TMC Rajya Sabha, Suvendu Adhikari Statement | রাজ্যসভা প্রার্থী বাছাই নিয়ে মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

SHARE:

রাজ্যসভা প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর। বক্সীদাকে সরিয়ে কৃতজ্ঞতার উপহার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সূচনা করল রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী বাছাই। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, ‘রাজ্যসভায় দু’জনকে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রার্থী করা হয়েছে।’ এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে রাজ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy) রাজীব কুমার (Rajeev Kumar), কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick) এবং বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। এ দিন বিধানসভায় তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেন। একই সঙ্গে বিজেপির তরফে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন বর্ষীয়ান নেতা রাহুল সিনহা (Rahul Sinha)।

আরও পড়ুন : Anubhav Sinha Mamata Banerjee biopic |বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বড়পর্দায় আনতে চান অনুভব! কেন আকর্ষণীয় চরিত্র মমতা?

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজ্যসভায় প্রার্থী নির্বাচন কোনও রাজনৈতিক মানদণ্ডে হয়নি, বরং কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য দু’জনকে পাঠানো হচ্ছে।’ তাঁর অভিযোগ, কিছু সিদ্ধান্তের বিনিময়ে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘সারদা কাণ্ডে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ধ্বংসের ঘটনায় রাজীব কুমারকে পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং আরজি কর সংক্রান্ত মামলায় নির্দিষ্ট কিছু আইনি সহায়তার জন্য মেনকা গুরুস্বামীকে উপহার দেওয়া হয়েছে।’ যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়নি।

এই প্রসঙ্গেই তৃণমূলের প্রবীণ নেতা Subrata Bakshi -র নাম তুলে আবেগঘন মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘সুব্রত বক্সীর মতো নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলের সংগঠন সামলেছেন। যুব কংগ্রেসের সময় থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি। এখনও জেলার সংগঠন দেখেন, চলাফেরা করেন, সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।’ কথার মাঝেই তাঁকে ‘বক্সীদা’ বলে সম্বোধন করেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার দাবি, ‘যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন, তাঁদেরই এখন বাণপ্রস্থে পাঠানো হচ্ছে।’ তাঁর কথায়, ‘সব রাজনৈতিক নেতাকে সরিয়ে দিয়ে নতুন মুখদের জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর মতে, ‘সুব্রত বক্সীর মতো নেতাকে কার্যত বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।’ শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘বক্সীদাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি হয়ত বলবেন তিনি নিজেই প্রার্থী হতে চাননি। কিন্তু বাস্তবে কী ঘটেছে, তা সবাই বুঝতে পারছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজীব কুমারের মতো নতুন মুখদের জায়গা করে দিতে গিয়ে পুরনো নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই নয়, দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দলের সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত Subrata Bakshi। তাঁর নাম রাজ্যসভার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। প্রথমদিকে শোনা গিয়েছিল শারীরিক অসুস্থতার কারণে হয়ত এবার তিনি প্রার্থী হবেন না। পরে আবার রাজনৈতিক মহলে সেই জল্পনা কিছুটা কমে যায়। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁকেই আবার রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে সামাজিক মাধ্যমে চার জন নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলে সেই জল্পনার অবসান ঘটে।

প্রসঙ্গত, Babul Supriyo ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। অন্যদিকে Koel Mallick বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের রাজ্যসভা প্রার্থী করা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা Rajeev Kumar এবং আইনজীবী Menaka Guruswamy -কে প্রার্থী করা নিয়ে বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যসভা নির্বাচন সাধারণত দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। এখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও পাঠানো হয়। তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ ‘নতুন ভাবনা’ বলে ব্যাখ্যা করছেন, আবার বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক কৌশল বলেই দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari -র মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে তিনি যখন প্রকাশ্যে বলেন, ‘যাঁরা দল গড়েছিলেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে’, তখন তা তৃণমূলের সংগঠন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী নির্বাচন এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয় এবং রাজনৈতিক দলগুলি কীভাবে তার জবাব দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Five Lakh People Chant Gita at Kolkata Brigade, Statement by Suvendu Adhikari | ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ: শুভেন্দু অধিকারী বললেন, কলকাতার আকাশ আজ গীতার শ্লোকে মুখরিত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন