সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাগরদিঘি কেন্দ্র বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এবার সেই কেন্দ্রেই ফের প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস -এর নেতা বাইরন বিশ্বাস (Byron Biswas)। ভোটের আগে তাঁর হলফনামায় প্রকাশিত আয়, সম্পত্তি ও অন্যান্য তথ্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও জনমুখী আলোচনা। গত পাঁচ বছরে তাঁর আয়ের বৃদ্ধি, স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ এবং আর্থিক উৎস নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আগ্রহ। নির্বাচনী নথিতে উঠে এসেছে, ‘গত কয়েক বছরে তাঁর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে’। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে যেখানে বাইরনের আয় ছিল প্রায় ৩৯ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৮ লক্ষ ৭১ হাজার টাকায়। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সামান্য হ্রাস পেয়ে আয় হয়েছে প্রায় ৮৬ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের ব্যবধানে তাঁর আয় প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
শুধু বাইরন নন, তাঁর স্ত্রী সুরিয়া বিশ্বাস (Suria Biswas) -এর আয় বৃদ্ধিও নজর কেড়েছে। ২০২০-২১ সালে যেখানে তাঁর আয় ছিল প্রায় ২৬ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা, তা ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে প্রায় ৯১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ফলে পরিবারগত আয়ের বৃদ্ধি নিয়েও শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। হলফনামা অনুযায়ী, বাইরন বিশ্বাস নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা বলেই জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর আয়ের উৎসও ব্যবসা বলেই জানানো হয়েছে।
সম্পত্তির দিক থেকে দেখলে সংখ্যাগুলি আরও চমকপ্রদ। বাইরনের নামে মোট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৮২ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে রয়েছে কৃষিজমি (Agricultural Land) ও বাস্তুজমি (Residential Land)। প্রায় ২.৭৯৩ একর কৃষিজমির মূল্য ধরা হয়েছে ৬৬ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। অন্যদিকে, বাস্তুজমির মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি। সুরিয়া বিশ্বাসের নামে স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার বেশি। এছাড়া বিভিন্ন বিনিয়োগ, ব্যাঙ্কে আমানত, বন্ড ইত্যাদি মিলিয়ে বাইরনের মোট আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটিরও বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে। নগদ অর্থের পরিমাণও প্রকাশ পেয়েছে হলফনামায়। বাইরনের কাছে নগদ রয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা, আর তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৮৫ হাজার টাকা। এই তথ্যগুলিও জনমানসে কৌতূহল তৈরি করেছে।
সম্পত্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও আর্থিক সংস্থা থেকে মোট প্রায় ৭ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছেন বাইরন বিশ্বাস। ফলে তাঁর আর্থিক কাঠামো নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক যাত্রাপথের দিক থেকেও বাইরন বিশ্বাসের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেস (Congress) -এর টিকিটে তিনি জয়লাভ করেন। তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Debasish Banerjee) প্রায় ২২ হাজার ৯৮০ ভোটে হারিয়ে নজর কেড়েছিলেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর জনসংযোগ কর্মসূচীর সময় তাঁর দলে যোগদান বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলতে থাকে।
অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি বিষয়ও সামনে এসেছে। ২০২৩ সালে শামসেরগঞ্জ (Shamsherganj) থানায় তাঁর নামে একটি এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ ছিল বেআইনিভাবে একটি বাড়িতে প্রবেশ এবং চুরির চেষ্টা। যদিও ওই মামলায় এখনও পর্যন্ত কোনও চার্জ গঠন হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া একই বছরে আয়কর দফতরের (Income Tax Department) তরফে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল বলে খবর প্রকাশ্যে আসে। আয়কর সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ ঘিরেই সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। এই ঘটনাও তাঁর আর্থিক দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও তথ্য দেওয়া হয়েছে হলফনামায়। বাইরন বিশ্বাস উচ্চ মাধ্যমিক (Higher Secondary) পাশ। ২০০৫ সালে রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় (Rabindra Mukta Vidyalaya) থেকে তিনি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বলে উল্লেখ হলফ নামায়। উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন প্রার্থীদের সম্পত্তি, আয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হয়, তখন সেই তথ্যের ভিত্তিতে জনমত তৈরি হওয়াও স্বাভাবিক। সাগরদিঘির আসন্ন নির্বাচনে বাইরন বিশ্বাসকে ঘিরে এই তথ্যগুলি কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Zaheer Marriage | সোনাক্ষী-জাহির বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শত্রুঘ্ন সিন্হা, জল্পনায় ইতি




