সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড রবিবার রূপ নিল এক বিশাল ধর্মীয় সমাবেশে। সনাতন সংস্কৃতি সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহাসিক ৫ লক্ষ কণ্ঠে পবিত্র গীতাপাঠ অনুষ্ঠান। ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ভিড় জমতে থাকে সাধারণ মানুষের। গেরুয়া পতাকা, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ধূপের সুগন্ধ আর ভক্তিময় আবহে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড পরিণত হয় এক বিস্ময়কর আধ্যাত্মিক মিলনস্থলে। এই মহাধর্মীয় আবহের মধ্যেই উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি তাঁর অনুভূতি ভাগ করে নেন। তাঁর কথায়, “আজ গোটা ব্রিগেড ছিল গেরুয়াময়। শঙ্খনাদ, উলুধ্বনী এবং পবিত্র গীতার শ্লোকে কলকাতার আকাশ-বাতাস মুখোরিত হয়ে উঠেছিল। পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠে অংশগ্রহণ করা সত্যিই এক অনন্য অনুভূতি।” শুভেন্দু অধিকারী আরও লেখেন, “শ্রদ্ধাস্পদ প্রাতঃস্মরণীয় সাধুসন্তদের উপস্থিতিতে এই গীতা পাঠ আজ ইতিহাস তৈরি করল। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশ আজ এক বিরাট সমাবেশের সাক্ষী থাকল, আমিও সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পেরে ধন্য।”

সনাতন সংস্কৃতি সংসদের তরফে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে শহরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। বিভিন্ন জেলা থেকেও বাসে, ট্রেনে, ব্যক্তিগত ব্যবস্থায় লোকজন ভিড় করেন ব্রিগেডে। অনেকে হাতে নিয়ে এসেছিলেন গীতা, কেউ আবার নিজেদের দলবল নিয়ে সমবেত কণ্ঠে শ্লোক পাঠের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সকাল থেকেই মঞ্চে উপস্থিত হন বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আশ্রমের সাধুসন্তরা। তাঁদের আশীর্বাদ ও বক্তব্য শোনার জন্য মানুষ যেন এক মুহূর্তের জন্যও বিভোর মনোযোগ হারাননি। এদিন অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল গীতার নির্দিষ্ট অধ্যায় সমবেত কণ্ঠে উচ্চারণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই গোটা ব্রিগেড গর্জে ওঠে শ্লোকপাঠের সুরে। দর্শকদের দাবি, এমন সমবেত শ্লোকপাঠ কলকাতায় আগে দেখা যায়নি। আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে জাতীয় আবেগের মিশ্রণে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টে আরও উঠে আসে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি। তিনি লেখেন, “বিশ্বজুড়ে গীতার অমোঘ বাণী ছড়িয়ে পড়ুক, সনাতনের বাণী ছড়িয়ে পড়ুক। জয় গীতা, জয় সনাতন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিজেপি-সংশ্লিষ্ট মহলে এই অনুষ্ঠানকে ‘ধর্মীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রকাশ’ বলে প্রশংসা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্রিগেডের চারদিকে ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশাল ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল আলাদা প্রবেশ ও নির্গমন পথ। তবুও দুপুরের দিকে ভিড়ের চাপে কিছুক্ষণের জন্য হালকা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেয় প্রশাসন। প্রসঙ্গত, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড একসময় রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য পরিচিত হলেও গত কয়েক বছরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে স্থানটি নতুন কর্মযজ্ঞ দেখছে। বিশেষত এমন বৃহৎ পরিসরের অনুষ্ঠান আধ্যাত্মিক চেতনায় অনুরক্ত সাধারণ মানুষের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন ভক্ত জানান, আজকের অভিজ্ঞতা তাঁদের জীবনে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কেউ বলেন, “একসঙ্গে এতজন গীতাপাঠ করছেন, এটা দেখেই আশীর্বাদের মতো লাগছিল।” আবার কেউ বলেন, “এটা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্মারক।”
অন্যদিকে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সমাবেশ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতের রাজ্য রাজনীতিতে সনাতন ভাবনার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। তবে আয়োজক কমিটির দাবি, এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ ধর্মীয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যহীন। দিনের শেষে, ব্রিগেড ছেড়ে যাওয়ার সময় মানুষের মুখে একটাই অভিব্যক্তি, মহাধর্মীয় আধ্যাত্মিক ঘটনার সাক্ষী থাকার আনন্দ। কলকাতার ইতিহাসে ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ নিঃসন্দেহে জায়গা করে নেবে, এমনটাই মত সাংস্কৃতিক মহলের।
ছবি : সংগৃহীত



