Nitish Kumar resignation | বিহারের রাজনীতিতে বড় মোড়: মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন নীতীশ কুমার, নিজেই জানালেন ‘গোড়া থেকেই ছিল এই বাসনা’

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ পাটনা ৫ মার্চ ২০২৬: বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে করা ওই পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদের দুই কক্ষেই সদস্য হওয়ার ইচ্ছা তাঁর বহুদিনের। নিজের বক্তব্যে নীতীশ লিখেছেন, ‘সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করার পর থেকেই আমার একটি ইচ্ছা ছিল বিহারের দুই কক্ষের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি ভারতের সংসদের দুই কক্ষেও সদস্য হওয়া। সেই কারণেই এবারের নির্বাচনে আমি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে চাইছি।’ তাঁর এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে, কারণ তিনি এতদিন কখনও রাজ্যসভায় যাননি।

আরও পড়ুন : O Panneerselvam joins DMK | তামিলনাড়ু ভোটের আগে বড় চমক! ডিএমকে-তে যোগ দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওপিএস, বদলাচ্ছে সমীকরণ

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও লোকসভা (Lok Sabha), বিহার বিধানসভা (Bihar Legislative Assembly) এবং বিধান পরিষদ (Bihar Legislative Council) এই তিন ক্ষেত্রেই একাধিকবার নির্বাচিত হলেও রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ তাঁর জীবনে আসেনি। সেই অপূর্ণ ইচ্ছাই এবার পূরণ করতে চান বলে তিনি জানিয়েছেন। গত বছরের নভেম্বর মাসেই দশম বারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। মাঝের কয়েকটি সময় বাদ দিলে প্রায় দুই দশক ধরে পাটনার (Patna) ক্ষমতার কেন্দ্রে তিনিই ছিলেন প্রধান মুখ। সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্টে বিহারবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আপনারা আমাকে যে আস্থা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার জোরেই আমি বিহারের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও রাজ্যের উন্নয়নের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা কমবে না। তাঁর কথায়, ‘বিহারের উন্নয়নের জন্য আমার প্রতিশ্রুতি আগের মতোই অটুট থাকবে। নতুন সরকারকে আমি পূর্ণ সমর্থন জানাব এবং আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্কও ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।’ উল্লেখ্য, নীতীশ কুমারের এই ঘোষণার আগেই বৃহস্পতিবার সকালে রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে তিনি রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সূত্র জানায়, তিনি এদিনই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্ন উঠেছে, নীতীশের পর বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নীতীশের পুত্র নিশান্ত কুমারকে (Nishant Kumar) উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। যদিও এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে তিনি খুব শীঘ্রই সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারেন। জেডিইউ-র প্রবীণ নেতা শারওয়ান কুমার (Sharwan Kumar) সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘নিশান্ত খুব শীঘ্রই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।’ যদিও তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব’ বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

রাজনৈতিক মহলের আরেকটি বড় জল্পনা হল, যদি নিশান্ত উপমুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী পদটি যেতে পারে বিজেপির হাতে। সেই ক্ষেত্রে বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরির (Samrat Choudhary) নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। যদি এমনটা হয়, তাহলে এই প্রথম বিহারে বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এদিকে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ মার্চ বিহারের পাঁচটি-সহ দেশের মোট ১০টি রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) -এর পাঁচটি আসনেও ভোট হবে। বিহারের বিধানসভায় সংখ্যার নিরিখে ভারতীয় জনতা পার্টির (Bharatiya Janata Party) রয়েছে ৮৯ জন বিধায়ক এবং জনতা দল ইউনাইটেড (Janata Dal United) -এর রয়েছে ৮৫ জন। এই হিসাব অনুযায়ী চারটি আসনে এনডিএ জোটের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে, দু’টি বিজেপির এবং দু’টি জেডিইউ-র।

কিন্তু পঞ্চম আসনটি নিয়ে লড়াই জমতে পারে। রাজ্যসভায় নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে অন্তত ৪১ জন বিধায়কের প্রথম পছন্দের ভোট পেতে হবে। সেই হিসাব অনুযায়ী এনডিএ-কে অতিরিক্ত তিন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে হবে। অন্যদিকে বিরোধী শিবির যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। কংগ্রেস (Indian National Congress), আরজেডি (Rashtriya Janata Dal) এবং বাম দলগুলির পাশাপাশি আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-এর (Asaduddin Owaisi) দল এআইএমআইএম (AIMIM) এবং মায়াবতীর (Mayawati) বিএসপি (Bahujan Samaj Party) যদি একসঙ্গে কৌশলগত সমর্থন দেয়, তাহলে পঞ্চম আসনটি বিরোধী জোট ইন্ডিয়া-এর (INDIA Alliance) ঝুলিতে যেতে পারে। এদিকে জানা গিয়েছে, নীতীশ কুমারের সঙ্গে একই দিনে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন বিজেপির নেতা নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও রাজনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। উল্লেখ্য, বিহারের রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যের নেতৃত্ব দেওয়ার পর নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যাত্রার নতুন অধ্যায় নয়, বরং বিহারের ক্ষমতার সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nitish Kumar Resignation, Bihar News | বিহারে বড় চমক? মুখ্যমন্ত্রীর পদে নীতীশ কুমারের ইস্তফার জল্পনা, নেতৃত্বে কী এবার বিজেপির মুখ?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন