Election Commission ad ban Kerala | ভোটের আগে ‘নো অ্যাড’ বিধিনিষেধ! কেরলে কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের, প্রিন্ট মিডিয়ায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিয়ে নতুন নিয়ম

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তিরুবন্তপুরম : ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই কড়া হচ্ছে নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। এবার সংবাদপত্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কেরলে (Kerala) আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণের আগের দিন এবং ভোটের দিন প্রিন্ট মিডিয়ায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছেন কেরলের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক রতন ইউ কেলকার (Ratan U Kelkar)। সূত্রের খবর, আগামী ৯ এপ্রিল কেরলের ১৪০টি বিধানসভা কেন্দ্রে এক দফায় ভোটগ্রহণ হবে। সেই প্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিল এবং ৯ এপ্রিল, এই দুই দিনে সংবাদপত্র, পত্রিকা সহ সমস্ত প্রিন্ট মিডিয়ায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে একেবারে সম্পূর্ণ নিষেধ নয়, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যাবে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)

এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘এই সময়ের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হলে তার বিষয়বস্তু আগে থেকেই অনুমোদন করাতে হবে।’ এই অনুমোদন দেবে মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি (Media Certification and Monitoring Committee বা MCMC), যা রাজ্য বা জেলা স্তরে কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ, কমিশনের অনুমতি ছাড়া কোনও রাজনৈতিক বার্তা বা প্রচার সংবাদপত্রে প্রকাশ করা যাবে না। কেরলের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক রতন ইউ কেলকার এই পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর বা উস্কানিমূলক বিজ্ঞাপন পুরো প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের ঠিক আগের সময়ে এই ধরনের প্রচার অন্য দল বা প্রার্থীদের পক্ষে দ্রুত জবাব দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের (Article 324) আওতায় নির্বাচন কমিশন যে ক্ষমতা পায়, তার ভিত্তিতেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা, তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কমিশনের উপর বর্তায়। ফলে নির্বাচনী পরিবেশকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যারা বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে চান, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ‘প্রস্তাবিত বিজ্ঞাপন প্রকাশের অন্তত দু’দিন আগে এমসিএমসি-র কাছে খসড়া জমা দিতে হবে’ এই শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, শেষ মুহূর্তে বিজ্ঞাপন প্রকাশের সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রে প্রচার নির্ভরতা যাদের বেশি, তাদের নতুনভাবে পরিকল্পনা করতে হতে পারে। যদিও ডিজিটাল মাধ্যম বা জনসভা এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়ছে না, তবুও প্রিন্ট মিডিয়ায় নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) -সহ অন্যান্য রাজ্যেও এই ধরনের নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, এখানে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ রয়েছে। ফলে একই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের সময় প্রচার এবং বিজ্ঞাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সেই প্রচার যদি বিভ্রান্তি বা উত্তেজনা তৈরি করে, তাহলে ভোটের পরিবেশ প্রভাবিত হতে পারে। সেই জায়গা থেকেই নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও বড় কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে অভ্যন্তরীণভাবে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেই সূত্রের খবর। অনেকেই মনে করছেন, এই নিয়ম কার্যকর হলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে আচমকা প্রচার কৌশল বদলে দেওয়া বা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা কিছুটা কমবে।

এছাড়াও ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কারণ, অনুমোদিত বিজ্ঞাপনই প্রকাশ পাবে, ফলে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কমবে। নির্বাচন কমিশনের এই নতুন পদক্ষেপ কেবল কেরলেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দেশজুড়ে ধীরে ধীরে চালু হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত বলা যায়, ভোটের আগে প্রচার নিয়ন্ত্রণে কমিশন আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Paid holiday polling day India 2026, election commission voting leave rule | ভোটের দিন ছুটি বাধ্যতামূলক, মজুরি কাটা যাবে না, নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে স্বস্তি কর্মীদের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন