Ganga Plain agriculture history, ancient farming India | গঙ্গা সমভূমির কৃষির অতীত উন্মোচনে নতুন গবেষণা, পরাগ বিশ্লেষণে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভারতের কৃষির ইতিহাস নিয়ে নতুন দিশা দেখাল এক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা। গঙ্গা সমভূমিকে (Ganga Plain) কেন্দ্র করে পরিচালিত এই গবেষণায় ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের পরাগ কণার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে চাষের প্রাচীন ধারা ও মানুষের বসবাসের ইতিহাস সম্পর্কে এক নতুন জানালা খুলে গেল। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বহু হাজার বছর আগে কৃষিকাজের সূচনা ও তার বিস্তার সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব। ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যশস্য উৎপাদক দেশ, বিশেষ করে গম (Wheat) ও ধান (Rice) -এর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কিন্তু এই কৃষির শিকড় কতটা গভীরে এবং কীভাবে তা বিস্তার লাভ করেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছিল। নতুন এই গবেষণায় সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি কার্যকর পদ্ধতি সামনে এসেছে। গবেষণার অন্যতম দিক হল চাষযোগ্য ফসলের পরাগ এবং বন্য ঘাসের পরাগের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা। এতদিন পর্যন্ত এই দুই ধরনের পরাগ দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় সেগুলিকে আলাদা করা কঠিন ছিল। একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘মাইক্রোস্কোপে পর্যবেক্ষণে এই পরাগগুলির মধ্যে পার্থক্য বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল, ফলে কৃষির ইতিহাস নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা ছিল।’

আরও পড়ুন : Anubhav Awards 2026 India, DoPPW Anubhav scheme participation | ‘অভিজ্ঞতা’ উদ্যোগে দৃষ্টান্ত, ২১৪১টি প্রবন্ধ প্রকাশ, জাতীয় অভিজ্ঞতা পুরস্কার ২০২৬-এ রেকর্ড অংশগ্রহণ

বিরবল সাহনি ইনস্টিটিউট অফ প্যালিওসায়েন্সেস (Birbal Sahni Institute of Palaeosciences বা BSIP) -এর গবেষকরা এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের (Department of Science and Technology বা DST) অধীনস্থ এই সংস্থার বিজ্ঞানীরা ২২টি ভিন্ন প্রজাতির ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের পরাগ বিশ্লেষণ করেন। এই গবেষণায় লাইট মাইক্রোস্কোপি (Light Microscopy), কনফোকাল লেজার স্ক্যানিং মাইক্রোস্কোপি (Confocal Laser Scanning Microscopy) এবং ফিল্ড এমিশন স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি (Field Emission Scanning Electron Microscopy) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ‘বায়োমেট্রিক থ্রেশহোল্ড’ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চাষযোগ্য শস্য ও বন্য ঘাসের পরাগ আলাদা করতে সাহায্য করবে। গবেষণায় উঠে এসেছে, ‘সাধারণভাবে চাষযোগ্য শস্যের পরাগের ব্যাস ৪৬ মাইক্রোমিটারের বেশি এবং অ্যানুলাসের আকার ৯ মাইক্রোমিটারের বেশি হয়, যেখানে বন্য ঘাসের ক্ষেত্রে এই মানগুলি কম থাকে।’ তবে পার্ল মিলেট (Pearl Millet) -এর ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছে।

গঙ্গা সমভূমি অঞ্চলে এই গবেষণা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের কৃষির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ হয় এবং কৃষির বৈচিত্র্যও বেশি। গবেষণার একটি অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই অঞ্চলের স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও নির্ভুল বিশ্লেষণে সহায়ক হবে।’ এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. স্বাতী ত্রিপাঠী (Dr. Swati Tripathi)। তিনি বিএসআইপি (BSIP), লখনউ (Lucknow) -এর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট। তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন ড. আরতি গর্গ (Dr. Arti Garg) (বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, Botanical Survey of India, প্রয়াগরাজ), আর্য পাণ্ডে (Arya Pandey), অনুপম শর্মা (Anupam Sharma), প্রিয়াঙ্কা সিং (Priyanka Singh) (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ জিওম্যাগনেটিজম, Indian Institute of Geomagnetism, মুম্বই) এবং অংশিকা সিং (Anshika Singh) (লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়, Lucknow University)। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য হোলোসিন’ (The Holocene বা SAGE Publication) নামক আন্তর্জাতিক পত্রিকায়। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভারতীয় তথ্যভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা আগে ইউরোপীয় ডেটাবেসের উপর নির্ভরশীল ছিল। এই পদ্ধতির মাধ্যমে শুধু কৃষির ইতিহাস নয়, পরিবেশগত পরিবর্তন, বন উজাড় এবং মানুষের বসবাসের ধারা সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সম্ভব। কারণ পরাগ কণা দীর্ঘ সময় ধরে মাটির স্তরে সংরক্ষিত থাকে এবং সেগুলির বিশ্লেষণ করে অতীতের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

একটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘পরাগ কণার বিন্যাস বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় কোন সময়ে কোন ধরনের উদ্ভিদ বেশি ছিল এবং মানুষের প্রভাব কীভাবে পরিবেশকে পরিবর্তিত করেছে।’ এর ফলে প্রাচীন সমাজ কীভাবে কৃষির মাধ্যমে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন করেছে, তা বোঝা আরও সহজ হবে। এই গবেষণা ভবিষ্যতে প্রত্নতত্ত্ব, পরিবেশবিদ্যা এবং কৃষি ইতিহাসের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। বিশেষ করে গঙ্গা সমভূমির মতো উর্বর অঞ্চলে মানুষের বসবাস ও কৃষির বিস্তার সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারতের কৃষি ব্যবস্থার শিকড় অন্বেষণে এই গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। অতীতের তথ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের কৃষি পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Nandigram Bhabanipur | নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর : আবার মমতা বনাম শুভেন্দু! ১৪৪ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা বিজেপির, চমক একাধিক কেন্দ্রে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন