ফাল্গুনে ফের বৃষ্টির ভ্রুকুটি! রবিবার থেকে ভিজবে উত্তর-দক্ষিণবঙ্গ, কতদিন চলবে বৃষ্টি জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: কাগজে-কলমে বসন্ত এলেও আবহাওয়ার আচরণ দেখে তা বোঝার উপায় নেই। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে আবার বৃষ্টির পূর্বাভাস। ফলে ফাল্গুনের আবহ যেন অদ্ভুত দ্বৈত রূপ নিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রবিবার থেকেই শুরু হতে পারে বৃষ্টির পর্ব, যা চলতে পারে অন্তত বুধবার পর্যন্ত। আলিপুর আবহাওয়া দফতর বা (India Meteorological Department) -এর কলকাতা কেন্দ্র (Alipore Meteorological Department) জানাচ্ছে, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ রাজ্যের দুই প্রান্তেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য, ‘রবিবার থেকে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং সোমবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।’ বর্তমানে বসন্তের মাঝামাঝি সময় হলেও তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি বাড়ছে। দিনের বেলায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হলেও রাতের তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের কাছাকাছি রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ‘আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বাড়বে।’

আরও পড়ুন : Man with six pregnant wifes viral video | এক ব্যক্তির ছয় স্ত্রী এবং সকলেই একসঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল আফ্রিকার ‘অদ্ভুত পরিবার’ নিয়ে তুমুল চর্চা

শনিবার থেকেই রাজ্যের আকাশে মেঘ জমতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ওই দিন থেকেই আবহাওয়ার চরিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলবে। রবিবার থেকে শুরু হতে পারে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি, আর সোমবার থেকে সেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াও বইতে পারে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক আবহাওয়াগত কারণ কাজ করছে। আবহাওয়া দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের উপরেও আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুই আবহাওয়াগত ব্যবস্থার প্রভাবেই রাজ্যে আর্দ্রতা বাড়ছে এবং বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

এর পাশাপাশি উত্তর ভারতের আবহাওয়াতেও পরিবর্তন ঘটছে। জম্মু-কাশ্মীর সংলগ্ন অঞ্চলে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ‘শুক্রবারের মধ্যে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করতে পারে।’ এই দুই ব্যবস্থার মিলিত প্রভাবে পূর্ব ভারতে মেঘ সঞ্চার বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারতের আবহাওয়ায় বড় প্রভাব ফেলে। অনেক সময় এর প্রভাবে পূর্ব ভারতের দিকেও মেঘের বিস্তার ঘটে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়। বর্তমানে সেই ধরনের পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের কৃষকদের জন্য এই বৃষ্টি মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে হালকা বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে বসন্তকালীন কিছু ফসলের ক্ষেত্রে। কিন্তু যদি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি বেশি হয়, তাহলে ক্ষতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শহরাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। কলকাতা সহ আশপাশের এলাকায় যানজট, জল জমা এবং দৈনন্দিন জীবনে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে আবহাওয়া দফতরের মতে, খুব ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত কম। মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, ‘বৃষ্টির এই পর্ব অন্তত বুধবার পর্যন্ত চলতে পারে।’ এরপর ধীরে ধীরে আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বসন্তের শেষভাগে আবহাওয়ার এমন ওঠানামা অস্বাভাবিক নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ ফাল্গুন মাসে সাধারণত মনোরম আবহাওয়া থাকে। কিন্তু এ বছর গরম, আর্দ্রতা এবং বৃষ্টির সম্ভাবনায় বসন্তের চরিত্র কিছুটা বদলে গিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ, আগামী কয়েক দিন বাইরে বেরনোর সময় ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা ভাল। বিশেষ করে বজ্রবিদ্যুৎ হলে খোলা জায়গায় না থাকার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : NCERT Class 8 Textbook Banned: PM Modi Raises Tough Questions from Israel | এনসিইআরটি অষ্টম শ্রেণির বই নিষিদ্ধ, ইজরায়েল থেকে কড়া প্রশ্ন নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন