শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই: বলিউডে সম্পর্ক, জল্পনা আর গসিপ এই তিনের সমীকরণ নতুন কিছু নয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে যে গুঞ্জন সবচেয়ে বেশি শোনা গিয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পরিচালক রামগোপাল বর্মা (Ram Gopal Varma) এবং অভিনেত্রী ঊর্মিলা মাতোন্ডকর (Urmila Matondkar)। ‘রঙ্গীলা’ মুক্তির পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, পর পর ছবিতে ঊর্মিলাকে নায়িকা করার নেপথ্যে কী শুধুই পেশাদারি সম্পর্ক, নাকি ব্যক্তিগত টান? প্রায় ২৮ বছর পর সেই পুরনো বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক নিজেই। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া রঙ্গীলা (Rangeela) ছবিটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলেছিল। ছবিতে ঊর্মিলার অভিনয় ও উপস্থিতি দর্শকের নজর কাড়ে। অনেকেই মনে করেন, এই ছবিই তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘রঙ্গীলা’র সাফল্যের পর রামগোপাল বর্মা তাঁর একাধিক ছবিতে ঊর্মিলাকে সুযোগ দেন। দৌড় (Daud), কৌন (Kaun), সত্যা (Satya) এবং পেয়ার তুনে কেয়া কিয়া (Pyaar Tune Kya Kiya) এই সমস্ত ছবিতে কখনও মুখ্য ভূমিকায়, কখনও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় ঊর্মিলাকে। আর এখান থেকেই শুরু হয় নানা প্রশ্ন।

সেই সময় বলিউডের অন্দরমহলে ঊর্মিলাকে পরিচালকের ‘ব্লু-আইড গার্ল’ বলা হত। অনেকে দাবি করেছিলেন, পরিচালকের ব্যক্তিগত অনুভূতির কারণেই নাকি তিনি বারবার ঊর্মিলাকে কাস্ট করছেন। এমনও শোনা গিয়েছিল, এই সম্পর্কের জেরে পরিচালকের দাম্পত্য জীবনেও অশান্তি তৈরি হয়েছিল। যদিও সেই সময় এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছিলেন রামগোপাল। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে পুরনো প্রসঙ্গ উঠতেই পরিচালক বলেন, ‘যদি সত্যিই কোনও সম্পর্ক থাকত, তা হলে অস্বীকার করার কী ছিল? এত বছর পরে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মানে হয় না। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, এই জল্পনার কোনও ভিত্তি নেই।’ তাঁর কথায়, ‘একজন পরিচালক হিসেবে আমি যাঁকে উপযুক্ত মনে করেছি, তাঁকেই নিয়েছি। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবিনি।’
রামগোপাল আরও জানান, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। ‘২৮ বছর আগের ঘটনা নিয়ে আজ আর কথা বলতে চাই না,’ মন্তব্য তাঁর। কিন্তু তিনি এটুকু মানেন, ঊর্মিলা তাঁর ছবিগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ‘ওর প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। একজন নির্মাতা হিসেবে ভাল অভিনেতাকে বারবার নিতে পারি, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই, বলেন রাম গোপাল। এক সময় শোনা গিয়েছিল, ঊর্মিলার কারণেই নাকি পরিচালকের স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। যদিও রামগোপাল বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কাউকে জড়ানো ঠিক নয়।’ বিচ্ছেদের কারণ তিনি প্রকাশ্যে আনেননি। অন্যদিকে, ঊর্মিলাও কখনও এই বিতর্কে মুখ খোলেননি। বরাবরই নীরব থেকেছেন।
বলিউডে পরিচালক-অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ কাজের সম্পর্ক নতুন নয়। অনেক সময় কোনও অভিনেত্রী বা অভিনেতার সঙ্গে পরিচালকের সৃজনশীল বোঝাপড়া তৈরি হলে তাঁরা একাধিক প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেন। রামগোপাল-ঊর্মিলা জুটিও সেই তালিকায় পড়ে। ‘রঙ্গীলা’র পর তাঁদের সমীকরণ নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, তার বড় অংশই ছিল অনুমাননির্ভর। ঊর্মিলার কেরিয়ারের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির পরিচালনায় রামগোপাল বর্মার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। নব্বইয়ের দশকে বলিউডে থ্রিলার ও অপরাধঘরানার ছবির যে নতুন ধারা তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম কারিগর ঊর্মিলা। সেই ধারার মধ্যেই কখনও গ্ল্যামারাস, কখনও মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রে ঊর্মিলাকে তুলে ধরেন। দর্শকের একাংশের মতে, পরিচালক-অভিনেত্রীর এই পেশাদারি সমীকরণই তাঁদের কাজকে আলাদা মাত্রা দেয়। কিন্তু, জল্পনা যে থামেনি, সেটাও সত্যি। বলিউডে সম্পর্কের গল্প দ্রুত ছড়ায়, আর বছর কুড়ি পরেও তা ফিরে আসে আলোচনায়। রামগোপালের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘আমি সব সময় এই কথা অস্বীকার করেছি, এখনও করছি।’
অন্যদিকে, ঊর্মিলা মাতোন্ডকর পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ধারার কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে মন দিয়েছেন। রাজনীতিতেও সক্রিয় হয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিকের সাফল্য নিয়ে আলোচনা উঠলেই ‘রঙ্গীলা’ এবং রামগোপাল বর্মার নাম সামনে আসে। বলিউডের ইতিহাসে এই চ্যাপ্টার তাই এখনও কৌতূহলের বিষয়। প্রেম না পেশাদারি এই প্রশ্নের উত্তর হয়ত দর্শকের ব্যাখ্যার উপরেই নির্ভর করবে। ২৮ বছর পর পরিচালকের বক্তব্য অন্তত তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Arranged Marriage Tragedy in Karnataka: Husband and Matchmaker Die by Suicide | সম্বন্ধের বিয়ে ভেঙে প্রেমিকের সঙ্গে পালাল কনে, আত্মঘাতী স্বামী ও ঘটক



