সাশ্রয় নিউজ ★ ঢাকা : নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার পরিচালনার রূপরেখা তৈরি করেছে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) -এর নেতৃত্বে নতুন সরকার ইতিমধ্যেই ১৮০ দিনের একটি ‘নকশা’ প্রস্তুত করেছে বলে জানালেন তাঁর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান (Zahed Ur Rahman)। শপথগ্রহণের পরদিনই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সেই পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে চলতে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নতুন আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান (Mohammad Asaduzzaman)।
মঙ্গলবার ঢাকায় তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা শপথ নেন। পরদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারাও। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাহেদ উর রহমান জানান, ‘প্রাথমিক ভাবে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। সেটিকে আরও পরিমার্জন করে খুব শিগগিরই জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।’ তাঁর কথায়, ‘এই পরিকল্পনা থেকে মানুষ বুঝতে পারবে, তাৎক্ষণিক ভাবে সরকার কোন কোন বিষয়ে পদক্ষেপ করতে চলেছে।’
তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন, এই রূপরেখা স্বল্পমেয়াদি। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বা সাংবিধানিক সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ নীলনকশা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ছ’মাসে প্রশাসনিক স্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার হতে পারে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে আসন্ন রমজান মাসের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, সরবরাহব্যবস্থা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্রের খবর। এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পাহাড়প্রমাণ। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে দ্রুত ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’ এই মন্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে (International Crimes Tribunal Bangladesh) ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত যে সব মামলা চলছে, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আইনের নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার কোনওভাবেই বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না।’ পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন, ‘আইনের অপব্যবহার হয়ে থাকলে তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এর আগে মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) -এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে নতুন দিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন তারেক রহমানের সরকার এই বিষয়ে কী কূটনৈতিক অবস্থান নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই সব কিছু হবে।’ তাঁর দাবি, ‘বিএনপি সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি। আমরা নিরন্তর কাজ করে সেই আস্থা রক্ষা করতে চাই।’ এই মন্তব্যে পরিষ্কার, সরকার একদিকে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়, অন্যদিকে আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তাও দিতে চাইছে। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার শপথ নেওয়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মোট ৫০ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় মন্ত্রিসভা গঠন প্রশাসনিক দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার কৌশল হতে পারে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ফলে বিএনপি সরকার আপাতত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং বিচারপ্রক্রিয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি আগামী দিনগুলিতে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
১৮০ দিনের পরিকল্পনা নিয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের ইঙ্গিত, প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতিদমন, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এই নকশার মূল স্তম্ভ হতে পারে। জাহেদ উর রহমানের কথায়, ‘স্বল্প সময়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা আমাদের লক্ষ্য।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, হাসিনা-সংক্রান্ত মামলার ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কার্যক্রমই আগামী দিনের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কীভাবে আইনি প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার।রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মত, বাংলাদেশের নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই প্রশাসনিক নকশা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বার্তা দিয়েছে। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে, সরকার কোন পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
ছবি : সংগৃহীত।
আরও পড়ুন : Khaleda Zia Funeral: Jaishankar Hands Over India’s Condolence to Tarique Rahman | খালেদা জিয়ার শেষযাত্রায় মানুষের ঢল, ঢাকায় তারেক রহমানের হাতে ভারতের শোকবার্তা



