সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। ভোটের দিনে সমস্ত কর্মচারী ও শ্রমিকদের জন্য বেতনসহ ছুটি নিশ্চিত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ‘প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।’ এই নির্দেশ কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ ২০২৬-এ নির্বাচন কমিশন অসম (Assam), কেরল (Kerala), পুদুচেরি (Puducherry), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) ও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) -এর বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে। পাশাপাশি গোয়া (Goa), গুজরাত (Gujarat), কর্ণাটক (Karnataka), মহারাষ্ট্র (Maharashtra), নাগাল্যান্ড (Nagaland) ও ত্রিপুরার (Tripura) ৮টি আসনে উপনির্বাচনের কথাও জানানো হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোট ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে অসম, কেরল, পুদুচেরি-সহ কয়েকটি রাজ্যে। অন্যদিকে তামিলনাড়ু, গুজরাত, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। পশ্চিমবঙ্গে আবার দ্বিতীয় দফার ভোট নির্ধারিত হয়েছে ২৯ এপ্রিল। এই প্রেক্ষাপটে ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কমিশন ‘Representation of the People Act, 1951’ -এর ১৩৫বি ধারা কার্যকর করার উপর জোর দিয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, যেকোনও প্রতিষ্ঠান, তা ব্যবসা, শিল্প বা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেই হোক, সেখানে কর্মরত প্রত্যেক ভোটারকে ভোটের দিনে বেতনসহ ছুটি দিতে হবে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘এই ছুটির জন্য কোনও কর্মীর মজুরি কাটা যাবে না।’
এছাড়াও কমিশন সতর্ক করেছে, যদি কোনও নিয়োগকর্তা এই নিয়ম অমান্য করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। ফলে সরকারী ও বেসরকারী দুই ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। এই পদক্ষেপের ফলে বহু কর্মজীবী মানুষের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, কারণ অনেক সময় কাজের চাপে ভোট দিতে যাওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দৈনিক মজুরিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রেও। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁরাও ভোটের দিনে বেতনসহ ছুটির অধিকার পাবেন। এই বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘দৈনিক মজুরি বা অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।’ ফলে শ্রমজীবী মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন আরও সক্রিয় হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন। অনেক কর্মী তাঁদের কর্মস্থলের বাইরে অন্য এলাকায় ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত থাকেন। তাঁদের জন্যও বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ‘যে ভোটাররা নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত, তাঁদেরও ভোটদানের জন্য ছুটি দিতে হবে।’ এর ফলে দূরবর্তী কর্মস্থলে থাকা ভোটারদের জন্য ভোট দিতে যাওয়া সহজ হবে।
এই নির্দেশ কার্যকর করতে সব রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এই বিষয়টি নজরদারির আওতায় রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। যাতে কোনও ভোটার ভোটদান থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এই কড়াকড়ি। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ নাগরিকের মৌলিক দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে কোনও বাধা না থাকে তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম কাজ। কর্মজীবী মানুষের ক্ষেত্রে এই বাধা দূর করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীরা ছুটি না পাওয়ায় ভোট দিতে পারেননি। এবার সেই সমস্যার সমাধানে আগেভাগেই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। এতে ভোটদানের হারও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন এই নির্দেশ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হল ভোটাধিকার, আর তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : TEAM scheme India MSME, ONDC onboarding MSME India | ডিজিটাল বাণিজ্যে নতুন দিক: MSME-দের অনলাইন বাজারে এগিয়ে দিতে ‘TEAM’ প্রকল্প চালু করল কেন্দ্র, ONDC -এর মাধ্যমে বড় সুযোগ




