Cooperative crop loan India | ক্ষুদ্র কৃষকদের ভরসা সমবায় ঋণ, কোটি কোটি টাকার সহায়তায় বাড়ছে উৎপাদন, সংসদে তথ্য দিলেন অমিত শাহ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের কৃষি অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে ফসল ঋণ এবং কর্মমূলধন ঋণ বিতরণ ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সমবায় ব্যাঙ্ক ও প্রাইমারি এগ্রিকালচারাল কোঅপারেটিভ সোসাইটি বা ‘প্রাইমারি অ্যাগ্রিকালচারাল কোঅপারেটিভ সোসাইটি (Primary Agricultural Cooperative Societies বা PACS)’ এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিপুল পরিমাণ ঋণ প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই ঋণের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছেছে। এই তথ্য রাজ্যসভায় লিখিত উত্তরে প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায় মন্ত্রী ‘অমিত শাহ (Amit Shah)’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমবায় কাঠামোর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত বেশি।

আরও পড়ুন : Celina Jaitly | রূপকথার আড়ালে ১৫ বছরের দুঃস্বপ্ন! গার্হস্থ্য হিংসা, বিচ্ছেদ ও সন্তানদের জন্য লড়াই, নীরবতা ভাঙলেন সেলিনা জেটলি

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ৯২,৯৬৮টি ফসল ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল, যার মোট পরিমাণ ছিল ১০১১.৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছেছে ৮৫,৬৩২টি ঋণ, যার আর্থিক মূল্য ৯০৮.৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই বছর মোট ঋণের প্রায় ৯২ শতাংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে গিয়েছিল। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঋণ বিতরণ আরও বৃদ্ধি পায়। ওই বছরে মোট ১,০৩,৪৮৮টি ফসল ঋণ বিতরণ করা হয়, যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৮৯.১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৬,৫৮১টি ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া হয়, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১০৯৪.৩১ কোটি টাকা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে মোট ঋণের প্রায় ৯৩ শতাংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ওই বছরে মোট ১,০৫,৭৯৮টি ফসল ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ১৩০৮.৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৭,৭৮৪টি ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছেছে এবং তার আর্থিক পরিমাণ ছিল ১১৯০.৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই বছরেও মোট ঋণের প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮৯,১৯৮টি ফসল ঋণ বিতরণ করা হয়েছে যার আর্থিক পরিমাণ ১১৪৩.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮০,৮৭৯টি ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ১০২৫.৪০ কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে এটি প্রায় ৯১ শতাংশ। এই তথ্য থেকে পরিষ্কার যে সমবায় কাঠামোর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঋণ ব্যবস্থার ফলে কৃষকেরা সহজে চাষের মূলধন সংগ্রহ করতে পারছেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পারছেন। তামিলনাড়ুর ‘গোবিচেট্টিপালায়ম (Gobichettipalayam)’ এবং ‘ভাবানি (Bhavani)’ অঞ্চলে প্রাইমারি এগ্রিকালচারাল কোঅপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই দুই এলাকায় মোট ১৭,১৪৯টি ফসল ঋণ বিতরণ করা হয় যার আর্থিক মূল্য ছিল ১৭৭.৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬,১১৬টি ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া হয়, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১৬৪.৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই বছর মোট ঋণের ৯৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে গেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ঋণ বিতরণ আরও বেড়েছে। ওই বছরে মোট ১৮,৫৮১টি ঋণ দেওয়া হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ২০৪.৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭,৮৩৮টি ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া হয়েছে, যার মূল্য ছিল ১৯৫.৫০ কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে এটি প্রায় ৯৮ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওই দুই এলাকায় মোট ১৮,৬৮৯টি ফসল ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ছিল ২২৩.২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭,৫৪৭টি ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া হয়েছে এবং তার আর্থিক মূল্য ছিল ২০৬.৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এই অঞ্চলে মোট ১৫,১০৮টি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ১৮৬.২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৪,২১১টি ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১৭৪.৪৪ কোটি টাকা।

এছাড়া তামিলনাড়ুর ‘ইরোড জেলা (Erode District)’ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেখানে ৯৯,৮০১ জন কৃষক ৭ শতাংশ সুদের ভর্তুকির সুবিধা পেয়েছেন এবং মোট ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৬৪.৮৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ওই বছরে ঋণ পুনরুদ্ধারের হার ছিল ৯৯.৬২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইরোড জেলায় ১,১৮,৬২৫ জন কৃষক এই সুদ ভর্তুকি সুবিধা পান এবং মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৬.২১ কোটি টাকা। ঋণ পুনরুদ্ধারের হার ছিল ৯৯.৪২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সংখ্যা আরও বেড়ে ১,৩১,৪৬৯ জন কৃষকে পৌঁছায় এবং মোট সুদ ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০২.১৪ কোটি টাকা। ওই বছরেও ঋণ পুনরুদ্ধারের হার ছিল প্রায় ৯৯.৩৭ শতাংশ।

কৃষি অর্থনীতির বিশ্লেষকদরা মনে করছেন, সমবায় ব্যাঙ্ক এবং পিএসিএসের মাধ্যমে ঋণ প্রদান ব্যবস্থার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ‘অমিত শাহ (Amit Shah)’ সংসদে জানান, ‘ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সহজ শর্তে ঋণ পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, এবং সমবায় কাঠামো সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঋণ সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং কৃষকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : TRAI Drive Test Bikaner, NH-911 Mobile Network Quality | বিকানেরে মোবাইল নেটওয়ার্ক মান যাচাইয়ে ট্রাইয়ের ড্রাইভ টেস্ট: এনএইচ-৯১১ ও ভারতমালা করিডরে ডেটা-ভয়েস পারফরম্যান্সে বড় ফারাক

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন