বাধ্যতামূলক।’ এর উদ্দেশ্য হল ভোটারদের সামনে বিভ্রান্তিকর বা পক্ষপাতমূলক তথ্য পৌঁছানো আটকানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ রাখা। এই ব্যবস্থার আওতায় জেলা স্তরে এবং রাজ্য স্তরে এমসিএমসি গঠন করা হয়েছে। কোনও প্রার্থী বা ব্যক্তি জেলা স্তরের কমিটির কাছে আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, যেসব রাজনৈতিক দলের সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত, তারা রাজ্য স্তরের কমিটির কাছে বিজ্ঞাপনের অনুমোদনের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে সময়সূচীও জানিয়ে দিয়েছে। অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতে ভোট গ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল ২০২৬। সেই ক্ষেত্রে ৮ ও ৯ এপ্রিল, এই দুই দিনে প্রকাশিত হতে যাওয়া বিজ্ঞাপনের জন্য আগাম অনুমোদন নিতে হবে। তামিলনাড়ুতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল, তাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল প্রিন্ট বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দুই দফায় ভোট গ্রহণ হবে। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল ও দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ফলে প্রথম দফার জন্য ২২ ও ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এই নির্দিষ্ট দিনগুলিতে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এমসিএমসি-এর পূর্ব অনুমোদন আবশ্যক। কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বিজ্ঞাপন প্রকাশের নির্ধারিত তারিখের অন্তত দুই দিন আগে আবেদন জমা দিতে হবে। একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিলে দ্রুত যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’
এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই রাজ্য ও জেলা স্তরের এমসিএমসি-গুলিকে সক্রিয় করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব থাকবে জমা পড়া বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করা। এর মাধ্যমে ভোটের আগে প্রচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু বিজ্ঞাপন অনুমোদনই নয়, এমসিএমসি-র উপর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে ‘পেইড নিউজ’ বা অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত খবরের সন্দেহজনক ঘটনাগুলির উপর নজরদারি চালাবে এই কমিটি। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘যে কোনও ধরনের পেইড নিউজ শনাক্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
নির্বাচনের সময় প্রিন্ট মিডিয়া এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে গ্রামীণ এবং আধা-শহুরে অঞ্চলে। তাই এই মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাতে সঠিক ও নিরপেক্ষ থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সংবাদপত্র ও বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও তা সমান প্রাসঙ্গিক। কারণ, অনুমোদন ছাড়া কোনও বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপর বর্তাবে। এই নতুন নিয়ম চালু হওয়ার ফলে নির্বাচনী প্রচারের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলিকে এখন প্রচারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রসঙ্গত, ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভোটের আগে তথ্যপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Election Commission ad ban Kerala | ভোটের আগে ‘নো অ্যাড’ বিধিনিষেধ! কেরলে কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের, প্রিন্ট মিডিয়ায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিয়ে নতুন নিয়ম




