প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar)। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শৃঙ্খলাবদ্ধ রুটিন এবং নিরলস পরিশ্রম এই তিনটি বিষয়ই তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন ভক্তরা। সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে ওঠা, নিয়মিত যোগাভ্যাস করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা এই সব অভ্যাস নিয়ে বহুবার আলোচনায় এসেছে তাঁর নাম। কিন্তু এত কিছু থাকা সত্ত্বেও জীবনে একটি বড় আক্ষেপ থেকে গিয়েছে বলে সম্প্রতি জানালেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অজানা দিক তুলে ধরেন অক্ষয় কুমার। অনুষ্ঠানের এক প্রতিযোগী তাঁকে প্রশ্ন করেন, জীবনে এমন কোনও ইচ্ছা আছে কি যা এখনও পূরণ হয়নি। সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেন, সাফল্য, অর্থ এবং জনপ্রিয়তা পেলেও পরিবারের সঙ্গে যথেষ্ট সময় কাটাতে না পারাই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় আক্ষেপ। অক্ষয় বলেন, ‘জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি। ঈশ্বরের কৃপায় সাফল্য, কাজ, সম্মান সবই রয়েছে। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে যে সময় কাটানো উচিত ছিল, তা সব সময় হয়ে ওঠেনি। বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রায় ১২০ দিন পরিবারের সঙ্গে কাটাই। তবুও মনে হয়, আরও বেশি সময় যদি দিতে পারতাম, তাহলে ভাল লাগত।’
বলিউডে কাজের ক্ষেত্রে অক্ষয় কুমারের ব্যস্ততা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এক সময় তাঁকে ‘খিলাড়ি’ নামেই চিনত দর্শক। আজও তিনি বছরে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। অনেক সময় একই বছরে তিন থেকে চারটি সিনেমা মুক্তি পায় তাঁর। এত ব্যস্ততার মধ্যেই পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু কাজের চাপের কারণে তা সবসময় সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। অক্ষয় কুমারের পারিবারিক জীবনও বেশ আলোচিত। তিনি বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী ও লেখিকা টুইঙ্কল খান্নাকে (Twinkle Khanna)। তাঁদের দুই সন্তান। পুত্র আরাভ কুমার (Aarav Kumar) এবং কন্যা নিতারা কুমার (Nitara Kumar)। মুম্বাইয়ে তাঁদের একটি বিলাসবহুল বাংলো রয়েছে, যেখানে টুইঙ্কল ও কন্যা নিতারার সঙ্গে থাকেন অভিনেতা। তবে তাঁদের বড় ছেলে আরভ বহু বছর ধরেই বিদেশে পড়াশোনা করছে। জানা গিয়েছে, মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই আরভ ভারতের বাইরে রয়েছে। বর্তমানে তিনি লন্ডনে (London) ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ছেলে বিদেশে থাকার কারণে পরিবারের সবাই একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ আরও কমে যায় বলে মনে করেন অক্ষয়। অভিনেতার মতে, সন্তানদের বড় হয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির অনেকটাই তিনি মিস করেছেন। কারণ অধিকাংশ সময় তাঁকে শুটিং বা সিনেমার কাজের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। তিনি বলেন, ‘যখন বাচ্চারা বড় হয়, তখন তাদের জীবনের অনেক ছোট ছোট মুহূর্ত থাকে। সব সময় সেই সময়গুলির পাশে থাকা সম্ভব হয় না। সেটাই হয়ত আমার কাছে একটা আক্ষেপ।’
কিন্তু, কাজের ক্ষেত্রে তাঁর নিষ্ঠা নিয়েও সমান আলোচনা রয়েছে। বলিউডে অনেকেই মজা করে বলেন, অক্ষয় কুমার নাকি অভিনেতার চেয়ে বেশি ‘ব্যবসায়ী মনোভাবের’। কারণ তিনি সব সময় সময়মতো কাজ শেষ করেন, খুব দ্রুত সিনেমার শুটিং সম্পন্ন করেন এবং বছরে অনেকগুলো ছবি করেন। এই কারণে কিছু মানুষ তাঁকে ‘কমার্শিয়াল মাইন্ডেড’ বলেও মন্তব্য করেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে অক্ষয় একাধিকবার বলেছেন, ‘আমি কাজ করতে ভালবাসি। কাজের মধ্যেই আনন্দ পাই। তবে তার মানে এই নয় যে পরিবারের গুরুত্ব কম।’
গত কয়েক বছরে বক্স অফিসে তাঁর ছবিগুলি তেমন বড় সাফল্য পায়নি। একাধিক সিনেমা মুক্তি পেলেও অনেক ছবিই প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারেনি। তবুও কাজের ক্ষেত্রে কোনও বিরতি নেননি তিনি। নতুন নতুন প্রকল্পে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, বক্স অফিসের ওঠানামা যে কোনও অভিনেতার জীবনেই থাকে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং পেশাদারিত্ব অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারকে এখনও শক্তিশালী রেখেছে। তাঁর কর্মনিষ্ঠা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন আজও বহু তরুণ অভিনেতার কাছে অনুপ্রেরণা। ব্যক্তিগত জীবনে অবশ্য তিনি খুবই পারিবারিক মানুষ বলে পরিচিত। অবসর পেলেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালবাসেন। কখনও স্ত্রী টুইঙ্কলের সঙ্গে ছুটি কাটাতে যান, কখনও আবার মেয়ের সঙ্গে সময় কাটান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাঝে মাঝে পরিবারের সঙ্গে তাঁর ছবি বা ভিডিও দেখা যায়। কিন্তু সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও মানুষের জীবনে কিছু অপূর্ণতা থেকেই যায়। অক্ষয় কুমারের কথাতেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা গেল। অর্থ, খ্যাতি, সম্মান এসব কিছু থাকলেও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছাই তাঁর কাছে আজও সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Akshaye Khanna Kangana Ranaut relationship | অক্ষয় খন্নার নীরবতায় থেমে গিয়েছিল কঙ্গনা রানাওয়াতের প্রেমের ইচ্ছে



