Bangladesh government office rule, Tarique Rahman decision | সরকারি অফিসে দেরি নয়: সকাল ৯টা থেকে প্রথম ৪০ মিনিট বাধ্যতামূলক উপস্থিতি, বাংলাদেশে নতুন কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ ঢাকা : বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল নতুন সরকার। সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কাজের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবার আরও কঠোর নিয়ম চালু করল সরকার। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি কর্মচারীকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে এবং প্রথম ৪০ মিনিট অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ পর্যন্ত অফিসে সশরীরে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনও কর্মচারী ব্যক্তিগত বা অন্য কাজে অফিসের বাইরে যেতে পারবেন না। এই নির্দেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার (Government of Bangladesh), যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)।

আরও পড়ুন : MR Bangur Hospital Surgery, 2000 Gallstones Removal | এম আর বাঙুরে নজির: ৭৩ বছরের বৃদ্ধার গলব্লাডার থেকে বেরোল দু

সরকারি সূত্রে খবর, গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division Bangladesh) থেকে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি এবং কাজের সময়সূচি মেনে চলা এখন থেকে আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মচারীরা সকাল ৯টার আগে বা ঠিক সময়েই অফিসে প্রবেশ করবেন এবং প্রথম ৪০ মিনিট অফিসে অবস্থান করবেন। এই সময়ের আগে বা এর মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত কাজ করা বা অফিস থেকে বের হওয়া অনুমোদিত হবে না। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে অনেক সরকারি কর্মচারী অফিসে যাওয়ার পথে ব্যক্তিগত কাজ সেরে নেন। যেমন: ব্যাঙ্কে যাওয়া, হাসপাতালের কাজ করা, সন্তানের স্কুল সংক্রান্ত বিষয় দেখা বা অন্য ব্যক্তিগত কাজ সারার জন্য অফিসের সময় ব্যবহার করা হয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁদের অফিসে পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে অফিসে গিয়ে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের খুঁজে পান না। সেই সমস্যা দূর করতেই এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক সরকারি কর্মচারী বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা বা অতিথি বক্তা হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য অফিসের সময়ের মধ্যেই অন্যত্র চলে যান। ফলে তাঁরা নিজেদের দফতরে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকেন না। সরকার এই প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করতে বলেছে যে এখন থেকে এ ধরনের কর্মসূচিও অফিসের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করতে হবে। অফিসের নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে এই ধরনের কাজ করা যেতে পারে, কিন্তু সকাল ৯টা থেকে অন্তত ৯টা ৪০ পর্যন্ত প্রত্যেক কর্মচারীকে নিজের দফতরে থাকতে হবে। সরকারের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত না থাকলে প্রশাসনিক কাজের গতি ব্যাহত হয়। শুধু সাধারণ নাগরিক নয়, অন্য সরকারি দফতরগুলিও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করতে পারে না। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার জন্যই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় আগের কয়েকটি প্রশাসনিক নির্দেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে জারি হওয়া নির্দেশিকার ধারাবাহিকতায় এই নিয়মকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল, সরকারি কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে প্রবেশ ও প্রস্থান বাধ্যতামূলক। বর্তমান নির্দেশ সেই নিয়মকেই আরও কড়াভাবে কার্যকর করার পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

কিন্তু, এই নতুন নিয়মের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা এবং বিশেষ দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। যেমন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, কারা বিভাগে কর্মরত কর্মচারী, সংবাদমাধ্যম সংক্রান্ত সরকারি সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং শিফটভিত্তিক দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা এই নির্দেশ থেকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ছাড় পাবেন। এছাড়া শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যাঁরা প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও পৃথক সময়সূচী অনুসরণ করা হবে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। গত মাসেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) বা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান (Tarique Rahman) প্রশাসনিক কাঠামোতে বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন নিয়ম মূলত প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো এবং জনসেবাকে দ্রুততর করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই নতুন পদক্ষেপ প্রশাসনিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের একাংশ মনে করছেন, নিয়ম কঠোর হলেও এতে কাজের গতি বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, সময়মতো সবাই অফিসে উপস্থিত থাকলে সমন্বয় বাড়বে এবং নাগরিক পরিষেবাও দ্রুত দেওয়া সম্ভব হবে। যদিও কিছু কর্মচারী ব্যক্তিগত কাজের সময় নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি অফিসে সময়মতো কর্মচারীদের পাওয়া গেলে নাগরিক পরিষেবা অনেক বেশি কার্যকর হবে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসনিক অনুমতি, সরকারি সনদ বা নথি সংক্রান্ত কাজে মানুষের ভোগান্তি কমতে পারে। প্রসঙ্গত বলা যায়, সরকারি কর্মচারীদের জন্য সময়ানুবর্তিতা বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার করার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার (Government of Bangladesh)। আগামী দিনে এই নিয়ম কতটা কার্যকর হয় এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় কী ধরনের পরিবর্তন আনে, তা নিয়ে এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bangladesh Government 180 Day Plan: ১৮০ দিনের নকশা সামনে আনছে বিএনপি, হাসিনা মামলার বিচার নিয়ে প্রতিক্রিয়া তারেক সরকারের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন