সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ৩ এপ্রিল ২০২৬ : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত, জামিনে মুক্ত বা অপরাধমূলক ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা জানতে রাজ্য পুলিশের কাছে স্টেটাস রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। এই নির্দেশ ঘিরে প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা যেমন বেড়েছে, তেমনই রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সূত্রের খবর, দুপুর ১২টার মধ্যে এই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে, যাতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকে, কার কার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কোথায় কোথায় এখনও তা কার্যকর হয়নি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনও পক্ষপাত বা প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার জেলাশাসক (District Magistrate) ও পুলিশ সুপারদের (Superintendent of Police) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই বৈঠকেই বলা হয়েছিল, যাঁদের নিরাপত্তা ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে বিবেচিত, তাঁদের সুরক্ষা রাত ১২টার মধ্যে তুলে নিতে হবে। এই নির্দেশ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেটিই এখন খতিয়ে দেখতে চাইছে কমিশন। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে কমিশন আরও জানায়, যাঁরা পদমর্যাদা বা প্রকৃত হুমকির নিরিখে আর নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য নন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একইভাবে সুরক্ষা প্রত্যাহার করতে হবে। এতে প্রশাসনিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে ধারণা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নেওয়া হয়, যা নির্বাচনকালে সমতা বজায় রাখতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখানেই থেমে থাকেনি কমিশনের নির্দেশ। জামিনঅযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত এবং এখনও গ্রেফতার না হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, তাঁদের নিরাপত্তা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর হলে নির্বাচনের আগে অপরাধপ্রবণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা আরও নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কমিশন আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, থানার ওসি (Officer-in-Charge) বা এসএইচও (Station House Officer) -দের মাধ্যমে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। শুধু এলাকা নয়, সেই সব ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে, যাঁরা অতীত নির্বাচনে অপরাধমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। এই তালিকা তৈরি হলে নজরদারি আরও জোরদার করা সহজ হবে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। ভোটের সময় যাতে কোনও প্রকার ভয়ভীতি বা প্রভাব খাটানো না হয়, তা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের একাংশের মতে, ‘নিরাপত্তা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি হবে।’ কিন্তু, এই নির্দেশ ঘিরে কিছু প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে নজর রাখা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না। কেউ কেউ মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, নইলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
রাজ্য পুলিশের একজন আধিকারিকের কথায়, ‘কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, বিভিন্ন জেলার পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই তালিকা তৈরি ও যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ নজর কেড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন থেকে শুরু করে অশান্তিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, সব ক্ষেত্রেই কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এতে করে ভোটের সময় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Amit Shah Kolkata roadshow news, WB Elections 2026 Bhabanipur | ভবানীপুরে ‘বদল’-এর ডাক অমিত শাহর, শুভেন্দুর মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি




